0 votes
30 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (76 points)
edited by
আসসালামুআলাইকুম,

নামাজের মাসায়েলঃ

১)নামাজরত অবস্থায় সিনা যদি কাবলাল থেকে ঘুরে যায় তাহলে তো তা আমলে কাছীর হয়ে যায়।কিন্তু সিনা যদি পুরোপুরি কুবলাই থেকে ঘুরে না যায় বরং সামান্য ডানে বা বামে কাত হয়ে যায় বা ঘুরে যায় মনের অজান্তে তাহলে নামাজ ফাসিদ হয় কি?

২)নামাজের মধ্যে রুকুতে যাওয়ার সময় যদি দুহাত দিয়ে একইসাথে পায়জামা সামান্য উপরে তোলা হয় তাহলে আমলে কাছীর হবে কি? সাধারণত আমি রুকুতে যাওয়ার সময় দুই হাত রানের উপর রেখে রানে ভর করে রুকুতে যাই।ফলে মনের অজান্তেই দুই হাত দিয়ে পায়জামা সামান্য উপরে তুলে ফেলি।এটাকি আমলে কাছীর হবে?

৩)নামাজের মধ্যে যদি নামাজ বহির্ভূত শব্দ উচ্চারিত হয়ে যায় ভুলবশত কিন্তু তাতে যদি আওয়াজ না হয় কেবল জিহ্বা নাড়ানো হয় তাহলে নামাজ ফাসিদ হয় কি?

৪)ফজরের নামাজ কাযা হয়ে গেলে এবং ঘুম ভাংগার পর তা মনে পড়লে কিন্তু দ্রুত তা আদায় না করে আবার এক্টু ঘুমিয়ে নিয়ে তা পরে পড়া জায়েজ কি?আর ক্ষিদা থাকাবস্থায় কি কাযা নামাজ আগে পড়ে নিব নাকি খেয়ে নিব?

রেফার বিষয়কঃ

আমি এক্টা ক্লাউড স্টোরেজ এ্যাপ চালাই যেটা রেফার করলে এবং সেই রেফার দিয়ে অন্যকেউ সেই এ্যাপ ইনস্টল করলে আমি ১ জিবি অতিরিক্ত জায়গা পাই।এভাবে রেফার করে প্রাইজ নেয়া জায়েজ?

হাদিসের ব্যাখ্যাঃ

মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা (দ্বীনের ব্যাপারে) সহজপন্থা অবলম্বন করবে, কঠিন পন্থা অবলম্বন করবে না, মানুষকে সুসংবাদ শোনাবে, বিরক্তি সৃষ্টি করবে না।

এই হাদিসটির ব্যাখ্যা প্রয়োজন।এই হাদিস দিয়ে একজন ব্যক্তি মাযহাবসমূহের ইখতেলাফের বিষয়গুলো থেকে সহজ বিষয়টিকে বেছে নেয়ার প্রবণতা দেখালে তাকে কীভাবে  সঠিক বিষয়টি বুঝাবো?

1 Answer

0 votes
by (20,920 points)
edited by

 

بسم الله الرحمن الرحيم

জবাব,

নামাযে কিবলামুখী হওয়া নামায সহীহ হবার জন্য শর্ত। কিবলামুখী না হলে নামায শুদ্ধই হবে না।

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ    

قَدْ نَرَىٰ تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ ۖ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا ۚ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ ۗ وَإِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ ۗ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ [٢:١٤٤]

নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর। যারা আহলে-কিতাব, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আল্লাহ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে। {বাকারা-১৪৪}

 ফাতাওয়ায়ে আলমগীরীতে আছে 

فى الفتاوى الهندية- ولو ترك تحويل وجهة الى القبلة وهو قادر عليه لا يجزيه (الفتاوى الهندية –كتاب الصلاة ،الباب الخمس العشر فى صلاة المسافر-1/144)

যার সারমর্ম হলো যদি কিবলার দিক হয়ে নামাজ পড়া সম্ভবপর হওয়া সত্ত্বেও কিবলার দিক না হয়,তাহলে নামাজ হবেনা।

* মুআবিয়া ইবনে হাকাম আসসুলামি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নামাজে কোনো ধরনের কথাবার্তা বলার সুযোগ নেই, এ তো হলো তাসবিহ, তাকবির ও কোরআনের তিলাওয়াত।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৩৭)

ইবনে জুরাইজ (রহ.) বলেন, আমি আতা (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আমি যদি নামাজে ভুলে কথা বলে ফেলি (তাহলে এর কী হুকুম হবে?) তিনি বললেন, মুখে উচ্চারণ করে? আমি বললাম, হ্যাঁ, তিনি বললেন, তাতে তোমার নামাজ ফাসেদ হয়ে গেছে। নতুন করে আবার পড়তে হবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৩৫৬৬)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

১.অনিচ্ছাকৃত ভাবে যদি সামান্য একটু ডানে বামে ঘুরে যায় তাহলে নামাজ হয়ে যাবে তবে পরিপূর্ণ ভাবে ক্বেবলা দিক থেকে ঘুরে গেলে নামাজ ফাসেদ হয়ে যাবে।

২.জ্বী না আমলে কাসীর হবে না তবে এমনটি না করাই শ্রেয়।

৩.নামাজের মধ্যে যদি কেউ নামাজের বহির্ভূত কোন বাক্য বা শব্দ উচ্চারণ করে তাহলে তার নামাজ ফাসেদ হয়ে যাবে যদিও বা উচ্চস্বরে আওয়াজ না হয়।

৪.ক্বাযা নামাজ আদায় করার ক্ষেত্রে বিলম্ব না করা। যতদ্রুত সম্ভব ক্বাযা নামাজ আদায় করে নেওয়া এক্ষেত্রে কোন উদাসিনতা প্রদর্শণ করা মোটেও উচিত না।তবে পরে পড়ে নিলেও নামাজ হয়ে যাবে। খুব ক্ষুদা লাগলে আগে খেয়ে নিবে অতপর নামাজ পড়বে ।

৫.পারিশ্রমিক হিসেবে নেওয়া জায়েয আছে তবে তা যেন কোন গুনাহের কাজে ব্যবহার না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

৬. কোন ব্যক্তি মাযহাবসমূহের ইখতেলাফের বিষয়গুলো থেকে সহজ বিষয়টিকে বেছে নেয়ার প্রবণতা থেকে উক্ত হাদীসকে রেফারেন্স হিসেবে পেশ করে তাহলে তা মূলত নেক ছুরতে শয়তানের ধোকার নামান্তর। এসম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: https://ifatwa.info/19198/


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী মুজিবুর রহমান
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...