আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
13 views
in সালাত(Prayer) by (4 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ শাইখ।


১) আযানের সময় আমার এখানে সবার প্রথমে অনেক দূরের একটা মসজিদ থেকে আযান শোনা যায়। স্পষ্ট হলে আর সময় থাকলে আমি তখন‌ই দিয়ে ফেলি।এটা কি ঠিক হবে? কাছাকাছি মসজিদের গুলো সব একসাথে আযান দেওয়া শুরু করে। স্পষ্ট বোঝা যায় না তাই।আর আমি মহিলা মানুষ।কোনটা আমার পাড়ার মসজিদের আযান ওটা ঠিক বুঝি না।


২) অনেক সময় দেখা যায় একটা মসজিদের আযানের জবাব দিচ্ছি বেশ ভালোভাবেই শোনা যাচ্ছিলো। মাঝখান দিয়ে হঠাৎ আরেকটা মসজিদ থেকে আরো জোরে আযান দেওয়া শুরু হলো।আমি আগের মসজিদের আযান আর শুনতে পাচ্ছি না।পরে যেটা শুরু হলো আরো জোরে আমি কি ঐ মসজিদের আযানের জবাব হুজুরের সাথে প্রথম থেকে দিতে পারবো আগেরটা বাদ দিয়ে?


৩)আযানের জবাব দেওয়ার সময় জবাব দিতে দিতেই মুয়াজ্জিন অন্য বাক্যে চলে যান। এইসময় আমি আমার জবাব দেওয়া আর মুয়াজ্জিনের পরের বাক্য শোনা দুটো কাজ একসাথে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।এটা ঠিক আছে হুজুর?


৪)আযান এবং ইকামতের মধ্যবর্তী সময় শুনেছি একেক মসজিদে একেক রকম।আমি যে মসজিদের আযানের জবাব দিচ্ছি ওখানে এই মধ্যবর্তী সময় টুকু কত তা তো আমি জানি না।তাই আমি আযানের জবাব দেওয়ার পর থেকে বরাবর ১৫ মিনিট সময় নিই।এই ১৫ মিনিটে প্রথমে আযানের দুআ পড়ি। তারপর দুরুদে ইব্রাহিম পড়ি, তারপর কিছুক্ষণ দুআ করি নিজ ভাষায়।এই পদ্ধতি কি ঠিক আছে?বা সময় কি আরো কম নেওয়া উচিত? মাগরিব বাদে বাকি আযান এবং ইকামতের মধ্যবর্তী সময় ঠিক কতটাুকু ধরবো একটু জানাবেন দয়া করে।দেখা গেল আযান এবং ইকামতের মধ্যবর্তী সময় শেষ কিন্তু আমি দোয়াই করে যাচ্ছি।এতে তো দোয়া কবুল হবে না।

৫) শাইখ আমি শুনেছি এইসময় হাত তুলে দোয়া করা জায়েয না। তাহলে এই সময় কিভাবে দুআ করবো?

1 Answer

0 votes
ago by (720,840 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
হাদীস শরীফে এসেছে-

عن أبي سعيد الخدري أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال ( إذا سمعتم النداء فقولوا مثل نما يقول المؤذن )

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ  যখন তোমরা আজান শোন! তখন তা’ই বল যা মুয়াজ্জিন বলে। তথা আজানের জবাব দাও।
{সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৮৬, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৮৭৪, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং- ৫২২, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২০৮, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৭২০, সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-১৬৩৭, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১৭৮৪}

শরীয়তের বিধান মতে মৌখিক ভাবে আযানের জবাব দেওয়া মুস্তাহাব। 
যে কোনো মসজিদের আযানের জবাব দিলেই মুস্তাহাব আদায় হয়ে যায়। তবে একই জায়গায় একাধিক মসজিদের আযান শুনা গেলে, প্রথম আযানের উত্তর দিবেন। পরবর্তী আযানগুলোর উত্তর দেওয়া লাগবে না। এমনকি সেটা নিজ মহল্লার মসজিদের আযান হলেও তার উত্তর দেওয়া লাগবে না। আর যদি সব কটি আযান এক সঙ্গে শুরু হয় তাহলে নিজ মহল্লার মসজিদের আযানের উত্তর দিবেন।


فی الدر المختار ’’ وسئل ظہیر الدین عمن سمعہ فی آنٍ من جِہَاتٍ ماذا یجب علیہ قال اِجابۃ أذان مسجدہ بالفعل ‘‘ وفی الشامی ’’ قال فی الفتح وہذا لیس مما نحن فیہ اِذ مقصود السائل أیّ مؤذن یجیب باللسان استحبابا أو وجوباً الذی ینبغی اِجابۃ الأول سواء کان مؤذن مسجدہ أوغیرہ فان سمعہم معاً اجاب معتبراًکون اِجابتہ لمؤذن مسجدہ ولو لم یعتبر ذلک جاز وانما فیہ مخالفۃ الأولی ۔ اھ مخلصاً أقول والظاہر أن عدول الامام ظہیر الدین الی ما قال من باب أسلوب الحکیم میلاً منہ الی مذہب الحلوانی ثم رأیت الرحمتی أجاب بذلک ۔ ص ۲۸۰ ج ۱ ۔ فی آخر باب الاذان ۔
﴿شامی کوئٹہ ص ۲۹۴ ج۱ ﴾
যার সারমর্ম হলো প্রথম  আযানের জবাব দিবে।
۔
والذی نبغی إجابۃ الأوّل سواء کان مؤذن مسجدہ أو غیرہ ، فإن سمعہم معًا أجاب معتبرًا کون إجابتہ لمؤذن مسجدہ
(۱) رد المحتار :۲/ ۷۰۔
যার সারমর্ম হলো যদি সে কোনো মসজিদের মুয়াজ্জিনও হয়,সেখানের আগেই যদি অন্যত্রে আযান হয়,তাহলে সেও প্রথম আযানের জবাব দিবে।   

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
আপনি যে প্রথম আযানের জবাব দিচ্ছেন, এটি ঠিক আছে। এটা কোন সমস্যা নেই।

(০২)
আগেরটা যদি আর শোনা না যায়,সেক্ষেত্রে আপনি ঐ মসজিদের আযানের জবাব প্রথম থেকে দিতে পারবেন।

(০৩)
হ্যাঁ, ঠিক আছে।
তবে চেষ্টা করবেন মুয়াজ্জিন সাহেবের পরের বাক্য বলার আগের বাক্যের জবাব দেয়ার। 

(০৪)
আপনি যে ১৫ মিনিট ধরে নিয়ে দরুদ ও দোয়া পাঠ করেন, এটা ঠিক আছে। এতে কোন সমস্যা নেই। আপনার আমল সহীহ। আলহামদুলিল্লাহ

(০৫)
এটি কে গায়রে মুকাল্লিদ আলেমরা বিদআত বলেন। তবে হানাফী মাযহাব মতে এটির বৈধতা আছে।

আবশ্যকীয় মনে না করে হাত তুলে দোয়া করলে সেটা জায়েজ আছে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 2,857 views
0 votes
1 answer 483 views
...