আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
251 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (3 points)
reshown by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
স্পষ্টতার জন্য ঘটনাটা বিস্তারিত লিখছি। আমি ৬ মাসের গর্ভবতী। এখন বাবার বাড়ি আছি। স্বামী ঢাকা থাকেন, মাঝে মাঝে এখানে আসেন। রমাদান শুরু হওয়ার আগে ৪-৫ দিন উনি এখানেই ছিলেন। আমার ডাক্তার দেখানো ও কিছু টেস্ট করার প্রয়োজন ছিলো। ওনাকে বললে উনি প্রথমে বলেন, "পরে তোমার আম্মুর সাথে যেয়ো।" পরবর্তীতে ঢাকা চলে যাওয়ার আগের দিন রাতে উনি আমাকে ডাক্তার দেখান, কিন্তু ব্লাড টেস্ট করা বাকি থেকে যায়। রোযা শুরু হওয়ার ঠিক আগের দিন ভোরে আমি ৮ ঘন্টা খালি পেটে থাকার পর আম্মুর সাথে নিকটস্থ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাই। সেখানে গিয়ে শুনতে পাই, স্যাম্পল নেওয়ার লোক (পুরুষ) আসতে আরো দেড় ঘণ্টার মতো দেরি হবে। স্যাম্পল নেওয়ার মহিলা আছেন কিনা জিজ্ঞেস করাতে তারা বলে, আজকে তার ডিউটি না-ও থাকতে পারে। থাকলেও বিকেলে পাবেন। কিন্তু আমার প্রয়োজনীয় টেস্টটি (Oral glucose tollerance test) লাস্ট খাবার খাওয়ার ৮-১২ ঘন্টার মধ্যে করাতে হবে। যেটি সাধারণত সারারাত খালি পেটে থেকে সকালে করা হয়। তাই বিকেলে মহিলার কাছে ব্লাড দেওয়ার অপশন ছিলো না। উল্টো রিসিপশনের মহিলা আমাদের বলেন, কেন? পুরুষ মানুষ ব্লাড নিলে কী সমস্যা? আমরা কিছু না বলে অন্য হসপিটালে কল দেই। সেখানে জানায়, এখন তাদের পুরুষ লোক উপস্থিত আছেন। মহিলা আরো কয়েক ঘণ্টা পরে আসবেন। মহিলা যখন আসবেন বলে জানানো হয়, ততক্ষণে আমার ১২ ঘন্টা পার হয়ে যাবে। এটা সত্য, আমি শহরের সকল হসপিটালে কল দেইনি। আমি চিন্তা করি, আমাকে ব্লাড দিতে হবে দুই বার। প্রথম বার খালি পেটে অর্থাৎ লাস্ট খাবারের ৮ ঘন্টা পর থেকে ১২ ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই। দ্বিতীয় বার গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর।এখন ওই হসপিটালে গেলে খালি পেটেরটা পুরুষের কাছে দিলেও দ্বিতীয়টা মহিলার কাছে দিতে পারবো। এই চিন্তা থেকে আমি গর্ভবতী মানুষ খালি পেটে দীর্ঘ পথ হেঁটে (আমার রিক্সা জার্নি নিষেধ) ওই হসপিটালে পৌঁছাই। কষ্ট হয়েছে আমার, তবু গিয়েছি। ব্লাড দেওয়ার সময় আমি লম্বা হাত মোজা পরে ছিলাম। ফলে কনুইয়ের অপর পাশের শিরা, যেখান থেকে রক্ত নেয়, সেখানের কেবল দুই আঙুল চওড়া পরিমাণ স্থান উন্মুক্ত ছিলো। রক্ত নেওয়ার সময় সাধারণত বাহুর উপরের দিকে একটা চিকন পাইপ বাঁধে, যেটা বাঁধার সময় স্পর্শ লাগতে পারে। কিন্তু এখানে তার পরিবর্তে পোষাকের উপরেই একটা বেল্ট বেঁধেছে। কোনো স্পর্শও লাগেনি এবং দুই আঙুলের বেশি উন্মোচিতও হয়নি, আলহামদুলিল্লাহ। দ্বিতীয় বার ব্লাড দেওয়ার সময় শুনতে পাই, মহিলা এখনো আসেননি এবং উনি বিকেলের আগে আসবেন না। তাই দ্বিতীয় বারেও পুরুষের কাছেই একই পদ্ধতিতে ব্লাড দিতে হয়। আমার দুইটা প্রশ্ন। ১. এতে কি আমার পর্দার খিলাফ হয়েছে?

এখন পুরুষ লোকের কাছে ব্লাড স্যাম্পল দিয়েছি শুনে আমার স্বামী দুই দিন যাবত আমার সাথে কথা বন্ধ রেখেছেন এবং আমার উপর অত্যন্ত রাগান্বিত হয়েছেন। তার প্রশ্ন, তখনই কেন আমি তার অনুমতি নিলাম না? উনি সাধারণত ফজর থেকে ১০-১১ টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকেন। তাকে পাওয়া যাবে না, এটা ভেবেই কল দেইনি। আর রোযা রাখতে পারবো কি না, গ্লুকোজ লেভেল স্বাভাবিক আছে কি না জানার জন্য ওইদিনই টেস্ট করিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরী ছিলো। কারণ আমার আগের টেস্টে গ্লুকোজ লেভেল বেশি এসেছিলো। ডাক্তার বসেন বিকেলে, তাই সকালেই টেস্টটা করাতে হবে। পরদিনই রমাদান, রোযা রেখে তো আমি গ্লুকোজ খেতে পারবো না। ইফতারে যদি টেস্ট করাই, তবু না খেয়ে থাকার পরিমাণ ১২ ঘণ্টার বেশি হয়ে যাবে। এক কথায় আমার হাতে অন্য কোনো উপায় ছিলো না। টেস্ট না করিয়ে রোযা রাখলে সন্তানের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারে। এসব বিবেচনা করেই আমি পুরুষের কাছে ব্লাড স্যাম্পল দিয়েছি। অথচ তার আগের ৪-৫ দিন উনি আমার সাথে ছিলেন। সময় থাকার পরও নিজে সাথে থেকে এর মধ্যেই আমার ডাক্তার দেখানো, টেস্ট সম্পন্ন করেননি। আমি একজন অত্যন্ত অনুগত ও নমনীয় স্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এ বিষয়ে উনি আমার একটা ব্যাখ্যামূলক বাক্যও শুনবেন না বলেছেন। শুধুমাত্র এই কারণে উনি আমার সাথে সম্পর্ক রাখবেন নাকি বিচ্ছেদ ঘটাবেন, এটা উনি আমাকে জানাবেন বলেছেন। তার আগে আমি যেন তার সাথে যোগাযোগ না করি। আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, ২. তার এই আচরণটা কি যৌক্তিক? এই কারণটা কি স্ত্রীকে গর্ভাবস্থায় তালাক দেওয়ার উপযুক্ত? তালাক না দিলেও যখন খুশি তালাকের হুমকি দেওয়া যায়? অথচ উনি নিজের ফরজ সালাতের ব্যাপারেই উদাসীন। দীনের ব্যাপারে ওনার গাফিলতি আমি ঠাণ্ডা মাথায় সহ্য করি, দু'আ করি। আনুগত্য ও নমনীয়তার মাধ্যমে ভালোবাসা ও হিকমতের সাথে দাওয়াত দেওয়ার চেষ্টা করি। আমি মানসিক ভাবে খুব কষ্ট পাচ্ছি উস্তাদ। উত্তরের সাথে আমাকে একটু নসিহত দিবেন প্লিজ।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

ইসলামে পর্দা করা ফরজ। 
বিনা প্রয়োজনে কোনো মহিলা গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে চেহারা খুলতে পারবেনা।
,
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ    

قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ [٢٤:٣٠] 

وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ ۖ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَىٰ عَوْرَاتِ النِّسَاءِ ۖ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ ۚ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ [٢٤:٣١] 

মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।

ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। {সূরা নূর-৩০-৩১}

https://ifatwa.info/7711/ ফতোয়াতে উল্লেখ করা হয়েছেঃ  
শরীয়তের মূলনীতি হল, পুরুষ যাবে পুরুষ ডাক্তারের কাছে, মহিলা যাবে মহিলা ডাক্তারের কাছে। যদি পুরুষ ডাক্তার পাওয়া না যায়, তাহলে মহিলা ডাক্তারের চিকিৎসা নিতে পারবে। অনুরূপভাবে মহিলার জন্যও যদি মহিলা ডাক্তার না পাওয়া না যায়, তাহলে পুরুষ ডাক্তারের চিকিৎসা নিতে পারবে। (সারাখসী, আল-মাবসূত ১০/১৫৬ ; কাসানী,বাদাই ৫/১২২)

হযরত আনাস ইবনু মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

كان رسول الله ﷺ يغزو بأم سليم ونسوة من الأنصار معه إذا غزا فيسقين الماء ويداوين الجرحى

রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন অভিযানে বের হতেন তখন তিনি উম্মু সুলাইম রাযি. ও কিছু আনসারী মহিলাকে সাথে নিয়ে যেতেন। তাঁরা পানি পরিবেশন করতেন এবং আহতদের চিকিৎসা করতেন। (মুসলিম ১৮১০)

এ হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববী রহ. বলেন,

وهذه المداواة لمحارمهن وأزواجهن ، وما كان منها لغيرهم لا يكون فيه مس بشرة إلا في موضع الحاجة

এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, যুদ্ধক্ষেত্রের উদ্দেশ্যে মেয়েদের বের হওয়া এবং পানি পরিবেশন ও চিকিৎসা প্রভৃতি কাজে তাদেরকে খাটানো জায়িয। তারা মাহরাম ও স্বামীদের চিকিৎসা ও সেবা করবে। অন্যদেরও সাধারণভাবে স্পর্শ করা ছাড়া চিকিৎসা করতে পারবে; তদুপরি জরুরতের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় স্থান স্পর্শ করতেও কোন অসুবিধা নেই। (নববী, শরহু মুসলিম, পৃ ৫১১)

ইবনু হাজার আসকালানী রহ. বলেন,

فيه جواز معالجة المرأة الأجنبية الرجل الأجنبي للضرورة

এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে মহিলার জন্য বেগানা পুরুষের চিকিৎসা করা জায়িয হবে।  (ইবনে হাজার, ফাতহুল বারী ৬/৮০)

আরো জানুনঃ 
,
বিস্তারিত জানুনঃ  
,
সুতরাং যদি কোনো অভিজ্ঞ মহিলা ডাক্তার, নার্স না পাওয়া যায়,তাহলে পুরুষ ডাক্তারকে দেখানো জায়েজ আছে।
আর যদি এক্ষেত্রে কোনো মহিলা ডাক্তার, নার্স পাওয়া যায়,তাহলে পুরুষ ডাক্তারকে দেখানো জায়েজ নেই।

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, 
প্রশ্নের বিবরন মতে এক্ষেত্রে আপনি যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন মহিলা ডাক্তার বা মহিলা সিস্টার এর সাহায্য নেওয়ার।

পাশাপাশি এক্ষেত্রে বেপর্দা হওয়া হতে বাঁচার জন্য আপনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, এমতাবস্থায় আপনার চেষ্টা দরুন আল্লাহ তায়ালা আপনাকে ক্ষমা করবেন।

এক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিতে আপনার স্বামীর আচরণটা যৌক্তিক নয়। এই কারণটা স্ত্রীকে আপনাকে তালাক দেওয়ার উপযুক্ত নয়।

বিনা কারনে তালাক না দিলেও যখন খুশি তালাকের হুমকি দেওয়াও অপরাধ।

এক্ষেত্রে তালাক দিলে তিনি গুনাহগার হবেন।

এ সংক্রান্ত জানুনঃ-


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...