আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
525 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (17 points)
আমি আমার উদাহরন দিয়ে ই বলছি,ধরুন আমার মা সুস্থ নয়,সে এমন কাজ করেন যাহা মেনে নেয়া যায় নাহ,উদাহরন দিয়ে বলছি যেমন ধরুন আত্তীয় স্ব্জনদের থেকে মিথ্যা বলে টাকা নেয়া,এতে সম্মানের হানি হয় আত্তীয় স্বজনের কাছে।সেক্ষেত্রে,বুঝিয়ে বললে ও কোন কাজ হয় নাহ,উল্টা অভিশাপ দেয় যে, হে আল্লাহ যারা আমাকে কষ্ট দেয় জালায় তাদের ধংস করো,আরো বাজে বাজে অভিশাপ,এবং সে সুস্থ নয়,তার কাছে ক্ষমা চাইলে ও তা সে করে নাহ বা সেই অনুভুতি নেই।সেক্ষেত্রে,সে যে অভিশাপ গুলো তার সন্তানকে দেয় সেগুলো জন্য তার সন্তানের কি করনীয়?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
edited by
জবাব
بسم الله الرحمن الرحيم 


ইসলামে বদ দুয়া করা,কাউকে অভিশাপ দেওয়া জায়েজ নেই।

হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।
 ( তিরমিজি, হাদিস নং: ২৬২৭; আবু দাউদ, হাদিস নং: ২৪৮১)
,
হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন কখনো অভিসম্পাতকারী হয় না। ’ (তিরমিজি, হাদিস নং: ২০৮৮)

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
سَالِمٌ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوْعِ فِي الرَّكْعَةِ الْآخِرَةِ مِنَ الْفَجْرِ يَقُوْلُ : اللهُمَّ الْعَنْ فُلَانًا وَفُلَانًا وَفُلَانًا بَعْدَ مَا يَقُوْلُ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ فَأَنْزَلَ اللهُ {لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ} إِلَى قَوْلِهِ {فَإِنَّهُمْ ظَالِمُوْنَ} رَوَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ رَاشِدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ.
সালিম (রহ.) থেকে বর্ণিত, তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছেন যে, তিনি ফজরের সলাতের শেষ রাকআতে রুকু থেকে মাথা তুলে ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ্ (আল্লাহ তাঁর প্রশংসাকারীর প্রশংসা শোনেন। হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার জন্য সমস্ত প্রশংসা)’, ‘রব্বানা ওয়ালাকাল হামদ’ বলার পর এটা বলতেনঃ হে আল্লাহ! অমুক, অমুক এবং অমুককে লানত করুন। তখন আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَيْءٌ ….. فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ “তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদের শাস্তি দিবেন, এ বিষয়ে তোমার করণীয় কিছুই নেই। কারণ তারা জালিম।”(সূরা আলু ‘ইমরান ৩/১২৮)
[সহিহ বুখারী, অধ্যায়: তাফসীর, অনুচ্ছেদ: আল্লাহর বাণীঃ এই বিষয়ে আপনার করণীয় কিছুই নেই।]
এ হাদিস থেকে জানা গেল, আল্লাহ তাআলা নির্দিষ্টভাবে কোন কাফিরকেও অভিশাপ দেয়ার অনুমতি দেন নি।

আরো জানুনঃ

পিতামাতার জন্য রাগের অবস্থা সন্তানদের বদ দুয়া,অভিশাপ দেওয়া উচিত নয়। 

কারন কোন সময় যে আল্লাহ তায়ালা সেসব বদ দুয়া কবুল করে নিবেন,তাহা কেহই বলতে পারেনা।

এমনও হতে পারে যে পিতা মাতা বুঝে না বুঝে অযথাই সন্তানের জন্য বদ দুয়া করলো, আল্লাহ তায়ালা তা পুরোপুরি ভাবে কবুল করে নিলো,তখন এটা সন্তানের জন্য শাস্তির কারন হয়ে দাড়াবে।
বিষয়টি পিতামাতাকে বুঝানো দরকার।
উভয় পক্ষ থেকেই চেষ্টা করা দরকার,যে এই অবস্থায় যেনো পৌছাতে না হয়।

পিতা মাতা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে এহেন কথা না বলার,আর সন্তান চেষ্টা করবে,এমন কোনো কাজ না করার,যাতে পিতা মাতা কষ্ট পায়।
(কিতাবুল ফাতওয়া ৬/২১৪)
,
★মায়ের অভিশাপ আল্লাহ তায়ালা অনেক সময়েই কবুল করে থাকেন তাই সন্তানের জন্য এমন কাজ না  করা উচিত,যার কারনে পিতা মাতা সন্তানকে অভিশাপ দেয়।
,
★★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে সন্তানদের জন্য করনীয় হলো এমন কথা/কাজের ধারে কাছেও না যাওয়া,যে কথা বললে/কাজ করলে মা অভিশাপ দিবে।
,
ধীরর সুস্থে হিকমত ও প্রজ্ঞার সাথে মায়ের মাথা ঠান্ডা থাকলে বিষয়টি বুঝাতে হবে যে, মায়ের অভিশাপ অনেক কঠিন।
যেকোনো মুহুর্তে আল্লাহ কবুল করতে পারেন,তাই আপনি কোনো ভাবেই আমাকে অভিশাপ দিয়েননা। 
এটি আপনার মাকে ভালোভাবে বুঝাবেন,তাহলেই ইনশাআল্লাহ কাজ হবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (21 points)
edited by
উস্তাদ দোষ না করলেও কি আল্লাহ্ বদ দুআ কবুল করেন ? মা বাবা নাজায়েজ কাজে বাধ্য করলে তা করতে অস্বীকার করলে বদ দুআ দেন। উঠতে বসতে বদ দুআ দেন। মা বাবার পছন্দে বিয়ের পর থেকেই অশান্তি যাচ্ছে। এখানেও মা মেয়েকে ভালো কোনো সাপোর্ট না দিয়ে উল্টো বলেন যে তার বদ দুয়ার কারণে মেয়ের সাথে এতো কিছু হচ্ছে,বদ দুয়ার কারণে জীবনে অশান্তি। আমি ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি মা,বাবা,বোনের নির্যাতনে। মা তো মারধর ও করেন বিবাহিত মেয়ে হওয়া সত্বেও। আমার স্বামীকে যা বলেন তাই করতে হয় তাকে নাহলে অশান্তি করে। আমি ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি।
 ভেবেছিলাম বিয়ের পর তাঁরা বুজবে কিন্তু এখন সবকিছু বেড়ে যাচ্ছে। স্বামীও তাদের মতোই অনেকটা।

উদাহরণ: আমার কাজে ভুল হলেই বদ দুআ,রান্না পছন্দ না হলেই বদ দুআ, কথা না শুনলেই বদ দুআ,আমার বাচ্চাকে ভুল ভাল খাবার খাওয়াবে এটাতে বারণ করলেই বদ দুআ, বেপর্দা হয়ে কাজ করতে বলে না করলে বদ দুআ,বিয়ের সময় মত দেইনি প্রথমে সেখানেও বদ দুআ। আমি নিজের মত কিছুই করতে পারি না। উনি নিজে ভালো থাকতে চায়। আমি যে ওনার মেয়ে আমার ঝামেলা নিতে চায় না। যেকারনে বিয়েও এমন ভাবে দিয়েছে কোনো দেখাশুনা ছাড়াই এবং আমার পছন্দের কোনো গুরুত্ব না দিয়েই। আমার দ্বীন প্রক্টিসিং পরিবারের কারোর পছন্দ না। ওরা শুধু দুনিয়ার সম্মান চায় এতে নিজের সন্তানদের সাথে যা খুশি করতে পারে। আমার সবর হারিয়ে যাচ্ছে দিন দিন। ওদের কথা শুনেই বদ দুআ নিতে হয়। বদ দুআ গুলো কবুলও হচ্ছে। আমার করণীয় কি?
by (770,460 points)
আশা করি আল্লাহ তায়ালা সেই বদ দোয়া কবুল করবেন না।

তবে বাবা-মা যেন বদ দুয়া দেয়া বন্ধ করে দেয়, এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

সতর্ক ভাবে চলবেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...