0 votes
30 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (12 points)
আসসালামু আলাইকুম।
আমি আমার এক বোনের হয়ে প্রশ্নটি করছি। তার বক্তব্য অনুযায়ী,

তিনি আজ থেকে ৫/৭ বছর আগে এক ব্যক্তিকে পছন্দ করতেন এবং বিবাহ করতে ইচ্ছুক ছিলেন। পরবর্তীতে পরিবারকে জানানো হলে পরিবার তার বয়েস কম আর ঐ ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা কম থাকায় তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়।  এর কিছুদিন পর তারা হারাম সম্পর্কের কারণে দুজন যোগাযোগ বন্ধ করে দেন আর ভবিষ্যতে বিয়ের সিন্ধান্তে আসার ক্ষেত্রে মেয়ের বাবা মায়ের সম্মতির জন্যে অপেক্ষা আর দোয়া করতে থাকেন। বর্তমানে মেয়ের পরিবার তার বিয়ের চিন্তা করছে। মেয়েটি পরিবারে জানিয়েছেন যে তিনি পূর্বোক্ত ব্যক্তিকে বিয়ে করতে চান। মেয়ের বাবা মা তাকে নানাভাবে মানসিক চাপে রাখছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার তারতম্যের জন্যে তারা কোনভাবেই রাজী হতে চান না। বরং ক্রমাগত বলছেন হারাম সম্পর্ক ধরে রাখা শিরক, নফসের দাসত্ব। এখন এ সম্পর্কে আগালে তা হারাম হবে চুরির টাকায় হজ্জ করার মত হারাম এসব।
এমতাবস্থায় তিনি জানতে চান, তার নিজস্ব পছন্দ করা ব্যক্তিকে বিয়ে করতে চাওয়া কি আসলেই হারাম বা শিরক হবে? ইসলাম এ ব্যাপারে কি বলে? দুনিয়াবী শিক্ষাগত যোগ্যতা কি কুফুর মধ্যে পরিগণিত হয়? উল্লেখ্য বংশ মর্যাদা এবং দ্বীনদ্বারী সমপর্যায়ের। সর্বোপরি এ অবস্থায় ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের করণীয় কি হতে পার?

1 Answer

0 votes
by (20,400 points)

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

মাতাপিতার বৈধ আদেশ মানাতাদের সাথে উত্তম আচরণ করা শরীয়ত কর্তৃক আবশ্যক ঘোষনা করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا ۖ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا ۖ وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا

আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবং কষ্টসহকারে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছে ত্রিশ মাস।” (সূরা আহকাফ-১৫)

 

আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন,

وَقَضَى رَبُّكَ أَلاَّ تَعْبُدُواْ إِلاَّ إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلاَهُمَا فَلاَ تَقُل لَّهُمَآ أُفٍّ وَلاَ تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلاً كَرِيمًا

তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যেতাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা। (সূরা বনী ইসরাঈল-২৩)

 

সর্বদা পিতা মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা ও তাদের কথা মান্য করা সন্তানের দায়িত্ব৷ আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۚ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا

তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যেতাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা। (সূরা বনী ইসরাঈল২৩)

 

(অভিভাবক ছাড়া বিবাহ সংক্রান্ত জানুনঃ

 https://ifatwa.info/4801/

 

নিজে নিজে বিয়ে সম্পর্কে আরো জানুন- https://ifatwa.info/2730/

 

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

 

. মাতাপিতা সন্তুষ্টি ও অনুমতি নিয়ে সবাইকে অগ্রসর হতে হবে এবং মাতাপিতার সন্তুষ্টিই দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের উত্তম মাধ্যম। মাতাপিতাকে কষ্ট দিয়ে জীবনে সূখী হওয়া যাবে না। তাছাড়া বৈধ ও ভালো কাজে মাতাপিতার নির্দেশ মান্য করাও ওয়াজিব। পিতা মাতা সাধারণত সন্তানদের থেকে ভালো বুঝেন৷ সর্বদা তারা সন্তানদের কল্যাণ চান৷ বিশেষ করে বিয়ে শাদীর বিষয়ে পিতা মাতার মতকেই প্রাধাণ্য দেওয়া উচিত৷ অন্যথায় অনেক সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়৷ এটা বিয়ের আগে বুঝে আসে নাতবে বিয়ের পরে ঠিকই সবাই বুঝে৷ অনেক ছেলে মেয়ে যারা নিজেদের পছন্দের ছেলে মেয়েকে আবেগবশত বিয়ে করে পরবর্তীতে অনেক কষ্টে আছে৷

 

২. এখন উক্ত মেয়ের জন্য করণীয় হলো, পিতা মাতা যেখানে বিয়ে দিতে চায় সেখানে রাজী হয়ে যাওয়া।  এর পরও যদি ঐ ছেলেকেই তার পছন্দ হয়ে থাকে তাহলে যেভাবেই হোক পিতা মাতাকে রাজী করিয়ে নিবে। প্রয়োজনে আত্মীয় স্বজনের হেল্প নিবে। তবুও পিতা মাতাকে অসন্তুষ্ট রেখে বিয়ে করবে না।

. কাউকে পছন্দ করা এটা হারাম বা শিরক নয় তবে কারোর সাথে হারাম সম্পর্ক থাকা, কথা বার্তা বলা, দেখা সাক্ষাত করা নাজায়েজ ও হারাম

. কুফু সম্পর্কে জানুনhttps://ifatwa.info/6646/?show=6646#q6646

https://ifatwa.info/4541/?show=4541#q4541

(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...