আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
33 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (2 points)
এমন কিছু ব্যাক্তি আছে যারা প্রতিনিয়ত আমাদের তাদের কথা আচরণ দিয়ে আমাদের কষ্ট দেয় এবং প্রতিনিয়ত জুলুম করে, এর জন্য তারা কখনো অনুতপ্ত তো হয়ই না বরং নিজেকে ঠিক বলেই আজীবন অতিবাহিত করে। এই লোকগুলোর আচরণের প্রতিবাদ আমরা করতে পারিনা কারন এতে সমস্যা আরো প্রকট হয়ে যায়, আরো বেশি কষ্ট পেতে হয়। আবার কাউকে কিছু বলতেও পারিনা বললেই গীবত হয়। ক্ষমা মহৎ গুণ, আল্লাহ সুব-হানাহু ওয়া তা'আলা ক্ষমাশীল তিনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন এবং যারা ক্ষমা করে তাদের কেউ তিনি পছন্দ করেন। তাই আমরা ওই সমস্ত ব্যাক্তি কে যদি ক্ষমা করে দেই তাহলে এর মানে কি দ্বারায়? তারা দুনিয়াতে সবার সামনে উত্তম থাকে, নিজের কৃতকর্মের জন্য কখনোই অনুতপ্ত হয়না, আবার তারা ক্ষমা পেয়ে আখীরাতে শাস্তির সম্মুখীন হয় না। তাহলে এই যে সারাটা জীবন একটা মানুষ কে কষ্ট দিলো, মানুষিক ভাবে বিধ্বস্ত করে দিল এবং বাহ্যিক ভাবেও কষ্ট দিলো এর জন্য তাদের কোন শাস্তিই মিলবে না? তারা জানবেও না তারা যে ভুল করেছে কারণ ক্ষমা করে দেয়ার কারনে তো তারা আর তার শাস্তির অথবা প্রশ্নের সম্মুখীন হলো না। ব্যাপারটা কি এমন?

1 Answer

0 votes
by (662,400 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

وَجَزَاءُ سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِّثْلُهَا ۖ فَمَنْ عَفَا وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ

"অপরাধের প্রতিফল সমপরিমাণ শাস্তি; তবে যে ক্ষমা করে দেয় ও সংশোধন করে, তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে।"
(সূরা শূরা 42:40)

সূরা আলে ইমরান 3:134

وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
"যারা রাগ দমন করে, মানুষকে ক্ষমা করে দেয় — আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।"

সূরা নাহল 16:126

وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ بِهِ ۖ وَلَئِن صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌ لِّلصَّابِرِينَ

"তোমরা প্রতিশোধ নিলে, যতটুকু অন্যায় করা হয়েছে ততটুকুই নাও; কিন্তু যদি ধৈর্য ধারণ কর, তা অবশ্যই ধৈর্যশীলদের জন্য উত্তম।"

সূরা ফুরকান 25:63

وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا
"আর যখন মূর্খরা তাদের সাথে কথা বলে, তারা বলে — শান্তি।"

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 
সহীহ মুসলিম (হাদীস 2588)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"দান করার ফলে সম্পদ কমে না। আল্লাহ তাঁর বান্দার জন্য ক্ষমা করলে তিনি তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। আর যে আল্লাহর জন্য বিনয় প্রকাশ করে, আল্লাহ তাকে মর্যাদাশীল করেন।"

তিরমিযী (হাদীস 2029, হাসান)
"যে ব্যক্তি অন্যায়ের শিকার হয়ে ক্ষমা করে দেয়, আল্লাহ তাকে মর্যাদা ও সম্মান দান করেন।"

বুখারী ও মুসলিম
নবী ﷺ মক্কা বিজয়ের দিন কুরাইশদের উদ্দেশে বলেছিলেন:
"আজ তোমাদের জন্য কোনো ভর্ৎসনা নেই; যাও, তোমরা মুক্ত।"
— এখানে নবী ﷺ এমন এক জাতিকে ক্ষমা করেছিলেন যারা তাকে ও তার সাহাবাদের ওপর দীর্ঘদিন জুলুম করেছিল।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
যদি কোনো ব্যক্তি অন্যায় করে এবং ভুক্তভোগী তাকে ব্যক্তিগত ক্ষতির জন্য ক্ষমা করে দেয়, তাহলে মানুষের অধিকার (হক্কুল ইবাদ) হিসেবে সেই দাবি মাফ হয়ে যায়।

কিন্তু যদি বিষয়টি আইন ও সমাজের অধিকার (যেমন হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি, রাষ্ট্রবিরোধী কাজ) হয়, তাহলে রাষ্ট্র শাস্তি দিতে পারে — যদিও ভুক্তভোগী ক্ষমা করে দেয়।

★যদি জালেম আল্লাহর হক লঙ্ঘন করে (যেমন কুফর, শিরক, গুনাহ) এবং তওবা না করে মারা যায় — তবে আল্লাহ চাইলে শাস্তি দেবেন।

যদি জালেম মানুষের ওপর জুলুম করে এবং ভুক্তভোগী ক্ষমা করে দেয়, তবে সেই নির্দিষ্ট হক নিয়ে আর আখেরাতে বিচার হবে না।

তবে যদি জালেম অন্যের ওপরও জুলুম করে থাকে বা আল্লাহর হক লঙ্ঘন করে থাকে, সেগুলোর জন্য এখনো বিচার হবে।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত জালেম যদি শুধুমাত্র আপনাদের উপরে জুলুম করে থাকে এবং তারা যদি অন্য কারো উপর আর জুলুম না করে থাকে,এক্ষেত্রে আপনারা যদি সন্তুষ্টি চিত্তে তাকে ক্ষমা করে দেন,আর সে যদি আল্লাহর কাছেও খালেস দিলে তওবা করে,আর আল্লাহ তায়ালাও যদি তাকে ক্ষমা করে দেন, সেক্ষেত্রে জুলুমের দরুন আখেরাতে তাদের শাস্তি হবে না।

তবে তারা আল্লাহর হক নষ্ট করে থাকলে আল্লাহ তায়ালা চাইলে তাদেরকে শাস্তি দিতে পারেন।

আর যদি তারা অন্যদের উপরেও জুলুম করে থাকে সেক্ষেত্রে জুলুমের শাস্তি ও তাদেরকে ভোগ করতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
বিষয়টি আরও ভালোভাবে যাচাই বাছাই এর জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। কেননা যে আল্লাহ তায়ালার বিধান হলো মানুষের উপর ঝুলুম করা যাবে না। যদি কেউ ঝুলুম করে মাজলুম ক্ষমা করে দিল ঠিক আছে কিন্তু জালিম তো আল্লাহ তায়ালার বিধান অমান্য করলো এইটার কি হবে?
by (662,400 points)
জবাবটি পুনরায় পড়ার পরামর্শ রইলো। 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...