0 votes
20 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (53 points)
আসসালামুআলাইকুম,
নামাজ:

১) কুরআনের যে আয়াতে তিন আলিফ টান আছে সেখানে ভূলে এক আলিফ টানলে নামাজ ফাসিদ হয় কি ?আবার এক আলিফ আছে কিন্তু ভুলে এক আলিফের বেশি টান হয়ে গেছে এমন অবস্থায় নামাজ ফাসিদ হয় কি?

২) লোকজন যাওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন জায়গায় নামাজ পড়ার আগে সুতরা না দিয়ে নিলে গুনাহ হবে? যদিও সে জায়গা ব্যতীত যাতায়াতের অন্যান্য পথ ছিল।

৩) নামাজরত অবস্থায় এক হাত দিয়ে গেন্জির পকেট থেকে চাবি বের করে রাখলে তা কি আমলে কাছীর হবে? উল্লেখ্য যে, এক রুকুনের কম সময় লেগেছিল।

৪)ফজরের নামাজ যদি সূর্যোদয়ের আগে পড়া হয় কিন্তু তাড়াহুড়োর কারনে সুন্নাত পড়া হয়নি। তাহলে নাকি সুন্নাতের কাযা করতে হয় না এমন একটা লিখা পেয়েছি এবং সেখানে ফাতওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ এর রেফারোল্স দেয়া ছিল।তো সে লেখাটা কি সঠিক ছিল?

কান ধোয়া:

কানের ভিতর নাপাকি গেলে কান কীভাবে ধোব?শুধু মাসেহ করে নিলে কি হবে? কারন কানে পানি দিলো তো ক্ষতি হওয়ার আশংকা আছে।

প্রতিযোগিতা বিষয়ক:

অনলাইনে একটা সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে এবং তাতে পুরষ্কার রাখা হয়েছে কিন্তু তারা বলছে যে তারা এ সিরাত পাঠের আয়োজন করেছে পবিত্র মাহে রবিউল আউয়াল মাসের সামনে রেখে রাসুল(সাঃ) এর জীবনী জানার জন্য  এ আয়োজন করেছে।এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া জায়েজ হবে কি?

তাজবীদ বিষয়ক:

আমাদের দেশে তো সাধারণত নুরানী পদ্ধতিতে কুরআন তিলাওয়াত শেখানো হয়।তো আমার প্রশ্ন হলো যে এই পদ্ধতির কোন কোন নিয়ম বাদ দিলেও কুরআন তিলাওয়াত অবিকৃত থাকবে ও সঠিক হবে দেখে দেখে কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে?

1 Answer

0 votes
by (15,000 points)
edited by

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

 নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করা নাজায়েজ তথা গুনাহের কাজ । হাদীসে এ বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। যেমন-

عن أبي هريرة قال قال النبي صلى الله عليه و سلم ( لو يعلم أحدكم ما له في أن يمر بين يدي أخيه معترضا في الصلاة . كان لأن يقيم مائة عام خير له من الخطوة التي خطاها (سنن ابن ماجه، كتاب الصلاة، باب المرور بين يدى المصلى، رقم الحديث-946

অনুবাদ-হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-যে ব্যক্তি কোন নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করে সে যদি জানতো [এর শাস্তি কতটা ভয়াবহ]তাহলে তার কাছে একশত বছর দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম মনে হতো নামাযীর সামনে দিয়ে এ পদক্ষেপের তুলনায়। {সুনানে ইবনে মাজাহহাদীস নং-৯৪৬কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআলহাদীস নং-১৯২৫২}

 

 অন্য হাদীসে এসেছে-

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم– « لَوْ يَعْلَمُ الْمَارُّ بَيْنَ يَدَىِ الْمُصَلِّى مَاذَا عَلَيْهِ لَكَانَ أَنْ يَقِفَ أَرْبَعِينَ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ ». قَالَ أَبُو النَّضْرِ لاَ أَدْرِى قَالَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ شَهْرًا أَوْ سَنَةً (سنن ابى داود، كتاب الصلاة، باب مَا يُنْهَى عَنْهُ مِنَ الْمُرُورِ بَيْنَ يَدَىِ الْمُصَلِّى، رقم الحديث-701)

অনুবাদ-রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী যদি জানত এতে কীরূপ শাস্তি-ভোগের আশংকা রয়েছেতবে চল্লিশ পর্যন্ত ঠায় দাঁড়িয়ে থাকাও ভালো মনে করতো।

হযরত আবুন নাযর বলেন-আমার জানা নেইহাদীসে চল্লিশের কী অর্থচল্লিশ দিনচল্লিশ মাসনাকি চল্লিশ চছর? {সুনানে আবু দাউদহাদীস নং-৭০১, }

 

যদি মসজিদে নামায পড়েআর মসজিদ ছোট হয়তাহলে সামনে দিয়ে অতিক্রম বিলকুল করতে পারবে না। চাই যত দূরত্ব দিয়েই অতিক্রম করুক না কেন। গুনাহ হবেই।

কিন্তু যদি মসজিদে বড় হয়বা ময়দানে নামায পড়েতাহলে নামাযী ব্যক্তি নামাযে দাড়িয়ে সেজদার স্থানের দিকে তাকালে যতদূর পর্যন্ত দেখতে পায়ততটুকু দূরুত্বের বাহির দিয়ে অতিক্রম করবে। আর এর পরিমাণ হল-তিন কাতার সম পরিমাণ। যেটা প্রায় ৪/৫ গজ। আর যদি কোন ষ্টেশনে নামায পড়েতাহলে সেজদার স্থান বাদ দিয়ে সামনে দিয়ে অতিক্রম করা জায়েজ হবে। এতে কোনো রকমের গুনাহ হবেনা {ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া-১১/১৭৮}

 

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

 

১. না, তিন আলিফের জায়গায় এক আলিফ বা এক আলিফের জায়গায় তিন আলিফ টানলে সালাত ফাসিদ হয় না। তবে ইচ্ছা করে এমন পড়া ঠিক নয়।

২. লোকজন যাওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন জায়গায় নামাজ পড়ার আগে সুতরা দিয়ে নেওয়া উত্তম।

৩. না, তা আমলে কাছীর হবে না।
. হ্যাঁ, লেখাটি সঠিক ছিলো। শুধু সুন্নত সালাতের কাযা হয় না।
৫. যদ্দুর সম্ভব কানের অংশ ধৌত করে নিবে। একেবারে কানের ভিতরে ধৌত করা বা পানি দেওয়া লাগবে না।

৬. উক্ত প্রতিযোগিতা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার প্রয়োজন। যদি কোনো ফি গ্রহণ করা ছাড়া পুরস্কার দেয় তাহলে জায়েজ, অন্যথায় নয়।

৭. এটা জানার জন্য আরো বিভিন্ন তাজবীদ পড়ুন।

৪. না, এতে সালাত ভঙ্গ হয়েছিলো না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...