0 votes
18 views
in সালাত(Prayer) by (21 points)
edited by
১.ফরয সালাতের আগে পরের সকল সুন্নত নামাজ বাসায় আদায় করার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা বা নিষেধাজ্ঞা আছে কি?? বাসায়/মসজিদে আদায় করলে কোনো অতিরিক্ত সাওয়াব আছে?

২ কাযা সালাত কি পরের ওয়াক্তের জামাতের আগেই আদায় করতে হবে?? যেমনঃ আমার ফজর কাযা হলে তার কাযা কি যোহরের নামাজ পড়ার আগে বা যোহর কাযা হলে আসরের আগে পড়তেই হবে?

৩.যোহরের সুন্নত ৩ রাকাত আদায় করেছি এমন সময় ইকামত শুরু হলে কি করবো?সুন্নত ভেঙ্গে জামাতে শরীক হব নাকি সুন্নত শেষে?

৪. জুম্মার সালাতে মাসবূক ব্যাক্তির সালাত আদায় পদ্ধতি কিরূপ হবে?

1 Answer

0 votes
by (58,880 points)
জবাব
بسم الله الرحمن الرحيم 


(০১)
শরীয়তের বিধান অনুযায়ী ফরজ ছাড়া সকল প্রকার সুন্নত, নফল ইত্যাদি বাড়িতে পড়া উত্তম।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
فَعَلَيْكُمْ بِالصَّلاَةِ فِىْ بُيُوْتِكُمْ فَإِنَّ خَيْرَ صَلاَةِ الْمَرْءِ فِىْ بَيْتِهِ إِلاَّ الصَّلاَةَ الْمَكْتُوْبَةَ
“বাড়িতে সালাত আদায় করাকে তোমরা নিয়ম বানিয়ে নাও। কেননা পুরুষের জন্য ফরয সালাত ব্যতীত ঘরে সালাত আদায় করা উত্তম।” [বুখারী হা/৭৩১; মুসলিম হা/৭৮০]

 তিনি আরও বলেন:
إِذَا قَضَى أَحَدُكُمْ صَلاَتَهُ فَلْيَجْعَلْ لِبَيْتِهِ مِنْهَا نَصِيبًا فَإِنَّ اللهَ جَاعِلٌ فِىْ بَيْتِهِ مِنْ صَلاَتِهِ خَيْرًا
“তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায় করে, তখন সে যেন ঘরের জন্য সালাতের কিয়দাংশ রেখে দেয়। কেননা ঘরে সালাত আদায়ের ফলে আল্লাহ তাতে কল্যাণ দান করেন।” [ইবনে মাজাহ হা/১৩৭৬; সিলসিলা সহীহাহ হা/১৩৯২।]

আব্দুল্লাহ ইবনে সা‘দ রা. হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন,
سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَيُّمَا أَفْضَلُ الصَّلاَةُ فِى بَيْتِى أَوِ الصَّلاَةُ فِى الْمَسْجِدِ قَالَ أَلاَ تَرَى إِلَى بَيْتِى مَا أَقْرَبَهُ مِنَ الْمَسْجِدِ فَلأَنْ أُصَلِّىَ فِى بَيْتِى أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَنْ أُصَلِّىَ فِى الْمَسْجِدِ إِلاَّ أَنْ تَكُونَ صَلاَةً مَكْتُوبَةً.
“আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম:
কোনটি উত্তম, আমার ঘরে সালাত আদায় করা না কি মসজিদে?
তিনি বললেন: তুমি কি দেখ না আমার ঘর মসজিদের কত নিকটে? তা সত্ত্বেও মসজিদে সালাত আদায় করার চেয়ে ঘরে সালাত আদায় করা আমার নিকটে অধিক প্রিয়; ফরয সালাত ব্যতীত’। [ইবনে মাজাহ হা/১৩৭৮; সহীহ আত-তারগীব হা/৪৩৯।]

 তিনি আরও বলেন,
اجْعَلُوْا فِىْ بُيُوْتِكُمْ مِنْ صَلاَتِكُمْ، وَلاَ تَتَّخِذُوْهَا قُبُوْرًا
“তোমাদের ঘরেও কিছু সালাত আদায় করবে এবং ঘরকে তোমরা কবর বানিয়ে নিও না’। [বুখারী হা/৪৩২, ১১৮৭; আবু দাউদ হা/১০৪৩, ১৪৪৮; তিরমিযী হা/৪১৫; ইবনে মাজাহ হা/১১৪১; মিশকাত হা/৭১৪।]

উপরোক্ত হাদিস সমূহ থেকে ফরয সালাত ছাড়া অন্যান্য সাধারণ নফল-সুন্নত ইত্যাদি সালাত বাড়িতে পড়ার গুরুত্ব ও ফযিলত সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।
,
وفی الشامیۃ(۲۲/۲): (قولہ والافضل فی النفل الخ) شمل ما بعد الفریضۃ وما قبلھا، لحدیث الصحیحین ’’علیکم الصلاۃ فی بیوتکم فان خیر صلاۃ المرء فی بیتہ الا المکتوبۃ‘‘ واخرج ابو داؤد ’’صلاۃ المرء فی بیتہ افضل من صلاتہ فی مسجدی ھذا الا المکتوبۃ‘‘ وتمامہ فی شرح المنیۃ وحیث کان ھذا افضل یراعی مالم یلزم منہ خوف شغل عنھا لوذھب لبیتہ، او کان فی بیتہ ما یشغل بالہ ویقلل خشوعہ فیصلیھا حینئذ فی المسجد لان اعتبار الخشوع ارجح
বাড়িতেই সুন্নাত নফল নামাজ আদায় করা উত্তম।
হ্যাঁ যদি বাড়িতে গিয়ে কোনো কাজে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে,বা খুশু খুজুতে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে,তাহলে মসজিদেই পড়া উচিত।
(ফাতাওয়ায়ে শামী ২/২২ নাজমুল ফাতওয়া ২/২৬১)

وفی الھندیۃ(۱۱۳/۱): الافضل فی السنن والنوافل المنزل لقولہ علیہ السلام صلاۃ الرجل فی المنزل افضل الا المکتوبۃ الخ۔
সারমর্মঃ  উত্তম হলো সুন্নাত নফল নামাজের ক্ষেত্রে বাড়িতেই আদায় করা।

★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই, 
বাড়িতেই সুন্নাত নফল নামাজ আদায় করা উত্তম।
হ্যাঁ যদি বাড়িতে গিয়ে কোনো কাজে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে,বা খুশু খুজুতে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে,তাহলে মসজিদেই পড়া উচিত।

,
(০২)

আপনি যদি সাহেবে তারতীব হন,তথা সারা জীবনে এখন পর্যন্তও আপনার ছয় রা'কাতের বেশী নামায কাযা না  হয়ে থাকে,তাহলে এমতাবস্থায় আপনার উপর ছুটে যাওয়া ওয়াক্তের নামায সমূহকে কা'যা আগে আদায় করা ওয়াজিব।
তার পরবর্তীতে এই ওয়াক্তের নামাজ আদায় করতে হবে।
,
সেই ভিত্তিতে আপনি সাহেবে তারতিব হলে ফজরের  নামাজের কাজা আগে আদায় করতে হবে,তারপর জোহরের নামাজ আদায় করতে হবে।
,
আরো জানুনঃ 
,
(০৩)
এমন অবস্থায় সুন্নায় ভেঙ্গে দিবেননা।
আপনি ইমামের রুকুর পূর্বেই দ্রুত নামাজ শেষ করার চেষ্টা করবেন।  
,
(০৪)

যদি সালামের পূর্বেই ইমামের সাথে শরীক হয়,তাহলে সে জুমআর নামাজই আদায় করবে।
ফাতাওয়ায়ে রিয়াজুল উলুম ৩/৭৩

 ومن أدرک الإمام یوم الجمعۃ صلی معہ ما أدرکہ وبنیٰ علیہ الجمعۃ لقولہ صلی اللہ علیہ وسلم :ما أدرکتم فصلوا ومافاتکم فاقضوا وإن کان أدرکہٗ في التشہد أو في سجود السہو بنیٰ علیہا الجمعۃ عندہما الخ۔
সারমর্মঃ সে বেনা করবে,অর্থাৎ জুমআর নামাজই আদায় করবে।
,
★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে জুম্মার সালাতে মাসবূক ব্যাক্তি জুম্মার নামাজই আদায় করবে।
দুই রাকাত শেষ হতে আর যেই কয় রাকাত পেয়েছে,অবশিষ্ট নামাজ সে আদায় করবে।  


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

0 votes
1 answer 16 views
...