0 votes
15 views
in সালাত(Prayer) by (65 points)
১)হানাফি ফিকহ নামক একটি ফেসবুক গ্রুপ আছে। সেখানের এক আলেমের কাছে শুনেছি নামাজে কোনো সুরার তিন আয়াতের বেশি দুইবার উচ্চারণ করলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় তাছাড়া একই আয়াত দুইবার পড়া মাকরুহ কিন্তু সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না।আমার প্রশ্ন হলো এই তিন আয়াত কি শুধু একটি সুরার নাকি দুই সূরা মিলিয়ে।যেমন আমি যদি ফরজ নামাজে সূরা ফাতিহা পড়ার সময় দুই টি আয়াত দুইবার উচ্চারণ করি।আবার অন্য সূরা মিলানোর সময় ১টি আয়াত দুইবার উচ্চারণ করি তাহলে দুইটি সূরা মিলিয়ে ৩তো আয়াত দুইবার পাঠ করা হলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?


২)আপনাদের আগের এক ফতোয়ায় দেখেছি ৩/৪ রাকাত নামাজে প্রথম বৈঠকে তাশাহুদ দুইবার পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে। কেউ যদি তাশাহুদের কিছু অংশ দুইবার পরে তাহলে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?অথবা যদি একটা শব্দ দুইবার উচ্চারণ করে যেমন আসসালামু আলাইনা দুইবার উচ্চারণ করে এতটুকুর জন্যেও কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?


৩)নামাজের কোনো সুন্নাত যেমন সানা পড়া বা দরুদ শরীফ পড়া দুইবার করলে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?


৪) সানা,দরুদ শরীফ,রুকু/সিজদার তাসবিহ এরকম সুন্নত এর সময় যদি উচ্চারণে কোনো তাজবীদ ভুল হয় তবে কি নামাজ ফাসিদ হয়ে যাবে?

৫)কেউ যদি ইচ্ছা করেই নামাজে দরুদ শরীফ ও দোয়া মাসূরা না পরে শুধু তাশাহুদ পরে সালাম ফিরায় তার কি নামাজ শুদ্ধু হবে?কেউ যদি ইচ্ছা করে সানা না পরে তার কি নামাজ হবে?

৬)অজু করার পর যদি মনে পড়ে যে নাকে পানি নেই নাই। তাহলে কি পুনরায় অজু করতে হবে?অযুর সুন্নত ইচ্ছা করে বাদ দিলে অজু হবে?

1 Answer

0 votes
by (254,600 points)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহাম।
জবাবঃ-
(১)
https://www.ifatwa.info/14076 নং ফাতাওয়ায় আমরা বলেছি যে,
সু-প্রিয় পাঠকবর্গ ও প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
একই রা'কাতে কোনো এক সূরা বা কোনো এক আয়াতকে বারংবার তেলাওয়াত করা জায়েয হলেও অনুত্তম(মাকরুহে তানযিহি)। উত্তম হলো,কোনো এক সূরা তেলাওয়াত
করার পর ভিন্ন কোনো সূরা তেলাওয়াত করা, এবং এক আয়াত তেলাওয়াত করার পর পরবর্তী আয়াত তেলাওয়াত করা। সুতরাং জরুরতের ভিত্তিতে এক সূরাকে বারংবার বা একই রা'কাতে কয়েক সূরার অংশকে তেলাওয়াত করা যাবে।এক্ষেত্রে নামায ফাসিদ হবে না।আরো জানতে ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/2123

এ হল হানাফি মাযহাবের সিদ্ধান্ত। তাছাড়া হানাফি মাযহাব ব্যতীত অন্যান্য ফিকহের সিদ্ধান্ত হল, একই রাকাতে এক সূরা বা একই আয়াতকে বারংবার তেলাওয়াত করা যাবে। এতে কোনো অসুবিধে নাই। আপনি ইউটিউবে যে তেলাওয়াত দেখছেন, তা ভিন্ন মাযহাবের অনুসারীদের তেলাওয়াত।

একই আয়াতকে তিনের অধিক পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে বলে আমাদের জানা নেই।

(২)
https://www.ifatwa.info/855 নং ফাতাওয়ায় আমরা বলেছি যে,
প্রথম বৈঠকে তাশাহুদ পড়ার পর দুরুদ শরীফ কতটুকু পড়লে সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে?
এ সম্পর্কে উলামায়ে কেরাম থেকে প্রথমত দুইটি মতামত পাওয়া যায়।

(ক)যতটুকু ক্বেরাত পড়লে নামায সহীহ হয় সেই পরিমাণ দুরুদ শরীফ পড়লে সেজদায়ে সাহু চলে আসবে।(১৮/৩০ অক্ষর)
(খ) এক রুকুন পরিমাণ সময় দেড়ী করে দুরুদ শরীফ পড়লে সেজদায় সাহু চলে আসবে।

এ দুই মতামতের মধ্যে দ্বিতীয় মতটাই গ্রহণযোগ্য।তথা এক রুকুন পরিমাণ দেড়ী হয়ে গেলে সেজদায় সাহু ওয়াজিব হয়ে যাবে।

এক রুকুন এর পরিমাণ নির্ধারণে মতপার্থক্য রয়েছে,এ সম্পর্কে সর্বমোট তিনটি মতামত পাওয়া যায়।
যথাঃ-
(১)
তিনবার সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম।(৪২ অক্ষর)

(২)
আল্লাহুম্মা সাল্লি আ'লা মুহাম্মাদ।(১৮ অক্ষর)

(৩)
আল্লাহুম্মা সাল্লি আ'লা মুহাম্মাদি ওয়া আ'লা আলি মুহাম্মাদ।

সাহাবাইন রাহ থেকে চতুর্থ আরেকটি মতামত পাওয়া যায়,সেটি হল সম্পূর্ণ দুরুদ শরীফ।

গ্রহণযোগ্য মতটা কোনটা?সে সম্পর্কে বলা যায় যে,
وَاخْتَلَفُوا فِي قَدْرِ الزِّيَادَةِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ: يَجِبُ عَلَيْهِ سُجُودُ السَّهْوِ بِقَوْلِهِ: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَا يَجِبُ عَلَيْهِ حَتَّى يَقُولَ: وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ وَالْأَوَّلُ أَصَحُّ
প্রথম বৈঠকে তাশাহুদের পর দুরুদ শরীফ কতটুকু পড়লে সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে?সে সম্পর্কে মতপার্থক্য রয়েছে-কেউ কেউ বলেন,আল্লাহুম্মা সাল্লি আ'লা মুহাম্মাদ পর্যন্ত পড়ে নিলে সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে।আবার কেউ কেউ বলেন,ওয়া আ'লা আ'লি মুহাম্মাদ পর্যন্ত পড়লে সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে।তবে প্রথম কথাই বিশুদ্ধ।
ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/১২৭

সুপ্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই!
আল্লাহুম্মা সাল্লি আ'লা মুহাম্মাদ পর্যন্ত পড়ে নিলে সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়ে যাবে।(কিতাবুল ফাতাওয়া-২/৪৩৮)

(৩)
নামাজের কোনো সুন্নাত যেমন সানা পড়া বা দরুদ শরীফ পড়া দুইবার করলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না।
(৪)
সানা,দরুদ শরীফ,রুকু/সিজদার তাসবিহ এরকম সুন্নত এর সময় যদি উচ্চারণে কোনো তাজবীদ ভুল হয় তবে নামাজ ফাসিদ হবে না।

(৫)
কেউ যদি ইচ্ছা করেই নামাজে দরুদ শরীফ ও দোয়া মাসূরা না পরে শুধু তাশাহুদ পরে সালাম ফিরায়, তাহলে তার নামাজও শুদ্ধু হবে। এবং কেউ যদি ইচ্ছা করে সানা না পরে, তাহলে তার নামাজও শুদ্ধ হবে।হ্যা উত্তমতার খেলাফ হবে।

(৬)
নাকে পানি দেওয়া সুন্নত।তাই নাকে পানি না দিলেও অজু শুদ্ধ হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...