0 votes
11 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (12 points)
আসসালামু আলাইকুম।
১. কুরআনের যে সকল আয়াতের ওয়াকফের স্থানে লাম আসে, সেই আয়াতগুলো যদি ক্রমাগত অনেকগুলো একাধারে আসতে থাকে, আর সুবিধার জন্য আমি লাম এর স্থলে থেমে থেমে তিলাওয়াত করি, সেভাবেই মুখস্ত করি, এতে কি নিয়ম ভঙ্গ হবে? অনেক ক্বারি তিলাওয়াতের সময় লাম অথবা অন্যান্য স্থানে থেমে নিশ্বাস নেন, এবং আয়াত না মিলিয়েই তিলাওয়াত করেন।

২. ওয়াও+ক্বফ+ফা+তা, এইরূপ যুক্তাক্ষর ওয়াকফের স্থলে নিশ্বাস না ছেড়ে থেমে পরের আয়াত মিলিয়ে তিলাওয়াতের নিয়ম রয়েছে। যদি অনেকগুলো আয়াত এভাবে পরপর থাকে, তবে কি ওয়াকফের স্থলে নিশ্বাস নিয়ে পরপর আয়াত না মিলিয়ে তিলাওয়াত করলে সেটা ভুল হবে? অনেক ক্বারি তিলাওয়াতের সময় এইরূপ স্থানে থেমে নিশ্বাস নেন, এবং আয়াত না মিলিয়েই তিলাওয়াত করেন।

৩.সলাতে বা অন্য সময় তিলাওয়াতের মধ্যে হাই আসলে, নতুন করে আউযুবিল্লাহ পড়ে তিলাওয়াত শুরু করতে হবে? নাকি কিছুই বলা যাবে না? এমনি পড়তে থাকবো?

৪. নিঃশব্দে তিলাওয়াত অথবা ওজিফা করার সময়, সুরা বা দুয়া কালাম পড়ার সময়, সলাতের পর মাসনুন জিকির বা দুয়া পড়ার সময় যদি কেউ না জেনে সালাম দেয়, তখন কি জিকির আজকার থামিয়ে তাতক্ষনিক সালামের জবাব দেওয়া জরুরি? নাকি মুখের আমলের বাকি অংশ শেষ করে তারপর?

৫. এমনিতে হাই উঠলে কি দুয়া পড়তে হয়? কেউ পড়েন আস্তাগফিরুল্লাহ, কেউ বলেন আউযুবিল্লাহ, আবার কেউ কেউ লা হাওলা ওয়া লা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ। কোনটি সুন্নাহ? যেহেতু হাই আসলে শয়তানের থেকে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ রয়েছে.. এখানে কোন দুয়া পড়া উচিত?

৬. তিলাওয়াতের সিজদা দিতে মনে না থাকলে, না দিলে কি গুনাহ হবে?

৭. শুকরানা সিজদা কি যে কোন সময় যে কোন অবস্থায় দেওয়া যায়? নাকি শর্ত রয়েছে? কিবলামুখি হওয়া, শরির পাক হওয়া, উযু থাকা, সতর ঢাকা এসব শর্ত কি জরুরি? কোন কোন কারণে শুকরানা সিজদা দেওয়া জায়েজ?

1 Answer

0 votes
by (170,760 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
https://www.ifatwa.info/2039 নং ফাতওয়ায় আমরা বলেছি যে,
প্রত্যেক প্রকাশনী-ই তাদের প্রকাশকৃত কুরআনের প্রথমেদিকে বা শেষদিকে বিরামচিহ্ন সম্বলিত কিছু নীতিমালা দিয়ে থাকে।সে সব নীতিমালা অনুযায়ী-ই কুরআন তেলাওয়াত করবেন।
এক্ষেত্রে পরামর্শ হল,ছোট আয়াত হলে এক আয়াত এক শ্বাসেই পড়ে নিবেন।লম্বা আয়াত আয়াত হলে সুবিধামত মধ্যখানের কোনো এক চিন্থে বিরাম নিবেন।কোথায় বিরাম নেয়া উত্তম আর কোথায় বিরাম নেয়া অনুত্তম, সেটা ওখানেই পাবেন ইনশাআল্লাহ। জাযাকাল্লাহ।আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

(১+২)
কুরআনের বিরাম চিহ্নগুলো মূলত মুস্তাহাব পর্যায়ের চিহ্ন। সুতরাং এই বিরাম চিহ্নর নিয়মানুসারে কুরআন তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব কোনো কারণে তরক হয়ে গেলে কোনো গোনাহ হবে না। 

(৩) সলাতে বা অন্য সময় তিলাওয়াতের মধ্যে হাই আসলে নতুন করে আউযুবিল্লাহ বলার কোনো প্রয়োজন নাই। হ্যা কথা বললে আউযুবিল্লাহ বলতে হবে। 

(৪) মুখের আমলের বাকি অংশ শেষ করে তাকে সালাম শুনিয়ে দেয়া জরুরী। 


(৫)হাই আসিলে এই দু’আ পড়বে-
لاَحَوْلَ وَلاَقُوَّةَ اِلاّبِاللهِ الْعَلِىِّ الْعَظِيْمِ
উচ্চারণঃ- লা-হাওলা ওয়ালা-কুওয়্যাতা ইল্লা-বিল্লা-হিল্ আলিয়্যিল্ আযীম।

(৬) জ্বী না দিলে গোনাহ হবে। 

(৭)https://www.ifatwa.info/7843 নং ফাতাওয়ায়
আমরা বলেছিলাম।
নামায ব্যতীত সেজদা করা ও সেজদায় দু'আ করা, বাহ্যিক দৃষ্টিতে এতে কোনো সমস্যা মনে হচ্ছে না। তবে নিয়মিত না করাই উত্তম।এবং সুন্নাত মনে না করাই উচিৎ।(এমদাদুল ফাতাওয়া, ১/৬৪০)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...