0 votes
25 views
in কুরবানী (Slaughtering) by (35 points)
১/আসসালামু আলাইকুম।।আমার বাবা নেই।তবে আল্লাহর রহমতে উনি একটা জায়গা রেখে গেছেন আমাদের জন্য যেখানে আমরা ভাড়া দি টাকা পায়।এখন সেই ভাড়ার টাকা জমিয়ে+এই মাসের গ্যাস,ওয়াসা বিল বকেয়া রেখে কুরবানি করতে পারছি।যদিও গ্যাস বিল, ওয়াসা বিল এগুলা দেওয়া যাবে পরে।এখন আমরা একজনের সাথে মিলে কুরবানি করতেছি।যেটার ৭ ভাগ হবে।সেখান থেকে আমরা নিছি ২ ভাগ।যার জন্য ২০হাজার টাকা দিছিলাম।এখন এই ২০ হাজার টাকার মধ্যে আমার বড় বোন নিজ ইচ্ছা থেকেই ১হাজার টাকা দিয়েছে।(আমার বড় বোন কাপড়ের ব্যবসা করে+টিউশন করে)।এখন ওর শরীক হওয়াতে কি কুরবান কি হবেনা।আরেকটা কথা জায়গায় টা আমার মায়ের নামে।বলতে গেলে তিনি ই কুরবান দিচ্ছেন।সেখানে আমার বোনের টাকা দেওয়ার ফলে কি কোনো সমস্যা হবে?

আর সমস্যা হলে, যদি আমার বোন ১০০০টাকা টা আম্মু থেকে নিয়ে ফেলে তাহলে কোরবান হবে?

২/এইখানের ফতোয়া থেকেই জানতে পেরেছিলাম তাশাহুদ বলার সময়ে "আশহাদু আল্লা~ইলাহা " বলার সময় বুড়ো আংগুলের পাশের আংগুল টা উঠাতে হবে।এইটা সুন্নাহ৷ হানাফি মাযহাব অনুযায়ী। এখন আংগুল উঠানোর সময় কি আংগুলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে?আর আংগুল নামানোর সময় কি "ইল্লালাহ" বলব?

৩/আমার তাজবিদ এখনো সহিহ হয়নি।নামায পড়ার সময় যার কারণে হয়তো আমার সহিহ হয়না সূরা পড়া।ধরেন,আমি বললাম"ইহদিনাস সিরাতল মুস্তাকিম"। এখন এইখানে ইহদিনাস এ "স্বদ" বলার সময় আমার যদি লাগে "সিন" এসে গেছে উচ্চারণে তখন আমি আবার রিপিট করি।দেখা যায় আয়াত টা ভাংক্তে হচ্ছে।এছাড়া আমি এখনো এক নিশ্বাসে আয়াত টানাতে অভ্যস্ত হয়নি সম্পূর্ণ। আমি এভাবে আয়াত ভুল হলে আবার রিপিট করে পড়তে পারব নামাযে?এছাড়া এভাবে আয়াত ভাঙা টা কি ভুল হচ্ছে?

৪/তাজবিদ এর রুলস অনুযায়ী সুরা ফাতিহার প্রত্যেক আয়াতে শেষেই তিন আলিফ টানতে হয় এখন আমি যদি এক আলিফ টানি তাহলে গুনাহ হবে?কুরআন পড়ার সময় তো টানতেই হবে তিন আলিফ কিন্তু নামায পড়ার সময় ও কি এসব রুলস ঠিকভাবে ফলো করতে হবে?

1 Answer

0 votes
by (254,600 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
(১)
যেহেতু জায়গা আপনার মায়ের নামে , তাই এ জায়গা থেকে যা ইনকাম হবে, তার সবটুকুর মালিক আপনার মা। আপনার মা কুরবানিতে শরীক হয়েছেন দুই নাম নিয়ে। এখন আপনার বোন উক্ত কুরবানিতে এক হাজার টাকা দিতে চাচ্ছেন, যদি আপনার বোন আপনার মাকে ঐ এক হাজার টাকা হাদিয়া দিতে চান, তাহলে আপনার মা সেই টাকা কে গ্রহণ করতে পারবেন। যদি আপনার মা উক্ত এক হাজার টাকা কে গ্রহণ করে কুরবানিতে লাগাতে চান, তাহলে এটাও জায়েয হবে। তবে আপনার বোন সরাসরি কুরবানিতে শরীক হওয়ার নিয়তে এক হাজার দিতে পারবেন না। কেননা এক কুরবানিতে সাত অংশ তথা জনের বেশী শরীক হওয়া যায় না। 


(২)
মোল্লা আলী কারী রাহ আরো লিখেন,
وَعِنْدَنَا: يَرْفَعُهَا عِنْدَ لَا إِلَهَ، وَيَضَعُهَا عِنْدَ إِلَّا اللَّهُ لِمُنَاسَبَةِ الرَّفْعِ لِلنَّفْيِ، " وَمُلَاءَمَةِ " الْوَضْعِ لِلْإِثْبَاتِ، وَمُطَابَقَةً بَيْنَ الْقَوْلِ وَالْفِعْلِ حَقِيقَةً
হানাফি মাযহাব মতে তাশাহুদের মধ্যে 'আশহাদু আন-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর সময়ে শাহাদত অঙ্গুলি উত্তোলন করা হবে(এবং এটা সুন্নত)।এবং ইল্লাল্লাহ বলার পর অঙ্গুলিকে আস্তে আস্তে আস্তে নামিয়ে ফেলা হবে।যাতেকরে 'না'এর সময় 'হ্যা' হয়।অর্থাৎ যখন লা-ইলাহা (কোনো মা'বুদ নাই)বলা হবে,তখন শাহাদত অঙ্গুলি উত্তোলন করে বুঝানো হবে যে,অবশ্যই  একজন আল্লাহ রয়েছে।এবং যখন ইল্লাহ তে আসা হবে,তখন আর উত্তোলনের প্রয়োজন নেই বিধায় অঙ্গুলিকে নামিয়ে ফেলা হবে।
অতঃপর অঙ্গুলি সমূহের এই হালকাকে নামাযের শেষ পর্যন্ত রাখা হবে।(ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ-৫/৬৩৫)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
সহজ ভাষায় শাহাদত অঙ্গুলি উত্তোলনের পদ্ধতি হল- সর্বকনিষ্ঠ অঙ্গুলি এবং তার পাশের অঙ্গুলি কে হাতের তালুর সাথে মিলিয়ে রাখা হবে।এবং মধ্যম অঙ্গুলি ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা গোল করে হালকা বানাবে।অতপর 'আশহাদু আন-লা-ইলাহা' পড়ার সময়ে অঙ্গুলিকে উত্তোলন করবে।(কেননা আশহাদু আন-লা-ইলাহা এর অর্থ হলো,কোনো মা'বুদ নাই।তাই অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করে বুঝাবে আমার আক্বিদা বিশ্বাসে শুধুমাত্র একজন মা'বুদ রয়েছেন,এবং তিনি হলেন,আমার আল্লাহ) বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/1262

ুসুতরাং
আংগুল উঠানোর সময় আংগুলের দিকে তাকিয়ে থাকানো জরুরী নয়, তবে যেহেুত বৈঠকে দৃষ্টিকে কুলের দিকে রাখা মুস্তাহাব। তাই এমনিতেই আঙ্গুলের দিকে দৃষ্টি নিপতিত থাকবে। আর আংগুল নামানোর সময় "ইল্লালাহ" বলতে হবে। 

(৩)
নামাযের কেরাতে যদি তাজবীদে ভূল হয়,যাকে লাহলে খাফী বলা হয়,তাহলে উক্ত নামাযকে দোহড়ানের প্রয়োজন নেই।তাজবীদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/1126
তবে যদি নামাযে এমন কোনো ভূল হয়,যার কারণে অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়,(এক্ষেত্রে তাজবীদ বিভাগের লাহনে জালী গ্রহণযোগ্য নয়,কেননা তাজবীদের পরিভাষায় এক হরফের স্থলে অন্য হরফ পড়ে নিলেই লাহনে জলী হয়ে যায়,চায় নিকটবর্তী মাখরাজ হোক বা দূরবর্তী মাখরাজ হোক,চায় অর্থ সঠিক থাকুক বা নাই থাকুক)কিন্তু ফুকাহায়ে কেরাম দূরবর্তী মাখরাজের উচ্ছারণের সময়ে এবং অর্থ বিগড়ে যাওয়ার সময়ে নামাযকে ফাসিদ হওয়ার ফাতাওয়া দিয়ে থাকেন।
সুতরাং নামাযে কোনো হরফ উচ্ছারণের সময়ে,সেই হরফের স্থলে তার দূরবর্তী মাখরাজের কোনো হরফ উচ্ছারিত হয়ে গেলে,এবং অর্থ বিগড়ে গেলে নামায ফাসিদ হয়ে যাবে।

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
যদি দেখেন যে, সোয়াদের জায়গায় সীন হয়ে গেছে, এবং আপনি পড়তে চাইলে পড়তে পারবেন, যদি এক্ষেত্রে আয়াতকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়তে হয়, তাহলে প্রয়োজনে ভেঙ্গেও পড়বেন।  এতে কোনো সমস্য হবে না। আপনার নামাযও ফাসিদ হবে না।  

(৪)
সূরা ফাতেহার আয়াতের শেষাংশে মদ্দে আরযী রয়েছে। মদ্দে আর হল, অতিরিক্ত মদ। যা মুস্তাহাব। সুতরাং যদি কেউ মদ্দে আরযি না করে, তাহলে তার নামাযে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। নামায হয়ে যাবে। হ্যা, মদ্দে আরযি আদায় পূর্বক তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...