আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
স্পষ্টতার জন্য ঘটনাটা বিস্তারিত লিখছি। আমি ৬ মাসের গর্ভবতী। এখন বাবার বাড়ি আছি। স্বামী ঢাকা থাকেন, মাঝে মাঝে এখানে আসেন। রমাদান শুরু হওয়ার আগে ৪-৫ দিন উনি এখানেই ছিলেন। আমার ডাক্তার দেখানো ও কিছু টেস্ট করার প্রয়োজন ছিলো। ওনাকে বললে উনি প্রথমে বলেন, "পরে তোমার আম্মুর সাথে যেয়ো।" পরবর্তীতে ঢাকা চলে যাওয়ার আগের দিন রাতে উনি আমাকে ডাক্তার দেখান, কিন্তু ব্লাড টেস্ট করা বাকি থেকে যায়। রোযা শুরু হওয়ার ঠিক আগের দিন ভোরে আমি ৮ ঘন্টা খালি পেটে থাকার পর আম্মুর সাথে নিকটস্থ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাই। সেখানে গিয়ে শুনতে পাই, স্যাম্পল নেওয়ার লোক (পুরুষ) আসতে আরো দেড় ঘণ্টার মতো দেরি হবে। স্যাম্পল নেওয়ার মহিলা আছেন কিনা জিজ্ঞেস করাতে তারা বলে, আজকে তার ডিউটি না-ও থাকতে পারে। থাকলেও বিকেলে পাবেন। কিন্তু আমার প্রয়োজনীয় টেস্টটি (Oral glucose tollerance test) লাস্ট খাবার খাওয়ার ৮-১২ ঘন্টার মধ্যে করাতে হবে। যেটি সাধারণত সারারাত খালি পেটে থেকে সকালে করা হয়। তাই বিকেলে মহিলার কাছে ব্লাড দেওয়ার অপশন ছিলো না। উল্টো রিসিপশনের মহিলা আমাদের বলেন, কেন? পুরুষ মানুষ ব্লাড নিলে কী সমস্যা? আমরা কিছু না বলে অন্য হসপিটালে কল দেই। সেখানে জানায়, এখন তাদের পুরুষ লোক উপস্থিত আছেন। মহিলা আরো কয়েক ঘণ্টা পরে আসবেন। মহিলা যখন আসবেন বলে জানানো হয়, ততক্ষণে আমার ১২ ঘন্টা পার হয়ে যাবে। এটা সত্য, আমি শহরের সকল হসপিটালে কল দেইনি। আমি চিন্তা করি, আমাকে ব্লাড দিতে হবে দুই বার। প্রথম বার খালি পেটে অর্থাৎ লাস্ট খাবারের ৮ ঘন্টা পর থেকে ১২ ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই। দ্বিতীয় বার গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর।এখন ওই হসপিটালে গেলে খালি পেটেরটা পুরুষের কাছে দিলেও দ্বিতীয়টা মহিলার কাছে দিতে পারবো। এই চিন্তা থেকে আমি গর্ভবতী মানুষ খালি পেটে দীর্ঘ পথ হেঁটে (আমার রিক্সা জার্নি নিষেধ) ওই হসপিটালে পৌঁছাই। কষ্ট হয়েছে আমার, তবু গিয়েছি। ব্লাড দেওয়ার সময় আমি লম্বা হাত মোজা পরে ছিলাম। ফলে কনুইয়ের অপর পাশের শিরা, যেখান থেকে রক্ত নেয়, সেখানের কেবল দুই আঙুল চওড়া পরিমাণ স্থান উন্মুক্ত ছিলো। রক্ত নেওয়ার সময় সাধারণত বাহুর উপরের দিকে একটা চিকন পাইপ বাঁধে, যেটা বাঁধার সময় স্পর্শ লাগতে পারে। কিন্তু এখানে তার পরিবর্তে পোষাকের উপরেই একটা বেল্ট বেঁধেছে। কোনো স্পর্শও লাগেনি এবং দুই আঙুলের বেশি উন্মোচিতও হয়নি, আলহামদুলিল্লাহ। দ্বিতীয় বার ব্লাড দেওয়ার সময় শুনতে পাই, মহিলা এখনো আসেননি এবং উনি বিকেলের আগে আসবেন না। তাই দ্বিতীয় বারেও পুরুষের কাছেই একই পদ্ধতিতে ব্লাড দিতে হয়। আমার দুইটা প্রশ্ন। ১. এতে কি আমার পর্দার খিলাফ হয়েছে?
এখন পুরুষ লোকের কাছে ব্লাড স্যাম্পল দিয়েছি শুনে আমার স্বামী দুই দিন যাবত আমার সাথে কথা বন্ধ রেখেছেন এবং আমার উপর অত্যন্ত রাগান্বিত হয়েছেন। তার প্রশ্ন, তখনই কেন আমি তার অনুমতি নিলাম না? উনি সাধারণত ফজর থেকে ১০-১১ টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকেন। তাকে পাওয়া যাবে না, এটা ভেবেই কল দেইনি। আর রোযা রাখতে পারবো কি না, গ্লুকোজ লেভেল স্বাভাবিক আছে কি না জানার জন্য ওইদিনই টেস্ট করিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরী ছিলো। কারণ আমার আগের টেস্টে গ্লুকোজ লেভেল বেশি এসেছিলো। ডাক্তার বসেন বিকেলে, তাই সকালেই টেস্টটা করাতে হবে। পরদিনই রমাদান, রোযা রেখে তো আমি গ্লুকোজ খেতে পারবো না। ইফতারে যদি টেস্ট করাই, তবু না খেয়ে থাকার পরিমাণ ১২ ঘণ্টার বেশি হয়ে যাবে। এক কথায় আমার হাতে অন্য কোনো উপায় ছিলো না। টেস্ট না করিয়ে রোযা রাখলে সন্তানের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারে। এসব বিবেচনা করেই আমি পুরুষের কাছে ব্লাড স্যাম্পল দিয়েছি। অথচ তার আগের ৪-৫ দিন উনি আমার সাথে ছিলেন। সময় থাকার পরও নিজে সাথে থেকে এর মধ্যেই আমার ডাক্তার দেখানো, টেস্ট সম্পন্ন করেননি। আমি একজন অত্যন্ত অনুগত ও নমনীয় স্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এ বিষয়ে উনি আমার একটা ব্যাখ্যামূলক বাক্যও শুনবেন না বলেছেন। শুধুমাত্র এই কারণে উনি আমার সাথে সম্পর্ক রাখবেন নাকি বিচ্ছেদ ঘটাবেন, এটা উনি আমাকে জানাবেন বলেছেন। তার আগে আমি যেন তার সাথে যোগাযোগ না করি। আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, ২. তার এই আচরণটা কি যৌক্তিক? এই কারণটা কি স্ত্রীকে গর্ভাবস্থায় তালাক দেওয়ার উপযুক্ত? তালাক না দিলেও যখন খুশি তালাকের হুমকি দেওয়া যায়? অথচ উনি নিজের ফরজ সালাতের ব্যাপারেই উদাসীন। দীনের ব্যাপারে ওনার গাফিলতি আমি ঠাণ্ডা মাথায় সহ্য করি, দু'আ করি। আনুগত্য ও নমনীয়তার মাধ্যমে ভালোবাসা ও হিকমতের সাথে দাওয়াত দেওয়ার চেষ্টা করি। আমি মানসিক ভাবে খুব কষ্ট পাচ্ছি উস্তাদ। উত্তরের সাথে আমাকে একটু নসিহত দিবেন প্লিজ।