জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ-
وَجَزَاءُ سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِّثْلُهَا ۖ فَمَنْ عَفَا وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ
"অপরাধের প্রতিফল সমপরিমাণ শাস্তি; তবে যে ক্ষমা করে দেয় ও সংশোধন করে, তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে।"
(সূরা শূরা 42:40)
সূরা আলে ইমরান 3:134
وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
"যারা রাগ দমন করে, মানুষকে ক্ষমা করে দেয় — আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।"
সূরা নাহল 16:126
وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ بِهِ ۖ وَلَئِن صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌ لِّلصَّابِرِينَ
"তোমরা প্রতিশোধ নিলে, যতটুকু অন্যায় করা হয়েছে ততটুকুই নাও; কিন্তু যদি ধৈর্য ধারণ কর, তা অবশ্যই ধৈর্যশীলদের জন্য উত্তম।"
সূরা ফুরকান 25:63
وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا
"আর যখন মূর্খরা তাদের সাথে কথা বলে, তারা বলে — শান্তি।"
হাদীস শরীফে এসেছেঃ-
সহীহ মুসলিম (হাদীস 2588)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"দান করার ফলে সম্পদ কমে না। আল্লাহ তাঁর বান্দার জন্য ক্ষমা করলে তিনি তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। আর যে আল্লাহর জন্য বিনয় প্রকাশ করে, আল্লাহ তাকে মর্যাদাশীল করেন।"
তিরমিযী (হাদীস 2029, হাসান)
"যে ব্যক্তি অন্যায়ের শিকার হয়ে ক্ষমা করে দেয়, আল্লাহ তাকে মর্যাদা ও সম্মান দান করেন।"
বুখারী ও মুসলিম
নবী ﷺ মক্কা বিজয়ের দিন কুরাইশদের উদ্দেশে বলেছিলেন:
"আজ তোমাদের জন্য কোনো ভর্ৎসনা নেই; যাও, তোমরা মুক্ত।"
— এখানে নবী ﷺ এমন এক জাতিকে ক্ষমা করেছিলেন যারা তাকে ও তার সাহাবাদের ওপর দীর্ঘদিন জুলুম করেছিল।
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
যদি কোনো ব্যক্তি অন্যায় করে এবং ভুক্তভোগী তাকে ব্যক্তিগত ক্ষতির জন্য ক্ষমা করে দেয়, তাহলে মানুষের অধিকার (হক্কুল ইবাদ) হিসেবে সেই দাবি মাফ হয়ে যায়।
কিন্তু যদি বিষয়টি আইন ও সমাজের অধিকার (যেমন হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি, রাষ্ট্রবিরোধী কাজ) হয়, তাহলে রাষ্ট্র শাস্তি দিতে পারে — যদিও ভুক্তভোগী ক্ষমা করে দেয়।
★যদি জালেম আল্লাহর হক লঙ্ঘন করে (যেমন কুফর, শিরক, গুনাহ) এবং তওবা না করে মারা যায় — তবে আল্লাহ চাইলে শাস্তি দেবেন।
যদি জালেম মানুষের ওপর জুলুম করে এবং ভুক্তভোগী ক্ষমা করে দেয়, তবে সেই নির্দিষ্ট হক নিয়ে আর আখেরাতে বিচার হবে না।
তবে যদি জালেম অন্যের ওপরও জুলুম করে থাকে বা আল্লাহর হক লঙ্ঘন করে থাকে, সেগুলোর জন্য এখনো বিচার হবে।
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত জালেম যদি শুধুমাত্র আপনাদের উপরে জুলুম করে থাকে এবং তারা যদি অন্য কারো উপর আর জুলুম না করে থাকে,এক্ষেত্রে আপনারা যদি সন্তুষ্টি চিত্তে তাকে ক্ষমা করে দেন,আর সে যদি আল্লাহর কাছেও খালেস দিলে তওবা করে,আর আল্লাহ তায়ালাও যদি তাকে ক্ষমা করে দেন, সেক্ষেত্রে জুলুমের দরুন আখেরাতে তাদের শাস্তি হবে না।
তবে তারা আল্লাহর হক নষ্ট করে থাকলে আল্লাহ তায়ালা চাইলে তাদেরকে শাস্তি দিতে পারেন।
আর যদি তারা অন্যদের উপরেও জুলুম করে থাকে সেক্ষেত্রে জুলুমের শাস্তি ও তাদেরকে ভোগ করতে হবে।