0 votes
23 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (89 points)
আসসালামু আলাইকুম
১. জাহেলী যুগে কিছু লোক সত্য দ্বীনের পথে ছিলেন। যেমন ওয়ারাকা ইবনে নওফেল, যায়েদ ইবনে আমর, উসমান ইবনু হারেসা, আব্দুল্লাহ ইবনু জাহাশ। এনাদের জাহেলী যুগের ঘটনা গুলো বললে ভালো হয় বিশেষ করে উসমান ইবনু হারেসা এবং আব্দুল্লাহ ইবনু জাহাশ।

২. উইকিপিডিয়াতে পড়ছিলাম খাদিজা রাঃ এর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনে নওফেলকে নাকি বলা হইছিলো খাদীজা রাঃ কে বিবাহ করতে কিন্তু ওয়ারাকা ইবনে নওফেল মানা করেছিলেন এটা সত্য?

৩. নারী ফিতনা খুব মারাত্মক ভাবে আক্রমণ করতেছে। নারীদের দিকে ইচ্ছাকৃত তাকাই না তারপরও এদের চিন্তা খুব কঠিন ভাবে আসে তখন খুব অসহায় লাগে। বিশেষ করে যেসব মেয়েদের আগে লাইক করতাম তাদের চিন্তা খুব প্রকটভাবে আসে। অথচ এদের সাথে আমার দেখা সাক্ষাৎ  কথাবার্তা কিছুই হয় না। নিজেকে খুব অসহায় লাগে। ইবাদাত, নামাজ,  ইলম অর্জনে মন বসে না। আমার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুৎ হচ্ছি, নিয়তের দৃঢ়তা আনতে পারছি না। বিবাহ করারও পরিস্থিতি নাই। আমি বেকার তাই। আমার মনে হয় এসব নারীর চিন্তা না আসলে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ হতাম। আমাকে বিশেষ কোন আমল বলে দিন যেটা করলে মৃত্যু পর্যন্ত কোন বেগানা নারী চিন্তা আসবে না আসলেও আকর্ষণ লাগবে না।

1 Answer

0 votes
by (59,920 points)
edited by
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 


(০১)
সীরাতে ইবনে হিশামে এসেছেঃ

الحنفاء جمع كلمة حنيف وتعني الانصراف عن الضلال والميل والاتجاه إلى الحق قال تعالي {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا} [الروم: 30]، والدين الحنيف: المستقيم الذي لا عوج فيه، وقد سمي دين إبراهيم عليه السلام حنيفًا لاستقامته، وعلى الرغم ما أشتهر به العرب قبل الإسلام من عباداتهم وتقديسهم الهائل للأصنام وطوافهم حولها، إلا أنَّه كان منهم من سخروا من عبادتهم وأخذوا يلتمسون الصواب في الدين.
 
وقد حكى ابن هشام عن أربعة منهم هم: ورقة بن نوفل، وعبيد الله بن جحش، وعثمان بن الحويرث، وزيد بن عمرو بن نفيل، حيث أنهم اجتمعوا في عيد لهم عند صنم من أصنامهم، فقال بعضهم لبعض: تعلموا والله ما قومكم على شيء، لقد أخطئوا دين أبيهم إبراهيم، ما حجر نُطيف به لا يسمع ولا يبصر ولا يضر ولا ينفع؟!، يا قوم التمسوا لأنفسكم دينًا، فإنكم والله ما أنتم على شيء، فتفرقوا في البلدان يلتمسون الحنيفية دين إبراهيم عليه السلام
ابن هشام: السيرة النبوية، تحقيق: مصطفى السقا، شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي وأولاده، مصر، الطبعة الثانية، 1375هـ= 1955م، 1/ 223.

আল-হানাফী হানিফ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ হ'ল বিভ্রান্তি এবং ঝোঁক থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং সত্যের দিকে ফিরে যাওয়া।
 সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন {
فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا
 সুতরাং বিশ্বস্ত ও করুণাময়ের প্রতি তোমার মুখ ফিরিয়ে দাও } [আল-রুম: ৩০], এবং সত্য ধর্ম: ধার্মিক ও অনুশোচনা , এবং তার ধর্মের জন্য শান্তি আব্রাহামকে বলা হয়েছে , ইসলামের পূর্বে আরবরা যা উপাসনা করত এবং মূর্তিগুলির প্রতি প্রচুর শ্রদ্ধা এবং তাদের চারপাশে তাদের প্রদত্ত চর্চা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে যারা ছিল তাদের উপাসনা উপহাস করেছিল এবং ধর্মের যথার্থতা খুঁজতে শুরু করেছিল।
 
ইবনে হিশাম তাদের চারজনের কর্তৃত্ব সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: ওয়ারাকা ইবনে নওফাল , উবাইদ আল্লাহ বিন জাহশ, ওসমান বিন আল হাওয়ার্থ, যায়েদ বিন আমর ইবনে নাফিল যখন তারা তাদের মূর্তিগুলির একটিতে তাদের জন্য দাওয়াত,ভোজের জন্য জড়ো হয়েছিল, এবং তাদের মধ্যে কিছু লোক একে অপরকে বলেছিল: তোমরা জান আল্লাহর শপথ , তোমার সম্প্রদায় কোন কিছুর উপরে রয়েছে। তারা তাদের পিতা ইব্রাহিমের ধর্মকে পাপ করেছিল  আমরা এমন কোন পাথর ব্যবহার করব, যা শুনতে পেল না, দেখতে পাবে না, ক্ষতি করতে পারেনা।

وعلى كل حال وصل فكر هؤلاء النفر إلى أنَّ ما عليه قومهم ليس شيئًا يذكر، وأن دين الله الحق هو من نوع ما جاء به إبراهيم فبحثوا عنه، وانتظروا في الوقت نفسه رسولًا يبعثه الله إليهم، وقد انتشر هذا الفكر بين عدد من العرب مع اختلاف طرقهم التي سلكوها بعد ذلك، فمنهم من لم يهتد إلى شيء محدد حتى مات كـزيد بن عمرو بن نفيل، ومنهم من تنصر وقرأ كتب النصرانية كورقة بن نوفل، ومنهم من بقي على فكره حتى جاء الإسلام وأسلم كـعبيد الله بن جحش

যাই হোক না কেন, এই লোকদের চিন্তাভাবনা এ পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তাদের লোকদের বাণী যা কিছু উল্লেখ করা হয় না, এবং আল্লাহর প্রকৃত ধর্ম সেভাবেই  ইব্রাহাম আঃ  নিয়ে এসেছিল, সেভাবেই তারা তাকে অনুসন্ধান করেছিল এবং একই সাথে তারা আল্লাহ কর্তৃক তাদের কাছে প্রেরণকারী একজন রাসূলের জন্য অপেক্ষা করেছিল এবং বিভিন্ন চিন্তায় এই চিন্তাভাবনা বিভিন্ন আরবের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তারা তার পরে এটি অনুসরণ করেছিল, তাদের মধ্যে কেউ জাইদ বিন আমর ইবনে নাফিল হিসাবে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের নির্দিষ্ট কিছুতে রূপান্তরিত হয় নি এবং তাদের মধ্যে কয়েকজন খ্রিস্টান ছিল এবং ওরাকাহ ইবনে নওফাল হিসাবে খ্রিস্টান গ্রন্থগুলি পড়েছিল এবং তাদের মধ্যে কিছু কিছু তার মনে রয়ে গিয়েছিল যতক্ষণ না ইসলাম এসেছিল এবং উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহাশ হিসাবে ইসলাম গ্রহণ করেছিল ।
,
 وأما عبيد الله بن جحش ، فأقام على ما هو عليه من الالتباس حتى أسلم ، ثم هاجر مع المسلمين إلى الحبشة ، ومعه امرأته أم حبيبة بنت أبي سفيان مسلمة ؛ 

أحمد أحمد غلوش: السيرة النبوية والدعوة في العهد المكي، مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى، 1424هـ= 2003م، ص50.
,
উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহাশের কথা বলতে গেলে , তিনি মুসলিম হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি তার অস্পষ্টতা অবলম্বন করেন,তারপর তিনি ইসলাম গ্রহন করে। অতঃপর তিনি মুসলিমদের সাথে আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন এবং তাঁর সাথে তার স্ত্রী উম্মে হাবিবাহ বিনতে আবি সুফিয়ান মুসলিম অবস্থায়  ছিলো।
.

قال ابن منده : " اختلف في إسلامه ، روى عنه عبد الله بن عباس ، ولا أعرف من قال إن ورقة أسلم ، والنبي صلى الله عليه وسلم لم يقطع بإسلامه ، وعبد الله بن عباس لم يسمع منه " .
انتهى من "تاريخ دمشق" (63 /4) .
সারমর্মঃ  ওরাকাহ বিন নওফেল এর ইসলাম গ্রহন নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। 
রাসুল সাঃ তার  ইসলাম গ্রহন সম্পর্কে অকাট্য ভাবে বলেননি। 

وقال الكرماني : " فإن قلت ما قولك في ورقة ؛ أيحكم بإيمانه ؟ قلت لا شك أنه كان مؤمنا بعيسى عليه السلام ، وأما الإيمان بنبينا عليه السلام فلم يُعْلَم أن دين عيسى قد نسخ عند وفاته أم لا ، ولئن ثبت أنه كان منسوخا في ذلك الوقت ، فالأصح أن الإيمان التصديق وهو قد صدقه من غير أن يذكر ما ينافيه " انتهى من "عمدة القاري" (1 /168) .
সারমর্মঃ তিনি যে ঈসা আঃ এর দ্বীনের উপর পূর্ণ ঈমান এনেছিলেন,এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।
তার মৃত্যুর সময় ঈসা আঃ এর দ্বীন রহিত হয়ে গিয়েছিলো কিনা,,,,     

وسئل الشيخ عبد الرزاق عفيفي رحمه الله عن ورقة بن نوفل هل يعتبر صحابيا أو من أهل الفترة ؟ ولم ؟
فأجاب الشيخ رحمه الله : " إذا كان قد ثبت إسلامه في زمن الرسول صلى الله عليه وسلم فهو صحابي وقوله : " إنه الناموس الأكبر " ليس تصريحا بإسلامه لأنه قال : " إن يدركني يومك " ولم يدركه " انتهى من "فتاوى الشيخ عبد الرزاق عفيفي" (ص 313) .
রাসুল সাঃ এর যামানাতেই তার  ইসলাম গ্রহন প্রমানীত আছে,তাই তিনি ছাহাবী হবেন।

والراجح – والله أعلم – أنه مؤمن موحد ، ولكن لا يعد في الصحابة ؛ لأنه مات في فترة الوحي بعد النبوة وقبل الرسالة 
প্রাধান্য পাওয়া মত হলো তিনি মুয়াহহিদ মুমিন  ছিলেন।
তবে তাকে ছাহাবায়ে কেরামদের মাঝে গন্য করা হবেনা।

وقد روى الحاكم (4211) عن عائشة رضي الله عنها : " أن النبي صلى الله عليه وسلم قال :
( لا تسبوا ورقة فإني رأيت له الجنة ، أو جنتين ) صححه الحاكم على شرط الشيخين ، ووافقه الذهبي ، وذكره الألباني في "الصحيحة" (405) ورجح الدارقطني إرساله ، كما في "العلل" (14/157) .
সারমর্মঃ রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেন যে তোমরা ওরাকাহ কে গালী দিওনা,কেননা আমি তাকে জান্নাতে দেখেছি।  

(০২)

উইকিপিডিয়া সহ কিছু ওয়েবসাইটে এই তথ্য এসেছে যে খাদিজার পিতা আরব সমাজের বিশিষ্ট তাওরাত ও ইঞ্জিল বিশেষজ্ঞ ওয়ারাকা ইবনে নওফলের সাথে তার বিয়ে ঠিক করেছিলেন। তবে কেন তা হয় নি তা সম্বন্ধে স্পষ্ট কিছু জানা যায় নি। পরিশেষে আবু হালা ইবন জারারাহ আত-তামিমির সাথে তার প্রথম বিয়ে হয়। 

তবে নির্ভরযোগ্য কোনো সুত্রে আমরা এই তথ্য পাইনি,যে খাদীজা রাঃ এর পিতা ওরাকাহ বিন নওফেলের সাথে তার বিবাহ ঠিক করেছিলো।।
,
তবে এটাকে মিথ্যা বলা যায়না,কারন কোথাও এটাকে অস্বীকারও করা হয়নি।
,
(০৩)
এক্ষেত্রে রাসুল সাঃ এর হাদীসের উপর আমল করা চাই।
,
হাদীস শরীফে এসেছেঃ
    
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ: إِنِّي لَأَمْشِي مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ بِمِنًى إِذْ لَقِيَهُ عُثْمَانُ فَاسْتَخْلَاهُ فَلَمَّا رَأَى عَبْدُ اللَّهِ، أَنْ لَيْسَتْ لَهُ حَاجَةٌ قَالَ لِي: تَعَالَ يَا عَلْقَمَةُ فَجِئْتُ فَقَالَ لَهُ: عُثْمَانُ أَلَا نُزَوِّجُكَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ بِجَارِيَةٍ بِكْرٍ لَعَلَّهُ يَرْجِعُ إِلَيْكَ مِنْ نَفْسِكَ مَا كُنْتَ تَعْهَدُ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: لَئِنْ قُلْتَ ذَاكَ لَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ، وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ مِنْكُمْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ، فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ

আলকামাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযি.)-এর সাথে মিনায় হাঁটছিলাম। এ সময় ‘উসমান (রাযি.)-এর সাথে দেখা হলে তিনি আব্দুল্লাহ (রাযি.)-এর সাথে নির্জনে আলাপ করেন। অতঃপর আব্দুল্লাহ যখন দেখলেন, এ বিষয়ে তার কোনো প্রয়োজন নেই, তখন তিনি আমাকে বললেন, হে আলকামাহ! এদিকে এসো। আমি এলে ‘উসমান (রাযি.) তাকে বললেন, হে আবূ আব্দুর রহমান! আমরা কি আপনার সাথে একটি কুমারী মেয়ে বিয়ে দিবো, যাতে আপনি অতীতের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পান? আব্দুল্লাহ (রাযি.) বলেন, আমি এরূপ এজন্যই বলেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কেউ বিয়ের সামর্থ্য রাখলে সে যেন অবশ্যই বিয়ে করে। কেননা বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং যৌন জীবনকে সংযমী করে। আর যে ব্যক্তির বিয়ে করার সামর্থ্য নাই সে যেন অবশ্যই সওম পালন করে। কেননা সওম তার যৌনস্পৃহা দমনকারী।
(আবু দাউদ ২০৪৬)
,


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...