জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم
(০১)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ-
আয়েশা রাযি. বলেন,
فُرِضَتِ الصَّلَاةُ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ فِي الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ، فَأُقِرَّتْ صَلَاةُ السَّفَرِ، وَزِيدَ فِي صَلَاةِ الْحَضَرِ
মুকিম ও মুসাফির অবস্থায় নামায দু’দু রাক’আত ফরজ করা হয়েছিল। পরে সফরের নামায ঠিক রাখা হল কিন্তু মুকিমের নামাযে বৃদ্ধি করা হল। (বুখারী ১০৪০ মুসলিম ৬৮৫)
শরীয়তের বিধান মতে মুসাফিরের জন্য যোহর আসর ও ইশার ফরয নামায দুই রাকাত পড়া (কসর) ওয়াজিব; চার রাকাত (পূর্ণ পড়া) নাজায়েয,এতে সে গুনাহগার হবে । কারণ মুসাফিরের নামাযের বিধান হল কসর।
তবে যদি ভুলে ৪ রাকাত পড়ে ফেলে তাহলে ২ রাকাত পড়ে যদি বৈঠক করে থাকে তাহলে প্রথম ২ রাকাত ফরয হবে, আর বাকি ২ রাকাত নফল হিসেবে ধর্তব্য হবে। কিন্তু সালাম ফিরাতে দেরী হওয়ায় সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে।
(মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২/৫৪১)
যদি নামাযের শেষে সেজদায়ে সাহু দেয়, তাহলে নামায হয়ে যাবে,(মাকরুহের সহিত)। আর যদি সেজদায়ে সাহু না দেয়, তাহলে নামায পুনরায় পড়তে হবে।
যদি ২ রাকাতের পর বৈঠক না করে থাকে, তাহলে নামায হয় নি, নামাযটি পূণরায় পড়তে হবে।
(মারাকিল ফালাহ ২৩১; শরহুল মুনইয়াহ ৫৩৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৮)
وأما الثالث․․․ فہو تغییر بعض الأحکام فذکر المصنف منہا قصر الصلاة والمراد وجوب قصرہا حتی لو أتمّ فإنہ آثم وعاصٍ؛ لأن الفرض عندنا من ذوات الأربع رکعتان في حقہ لا غیر إلخ (۲/ ۲۲۹، ط: زکریا)
যদি মুসাফির পুরো নামাজ পড়ে,তাহল সে গুনাহগার হবে,,,,,,।
فلو أتمّ وقعد في الثانیة صحّ وإلا فلا أي وإن لم یقعد علی رأس الرکعتین لم یصحّ فرضہ الخ (البحر الرائق، ۲/۲۳۰، ط: زکریا)
যদি কেহ চার রাকাত নামাজই পড়ে নেয়,২য় রাকাতে বৈঠক করে,তাহলে নামাজ ছহীহ হয়ে যাবে।
অন্যথায় নামাজ ছহীহ হবেনা,,,,,।
আরো জানুনঃ-
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত সালাত গুলোর ক্ষেত্রে উক্ত মুসাফির যদি ২য় রাকাত গুলোতে বৈঠক করে থাকে,তাহলে সে গুনাহগার হলেও সেই সালাত গুলির কাজা আদায় করতে হবেনা।
আর যদি উল্লেখিত সালাত গুলোর ক্ষেত্রে উক্ত মুসাফির ২য় রাকাত গুলোতে বৈঠক না করে থাকে,তাহলে সেই সালাত গুলির কাজা আদায় করতে হবে।
(০২)
যেহেতু তারা মেসে এসে ১৫ দিন বা তার চেয়ে বেশি দিন থাকার নিয়ত করেন,তাই তারা মুসাফির নন।
তাই তারা কসর নামাজ আদায় করবেনা।
নিসাব পরিমান সম্পদ না থাকলে তারা যাকাত গ্রহনের উপযুক্ত।
(০৩)
সে যেহেতু ঐ এলাকায় এসে ১৫ দিন বা তার চেয়ে বেশি দিন থাকার নিয়ত করে,তাই সে মুসাফির নয়।
তাই সে কসর নামাজ আদায় করবেনা।
(০৪)
তিনি তার নিজ বাসা হতে ঢাকায় যাওয়ার সময় নিজ গ্রামের/শহরের সীমানা পার হওয়ার পর থেকে কসর করবেন।
ঢাকা হতে বাসায় যাওয়ার সময় তিনি যেই শহরে আছেন,সেই শহরের সীমানা পার হওয়ার পর থেকে কসর করবেন।
(০৫)
শরীয়তের বিধান হলো ওয়াতনে আসলী (স্থায়ী নিবাস) তে এক দিনের জন্য গেলেও পুরো নামাজ পড়তে হবে।
ব্যক্তি নিজের স্থায়ী নিবাসে গেলে কখনো মুসাফির হয়না। স্থায়ী নিবাস বলে এমন স্থানকে-“যেখানে ব্যক্তির বসবাসের জন্য স্থায়ী গৃহ থাকে, স্ত্রী সন্তান নিয়ে যেখানে সর্বদার জন্য থাকার নিবাস হয়”।
ব্যাক্তি ওয়াতনে ইকামত, যেখানে সে ১৫ দিন বা তার চেয়ে বেশি দিন থাকার নিয়ত করেছে,সেখানে গেলেও মুসাফির থাকেননা।
শরীয়তের বিধান হলো কোন স্থানে গিয়ে সেখানে যদি কমপক্ষে পনের দিন থাকার নিয়ত না করে, তাহলেও কসর পড়তে হবে। বেশি দিন থাকার নিয়ত করলে কসর করতে পারবে না।
৭৮ কিলোমিটার হল সফরের দূরত্ব। এর কম নয়। সুতরাং কেউ যদি ৭৮ কিলোমিটার দূরত্বের সফরের নিয়তে বের হয় কেবল সেই ব্যক্তি কসর পড়তে পার। এরচে’কম দূরত্বের সফরের জন্য কসর পড়া জায়েজ নয়।
বিস্তারিত জানুনঃ-