জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
(০১)
মুসলিম সরকার জনগনের উপকারার্থে যে আইন করে, তা শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে হারাম না হলে তা মানা সে দেশের নাগরিকের জন্য আবশ্যক।
সেই হিসেবে পণ্য আমদানীর উপর সরকারী ট্যাক্স প্রদান করাই উচিত। তা ফাঁকি দিয়ে পন্য আমদানী ঠিক নয়,জায়েজ নয় ।
কিন্তু এ কারণে ব্যবসাকৃত টাকাকে হারাম বলা যাবে না।
যদিও আমদানী করার পদ্ধতিটা শরয়ী সাপোর্ট যোগ্য নয়। কিন্তু এ কারণে পণ্য বিক্রির টাকাকে হারাম বলা যাবে না।
এভাবে কর ও ট্যাক্স ফাকি দিয়ে পণ্য আমদানী করা থেকে বিরত থাকাই কর্তব্য।
এ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ
★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরত ""চোরাই পথে আসা মোবাইল এবং ট্যাক্স সহ আসা মোবাইল এর দোকানে চাকরী করা জায়েজ আছে,এবং এর বেতনও হালাল হবে।
(০২) আল্লাহ তায়ালাকে পেতে কাহারো মাধ্যম লাগে বলার দ্বারা আসলে কি উদ্দেশ্য?
যদি এর দ্বারা হক্কানী পীর মাশায়েখদের কাছে যাওয়া,বাইয়াত নেওয়া ইত্যাদি বুঝায়,তাহলে তা স্পষ্ট আকারে জায়েজ।
এতে নাজায়েজের কিছুই নেই।
প্রবৃত্তির ইসলাহ বা আত্মশুদ্ধির জন্য একজন শায়খ বা মুরব্বির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য, তাই ইসলামি-শরিয়তে নেককার ও ওলামায়ে কেরামের সংসর্গ অবলম্বনের প্রতি জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে অসৎ সঙ্গ বর্জনের জন্যও কঠোরভাবে নির্দেশ করা হয়েছে।
যেমন পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ
‘যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে।’ (সূরা লোকমান ১৫)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللّهَ وَكُونُواْ مَعَ الصَّادِقِينَ
‘হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।’ (সূরা আত তাওবাহ ১১৯)
স্বাভাবিকভাবে ডাক্তারের সাহচর্য ছাড়া যেমন পূর্ণ ডাক্তার হওয়া যায় না, ইঞ্জিনিয়ারের সাহচর্য ছাড়া ভাল ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যায় না, উস্তাদের নির্দেশনা ছাড়া কোন বিষয়ে পূর্ণ বুৎপত্তি অর্জিত হয় না, তেমনি আল্লাহ ওয়ালার সোহবত ও সাহচর্য এবং পরামর্শ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ আল্লাহ ওয়ালা হওয়া যায় না।
আত্মশুদ্ধি সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ
,
আর যদি আল্লাহ তায়ালাকে পেতে কাহারো মাধ্যম লাগে বলার দ্বারা উদ্দেশ্য হিন্দুদের ন্যায় হয়,তাহলে তাহা মারাত্মক।
তার এহেন কথা বলা,আকীদা রাখা কুফরি।
তবে তাকে কাফের বলা ঠিক হবেনা।
কাউকে কাফের বলার ক্ষেত্রে ইসলামের আইন অনেক কঠোর।
কাফের বলার ক্ষেত্রে উসূল
আল্লামা মোল্লা আলী কারী রহঃ শরহে ফিক্বহুল আকবারে বলেন-
ان المسئلة المتعلقة بالكفر اذا كان له تسع وتسعون احتمالا للكفر واحتمال واحد فى نفيه فالاولى للمفتى والقاضى ان يعمل بالاحتمال النافى، لان الخطا فى ابقاء الف كافر اهون من الخطاء فى افناء مسلم واحد، (شرح الفقه الاكبر-199
কুফরী সম্পর্কিত বিষয়ে, যখন কোন বিষয়ে ৯৯ ভাগ সম্ভাবনা থাকে কুফরীর, আর এক ভাগ সম্ভাবনা থাকে, কুফরী না হওয়ার। তাহলে মুফতী ও বিচারকের জন্য উচিত হল কুফরী না হওয়ার উপর আমল করা। কেননা ভুলের কারণে এক হাজার কাফের বেচে থাকার চেয়ে ভুলে একজন মুসলমান ধ্বংস হওয়া জঘন্য। {শরহু ফিক্বহুল আকবার-১৯৯}
★সুতরাং তাকে সম্বোধন করার সময় মুসলিম হিসেবে সালাম জানাতে হবে।
(০৩)
মাতাপিতা সন্তুষ্টি ও অনুমতি নিয়ে সবাইকে অগ্রসর হতে হবে।এবং মাতাপিতার সন্তুষ্টিই দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের উত্তম মাধ্যম।মাতাপিতাকে কষ্ট দিয়ে জীবনে সূখী হওয়া যাবে না।
তাছাড়া বৈধ ও ভালো কাজে মাতাপিতার নির্দেশ মান্য করাও ওয়াজিব।
যদিও মা বাবার মতামতকে উপেক্ষা করে বিবাহ হয়ে যায়,কুফু মিলে গেলে মা বাবারও কিছুই করার থাকেনা।,তারপরেও এভাবে অভিভাবককে না জানিয়ে চুরি করে,অথবা তাদের মতামতকে উপেক্ষা করে বিয়ে করা কখনো উচিৎ নয়।
কেননা মাতাপিতা সব সময় সন্তানের কল্যাণ চায়।তাই মাতাপিতার পরামর্শ ও আদেশ মান্য করাই সবার জন্য কল্যাণকর।
★★প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে যেইভাবেই হোক,সেই সন্তানের জন্য উচিত হলো মা বাবার সন্তুষ্টি অর্জন করে ঘরে আসা।
এই রকম দূরে থেকে মা বাবার সন্তুষ্টি অর্জন, খেদমত ইত্যাদি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
আল্লাহ তাআলা সন্তানকে আদেশ করেছেন সে যেন মা-বাবার সাথে ভাল ব্যবহার করে।
সুরায়ে আনকাবূতে এসেছ (তরজমা) আমি মানুষকে মাতা-পিতার সাথে উত্তম ব্যবহার করার আদেশ করেছি। ২৯ : ৮
অন্য এক আয়াতে এসেছে (তরজমা) ...তোমার পালনকর্তা (দুটি বিষয়ের) আদেশ করেছেন। এক. তোমরা একমাত্র তারই ইবাদত করবে, দুই. মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। ১৭ : ২৩
এ আয়াতে এক আল্লাহর ইবাদত তথা তাওহীদের পরই বাবা-মা’র সাথে সদ্ব্যবহারের আদেশ করা হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ পাকের কাছে বাবা-মা’র সাথে সদ্ব্যবহারের গুরুত্ব কত বেশি।
বাবার সাথে নম্র ব্যবহার করা
আল্লাহ তাআলা বলেন,
...وَ قُلْ لَّهُمَا قَوْلًا كَرِیْمًا... وَ قُلْ رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّیٰنِیْ صَغِیْرًا.
‘...এবং তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বল, ...আর দুআ কর, হে আমার রব! তারা যেভাবে আমার শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন তেমনি আপনিও তাদের প্রতি রহমতের আচরণ করুন। -সূরা ইসরা ১৭ : ২৩-২৪
বাবা-মা’র সাথে কখনো রেগে কথা বলা যাবে না, ধমক দিয়ে কথা বলা যাবে না। তাদের সাথে কথা বলতে হবে নম্রভাবে, কোমল ভাষায়। আর তাদের জন্য দুআ করতে হবে-
رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّیٰنِیْ صَغِیْرًا
,