0 votes
71 views
in পবিত্রতা (Purity) by (84 points)
১)নামাজ আমরা আল্লাহর জন্যই পড়ি তবুও কি নামাজের নিয়তের সময় এটা মনে মনে স্মরণ রাখতে হবে যে আল্লাহর নামে নামাজ শুরু করছি/আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নামাজ শুরু করছি?

২)একাকী/জামাতে নামাজ পড়লে অটোমেটিক্যালি মনের মধ্যেই থাকে এই ইমামের পিছে পড়ছি/নিজে নিজে পড়ছি।তবুও কি নামাজের আগে এটা মনে মনে নিয়ত করতে হবে যে একাকী পড়ছি/ইমামতি করছি/এই ইমামের ইক্তেদা করছি?

৩)জুম্মার নামাজের সময় কি নিয়ত করবো জুম্মার দুই রাকাত ফরজ নাকি ওয়াজিব?

৪) অযুতে ধারাবাহিকতা রক্ষা না করলে কি অজু হবে? আমরা জানি গোছল করলে যেহেতু সব অঙ্গ ভিজে তাই অযুও হয়ে যায়।কিন্তু গোসলে তো অযুর ধারাবাহিকতা থাকে না যেমন আগে হাত ধুই পরে মাথা ধুই মাথার পর মুখ ভিজে এক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা না থাকলেও কি অজু হয়ে যাবে?

1 Answer

0 votes
by (469,840 points)


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
(১)
https://www.ifatwa.info/1254 নং ফাতাওয়ায় আমরা বলেছি যে,
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
ﻭَﻣَﺎ ﺃُﻣِﺮُﻭﺍ ﺇِﻟَّﺎ ﻟِﻴَﻌْﺒُﺪُﻭﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣُﺨْﻠِﺼِﻴﻦَ ﻟَﻪُ ﺍﻟﺪِّﻳﻦَ ﺣُﻨَﻔَﺎﺀ ﻭَﻳُﻘِﻴﻤُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﻭَﻳُﺆْﺗُﻮﺍ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓَ ﻭَﺫَﻟِﻚَ ﺩِﻳﻦُ ﺍﻟْﻘَﻴِّﻤَﺔِ
তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে।এটাই সঠিক ধর্ম।

قَالَ النَّبِيُّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -:انما الأعمال بالنيات ،
وَقَالَ النَّبِيُّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: «لَا عَمَل َلِمَنْ لَا نِيَّةَ لَه -
নিয়ত হচ্ছে, অন্তরের বিষয়।অন্তর দিয়ে নিয়ত করতে হয়।শুধুমাত্র মূখে উচ্ছারণ করাকে জরুরী মনে করা বিদআত। তবে অন্তরে যা রয়েছে সেটাকে জবান দ্বারা উচ্ছারণ করা যাবে। এবং অন্তরের ইচ্ছাকে জবান দ্বারা উচ্ছারণ করা সুন্নাত।

وَاعْلَمْ أَنَّ النِّيَّةَ لَا تَتَأَدَّى بِاللِّسَانِ؛ لِأَنَّهَا إرَادَةٌ وَالْإِرَادَةُ عَمَلُ الْقَلْبِ لَا عَمَلُ اللِّسَانِ؛ لِأَنَّ عَمَلَ اللِّسَانِ يُسَمَّى كَلَامًا لَا إرَادَةً إلَّا أَنَّ الذِّكْرَ بِاللِّسَانِ مَعَ عَمَلِ الْقَلْبِ سُنَّةٌ فَالْأَوْلَى أَنْ يَشْغَلَ قَلْبَهُ بِالنِّيَّةِ وَلِسَانَهُ بِالذِّكْرِ
প্রকাশ থাকে যে,নিয়ত জবান দ্বারা আদায় হয় না।কেননা নিয়ত হল, ইরাদা বা ইচ্ছার নাম।আর ইরাদা বা ইচ্ছা অন্তরের বিষয়।সেটা জবানের বিষয় না।কেননা জবান দ্বারা যা উচ্ছারিত হয়,সেটাকে 'কালাম' বলা হয়,ইরাদা বলা হয় না।হ্যা অন্তরের ইচ্ছার সাথে জবান দ্বারা উচ্ছারণ করা সুন্নাত।সুতরাং উত্তম হল,অন্তরে কাজের নিয়ত রাখা এবং সাথে সাথে জবান দ্বারা সেই নিয়তকে উচ্ছারণ করা।(আল জাওহারাতুন-নাইয়্যিরাহ-১/৪৮)

প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
অর্থ সহ আরবী তে মুখস্থ থাকলে ভালো।আরবীতেই বলবেন।তবে অর্থ জানা না থাকলে, মনের কথাকে বাংলাতেই জবান দ্বারা উচ্ছারণ করে নিয়ত করে নিবেন।জাযাকুমুল্লাহ।

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১)
নামায কার বিধান? কার জন্য নামায পড়া হচ্ছে? এটা কোন প্রকারের বিধান?  এগুলো তো মনে মনে থাকতে হবে।সুতরাং "আল্লাহর নামে নামাজ শুরু করছি/আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নামাজ শুরু করছি"

এমনটা বলা উচিৎ।তবে মনে না করলেও নামায ফাসিদ হবে না।বরং নামায পড়ছি, এমনটা নিয়ত করলেও যথেষ্ট হবে।

(২)
একাকি পড়ছেন না জামাতের সাথে পড়ছেন? যখন আপনি নামাযে দাড়াবেন,সেই দাড়ানোর পরিস্থিতিই ঘোষনা করবে যে,আপনি কি করছেন।সুতরাং মুখে বা মনে না নিলেও নামায হয়ে যাবে।

(৩)
জুম্মার দুই রাকাত ফরয পড়ছি।এমনটা নিয়তে রাখতে হবে।

(৪)
অজুতে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা জরুরী নয়।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...