0 votes
41 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (5 points)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ !

১/পিতামাতা যদি টুপি পানজাবি পড়ে সালাত আদায়ে বাধা দেয় ?

২/পিতামাতা যদি অতিরিক্ত খেতে জোরাজোরি করে ? বা জুলুম করে ?

৩/ আমাকে নামাজ পড়তে দেখলে আমার বাবার যেন মাথা খারাপ হয়ে যায়  , কখনো একটু বেশি সময় নিয়ে পড়তে দেখলে জংগী বলে আর নিজের মাথায় নিজেই আঘাত করে আর মা এক ওয়াক্ত নামাজ ঠিক মতো পড়ে না , অসুস্থ থাকে বেশির ভাগ সময় , এই জন্য সে তাবিজ , পাতা নামানোর মতো কুফরি জিনিসের আশ্রয় নেয় , আমি নামায পড়তে বললে বলে আমার ব্লিডিং হচ্ছে সবসময় এই একই কথা বলে , অন্যদিকে বাকি কাজে কোনো ছাড় নেই ,, সেটা কথা না ! আমি নামাজে বসলেই সে বলে অধিকাংশ সময় যে , সারাদিন নামাযেই যাবে এর আর রেগে গেলে নামায পড়া , দোয়া ও যিকির করা নিয়া অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে |এমনকি জামাতে যেতে পর্যন্ত দেয় না |এক্ষেত্রে আমার করনীয় ?

 

৪/ তারপর নবিজী তো রাতে এশার পর খেতেন না ,, এনারা জোর করে বলে আমি তোর ভালো চাই বলে অনেক জোরাজুরি করে এশার পর খাওয়ার জন্য ! করণীয় ?

 

৫/ স্কুলে নামায পড়ার ব্যবস্থা নেই , এক্ষেত্রে যোহরের সালাত বিকাল ৩.২০ এর পর পড়া যাবে ? 

 

৬/নবিজি তো বলেছেন , অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতে আর আল্লাহ বলেছেন , ইবাদুর রহমান তারাই যারা মূর্খদের সাথে তর্ক না করে ! (সুরা ফুরকান)এখন কথা হচ্ছে কোন কোন জায়গায় প্রতিবাদ করা যাবে ?

৭/ পিতামাতার জুলুম কোন পর্যায়ে গেলে হিজরত করা যাবে ?

৮/পিতামাতার হেদায়েতের জন্য আল্লাহর কাছে কিভাবে দোয়া করবো ?

৯/ মেসওয়াক করাকে জংগী , উগ্রবাদী কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত করলে কি করনীয় ?

১০/ ফজরের জন্য উঠতে বাধা দিলে করণীয় ?

১১/ পিতামাতা কোনো কিছু কিনে নিয়ে এনে বললো এটা লুকায় রাখো । একা একা খাবা বাহিরের কেউ যেন ভুলেও টের না পায় , সেক্ষেত্রে তা ভক্ষণ করা কি যাবে ?

একটু বিস্তারিত লিখে জানাবেন ! জাজাকাল্লাহ 

1 Answer

0 votes
by (243,280 points)
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 


আল্লাহর বিধি-বিধান দুই প্রকার যথাঃ-(১)ফরয/ওয়াজিব/সুন্নতে মু'আক্কাদা(২)এবং নফল/ মুস্তাহাব।

প্রথম প্রকারকে তরক করলে গোনাহ হবে।সুতরাং প্রথম প্রকারের বিধি-বিধানকে তরক করার জন্য মাতাপিতা সহ কারো আদেশকে মান্য করা যাবে না।কেননা হাদীসে বর্ণিত রয়েছে।

ﻟَﺎ ﻃَﺎﻋَﺔَ ﻟِﻤَﺨْﻠُﻮﻕٍ ﻓِﻲ ﻣَﻌْﺼِﻴَﺔِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ

আল্লাহর অবাধ্যতায় কোনো মাখলুকের অনুসরণ করা যাবে না।(মুসনাদে আহমদ-১০৯৮)

মসজিদে জামাতের সাথে নামায পড়া ওয়াজিব বা সুন্নতে মু'ক্বাদা। সুতরাং কোনো প্রকার ক্ষতির আশংকা ব্যতীত মাতাপিতা যদি তার সুস্থ সবল বালেগ সন্তানকে মসজিদে যেতে বারণ করে, তাহলে এক্ষেত্রে মাতাপিতার আদেশকে মান্য করা যাবে না।ঠিকতেমনিভাবে সন্তান ফরয হজ্বে যেতে চাইলে যদি মাতাপিতা বাধা প্রদান করে তাহলে এক্ষেত্রেও তাদের আদেশকে মানা যাবে না।

ইমাম বোখারী রাহ হাসান বসরী রাহ থেকে বর্ণনা করেন,
" إن منعتْه أمُّه عن العشاء في الجماعة شفقة:لم يطعها "
যদি মা তার সন্তানের কল্যাণ কামনায় তাকে অন্ধকারে এশার জামাতে যেতে বাধা প্রদান করে,তাহলে এক্ষেত্রে মায়ের আদেশকে মানা যাবে না।(সহীহ বোখারী-১/২৩০)

ইমাম আহমদ রাহ কে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো,যার পিতা তাকে মসজিদে গিয়ে নামায পড়তে বারণ করে।ইমাম আহমদ রাহ প্রতিউত্তরে বললেন,
" ليس له طاعته في الفرض "
আল্লাহর ফরয বিধানের উল্টো পিতার আদেশকে মান্য করা যাবে না।(গেযাউল আদাব ফি শরহে মনযুমাতিল আদাব-১/৩৮৫)

বিস্তারিত জানুনঃ  

(০১)
এক্ষেত্রে তাদের আদেশ মানা যাবেনা।
মানলে সুন্নাহ তরক করা হবে।
,
(০২)
এক্ষেত্রে তাদেরকে বুঝাতে হবে।
ভালোভাবে বুঝানোর পরেও কাজ না হলে খেতে পারেন।

(০৩)
আপনি তাদের কথার উচ্চভাক্যে জবাব দিবেননা।
বুঝানোর চেষ্টা করবেন।
তনে এহেন পরিস্থিতিতে নেক আমল থেকে বিরত থাকা বা কমে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
,
(০৪)
খেতে পারেন।
ঈশার পর খাওয়া নিষেধ নয়।

(০৫)
হ্যাঁ  যোহরের সালাত বিকাল ৩.২০ এর পর পড়া যাবে।
,
(০৬)
যেক্ষেত্রে আপনার হাত দিয়ে প্রতিবাদের শক্তি আছে,সেখানে হাত দিয়ে প্রতিহত করতে হবে।
যেখানে যবান দিয়ে প্রতিবাদের শক্তি রয়েছে,সেখানে যবান ব্যবহার করবে।
যদি কোনো শক্তিই না থাকে,তাহলে অন্তর থেকে অন্যায় কাজের প্রতি ঘৃণা পোষন করবে।
,
(০৭)
মহিলা হলে পিতা মাতার আদেশ ছাড়া এভাবে চলে যাওয়ার বিধান নেই।
পুরুষ হলে অসহনীয় পর্যায়ে গেলে কোথাও যেতে পারবে।
তবে এটি আবশ্যকীয় নয়।
,
(০৮)
ইয়া আল্লাহ তাদেরকে আপনি হেদায়াত দান করুন।
এই জাতীয় বাক্য  বলে দোয়া করবে।
,
(০৯)
আপনি মিসওয়াক চালিয়ে যাবেন।
তাদের কথা মানবেননা।
,
(১০)
তাদের কথা মানা যাবেনা,নামাজের জন্য উঠতেই হবে।
,
(১১)
হ্যাঁ ভক্ষন করা যাবে।
এতে নাজায়েজ এর কিছু নেই।  


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...