0 votes
31 views
in সালাত(Prayer) by (58 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম
১)  কোন মুসাফির যদি জামাতে শেষ রাকাতে/শেষ রাকাতের তাশাহুদে শরিক হয় তাহলে কি সে কসর নামাজ আদায় করবে নাকি স্বাভাবিক ( অ-মুসাফির) যত রাকাত তত পড়বে ? ( ইমাম মুসাফির না )
২) ধরুন যুহরের ওয়াক্ত ১২ টাই শুরু , আমি ওইদিন ১১ টায় সফরে বের হলাম । সফর দুরুত্ব অতিক্রম করার আগে যদি যুহরের ওয়াক্ত হয়ে যায় তাহলে কসর পড়ব নাকি স্বাভাবিক(৪ রাকাত) পড়ব ?
৩) সফর থেকে ফেরার পথে বাসায় আসার আগ পর্যন্ত আমি মুসাফির নাকি সফর দুরত্তের ভিতরে আসা পর্যন্ত মুসাফির ?
৪) কাযা নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে যদি এমন হয় যে আমি সিরিয়াল ঠিক রাকতে গেলে জামাত মিস হতে পারে তাহলে জামাতে নামাজ পরে তার পর কাজা গুলো আদায় করব নাকি আগে কাজা নামাজ গুলো আদায় করব জামাত মিস দিয়ে?

1 Answer

0 votes
by (145,240 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
তিন দিন বা তার সমপরিমাণ দূরত্বের অধিক সফর করলে কেউ মুসাফির হিসাবে গণ্য হবে।যেমন ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বর্ণিত রয়েছে-
أَقَلُّ مَسَافَةٍ تَتَغَيَّرُ فِيهَا الْأَحْكَامُ مَسِيرَةُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ، كَذَا فِي التَّبْيِينِ، هُوَ الصَّحِيحُ
সর্বনিম্ন দূরত্ব যার দ্বারা শরীয়তের বিধি-বিধানে  পরিবর্তন আসে।(তথা মানুষ মুসাফির হয়)তিন দিনের দূরত্ব।(তাবয়ীন) এটাই বিশুদ্ধ মত।
(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/১৩৮)বিস্তারিত জানুন-https://www.ifatwa.info/1281

তিনদিনের দূরত্বকে ফুকাহায়ে কেরাম ৭৭কিলো সমপরিমাণ নির্ধারণ করেন।তাই বর্তমানে কেউ ৭৭কিলো সমপরিমাণ সফর করলে সে শরয়ী মুসাফির হিসেবে গণ্য হবে।
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/4429


মুসাফিরের নামায কসর/অর্ধেক করে পড়তে হয়।অর্থাৎ চার রা'কাত বিশিষ্ট নামাযে দু রা'কাত পড়তে হবে।দুই রা'কাত বিশিষ্ট নামাযে দুই রা'কাত পড়তে হবে। এবং তিন রা'কাত বিশিষ্ট নামাযে কোনো কসর নেই।

তবে সুন্নাত নামায সমূহে কসরের বিধান প্রযোজ্য নয়,তথা পড়লে সম্পূর্ণই পড়তে হবে।এবং সাধারণত সুন্নাতকে তরক/পরিত্যাগ করা যাবে না।বরং সময় থাকলে সুন্নাত নামায সমূহকে পড়ে নেয়া উচিৎ।সময় সুযোগ না থাকলে অবশ্য সুন্নাত-কে পরিত্যাগ করার রুখসত রয়েছে।(ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ-৭/৫১৭)তবে পড়ে নেয়াটা-ই উত্তম।কেননা বর্ণিত রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাঃ সফরের সময় সুন্নাত পড়েছেন।(তিরমিযি-১/৭২)

لما في الدرالمختار ،ج٢ـ ص:١٣١
(وَيَأْتِي) الْمُسَافِرُ (بِالسُّنَنِ) إنْ كَانَ (فِي حَالَ أَمْنٍ وَقَرَارٍ وَإِلَّا) بِأَنْ كَانَ فِي خَوْفٍ وَفِرَارٍ (لَا) يَأْتِي بِهَا هُوَ الْمُخْتَارُ لِأَنَّهُ تَرْكٌ لِعُذْرٍ تَجْنِيسٌ، قِيلَ إلَّا سُنَّةَ الْفَجْرِ
وفي ردالمحتار تحت(قوله هو المختار) وقيل الأفضل الترك ترخيصا، وقيل الفعل تقربا. وقال الهندواني: الفعل حال النزول والترك حال السير، وقيل يصلي سنة الفجر خاصة، وقيل سنة المغرب أيضا بحر قال في شرح المنية والأعدل ما قاله الهندواني. اهـ.
قلت: والظاهر أن ما في المتن هو هذا وأن المراد بالأمن والقرار النزول وبالخوف والفرار السير لكن قدمنا في فصل القراءة أنه عبر عن الفرار بالعجلة لأنها في السفر تكون غالبا من الخوف تأمل
 
বিতির নামায ওয়াজিব।বিতিরে কসর প্রযোজ্য নয়।এবং পরিত্যাগ করাও যাবে না।বরং সফরের হালতেও বিতির নামাযকে পড়তে হবে।
ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম-৪/৩৩১  বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/737


(১)
কোন মুসাফির যদি মুকিম ইমামের সাথে জামাতের শেষ রাকাতে/শেষ রাকাতের তাশাহুদে শরিক হয় তাহলে সে পূর্ণ নামায় তথা চার রাকতের চার রাকাই আদায় করবে।

(২)
আপনি আপনার শহরের শেষ সীমানা অতিক্রম করার পর কসর শুরু করবেন। রাস্তায় কোনো নদী বা খাল থাকলে নদীর ঐ পার থেকে কসর শুরু করবেন।
অর্থাৎ নিজের শহর বা গ্রামের শেষ সীমানা পার হওয়ার পর আপনি মুসাফির হিসেবে গণ্য হবে। জানুন- https://www.ifatwa.info/1281

(৩)
সফর থেকে ফেরার পথে আপনি মুসাফির । নিজ গ্রাম বা শহরে প্রবেশ করার পূর্ব পর্যন্ত আপনি মুসাফির থাকবেন।

(৪)
আপনি সাহেবে তারতীব হলে জামাতে শরীক হতে পারবেন না বরং প্রথমে কাযা নামায পড়তে হবে।নতুবা কাযা না পড়ে জামাতে শরীক হবেন।জানুন-https://www.ifatwa.info/5512


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...