0 votes
45 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (21 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ শায়খ,

আমার নানা স্ট্রোক করে মারা যান ৭ বছর আগে।

জীবিত অবস্থায় তিনি ৫ সন্তানের ( ৩ মেয়ে ও ২ ছেলে) জন্য দুই তালার একটি বাসা এবং বাসার সামনে ৬টি দোকান রেখে গেছেন।

জীবিত অবস্থায় উনি মেয়েজামাইদের বারবার বলেছেন, বিশেষ করে বড় মেয়েকে যেই মেয়েই দেশে থাকেন (২ভাই ও দেশে থাকেন এই বাসাতে) যেন উপরে ৩বোন একটি করে তালা করে নেয়।

বিল্ডিংটি ৫তালা ফাউন্ডেশনের,  উনি চেয়েছিলেন ৩মেয়ে উপরে একেক তালা করে নিবে, নিচের দুই তালায় ছেলেরা থাকবে।

কিন্তু উনি সম্পত্তি বন্টন নিয়ে কোনো লিখিত অসিয়্যতনামা, উইল কিছু করে যান নি। হুট করে মারা যান।

তার বড় মেয়ে তার মৃত্যুর পর তার স্বামীর টাকায় ৩তালা করে নিয়েছে এবং সেই ভাড়া দিয়ে নিজেরা চলছে। এই বাসায় কোনো বোনেরাই থাকেন না। দুই ভাই-ই শুধু থাকেন।

 দুই তালা বাসার এক ফ্ল্যাটে দুই ভাই একসাথে থাকেন, আর বাকি বাসার ভাড়া+দোকানভাড়া মিলিয়ে যেই টাকাটা মাসিক আসে সেটা এতদিন দুই ভাই একাই নিয়ে এসেছে বোনেদের সম্মতিক্রমে।
এখন দুই ভাই চায় আলাদা হতে, সমান সমান টাকা নিতে, (এতদিন ছোট ভাই বড় ভাইয়ের থেকে ভাড়া/হাতখরচ বড়  ভাইয়ের অর্ধেক পেত)

এ নিয়ে দুজনের মধ্যে টাকা নিয়ে ঝামেলা লেগেই থাকে, মারামারিও হয়ে যায়।

বোনেরা চায় তারা যেন প্রতিষ্ঠিত হয়, এজন্য মোট বাসাভাড়াটা (বড় বোনের ৩তালা বাদে, ওটা তো উনারই, উনার বাবাই উনাকে অনুমতি দিয়েছিলেন বাসা করে নিতে, আমার বুঝায় কোনো ভুল থাকলে বলবেন দয়া করে শায়খ) ৫ ভাগ করে ৫ ভাই-বোন নিবেন।

আমার মা বড় বোন সবার। আমি জানি বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এখন মেয়েরা সমান সমান ভাগ পেলেও আমাদের দ্বীন হচ্ছে ইসলাম। তাই আমি চাই আমার মা অর্ধেক ভাগ নিক বাড়িভাড়ার। আর তারা যা করে করুক। তাদেরকে তো আমি বুঝিয়েছিই।

এখন কোনো ভুল করেছি কিনা আমি এটা একটু জানতে চাই শায়খ।

1 Answer

0 votes
by (30.9k points)
বিসমিহি তা'আলা

সমাধানঃ-

মৃত্যুর পূর্বে যে কেউ তার সম্পত্তিকে যেকোনো ভাবে ব্যবহার করতে পারবে।তার জীবদ্দশায়(পূর্ণ সুস্থতায়)সে তার পূর্ণ সম্পত্তি যদি কাউকে দিতে চায়, তো সে তা পারবে।যদিও ওয়ারিছগণ-কে গরীব বানিয়ে রেখে যাওয়ার ধরুণ সে গোনাহগার হবে।

কেউ মৃত্যুর পৃর্বে পূর্ণ সুস্থাবস্থায় যদি তার পূর্ণ বা আংশিক সম্পত্তিকে হেবা/দান করে যায়,এবং ঐ হেবাকৃত ব্যক্তিকে কবজা করিয়ে দিয়ে যায়,তবেই

ঐ ব্যক্তি উক্ত জিনিষের মালিক বনবে।কিন্তু যদি কেউ শুধু বলে-ই যায় বা ওসিয়ত লিখে যায়, অন্যদিকে ঐ ব্যক্তিকে কবজা করিয়ে দিয়ে যান,তাহলে ঐ দানকারী/ওসিয়তকারী ব্যক্তির মৃত্যুর পর এই সম্পত্তির দুই তৃতীয়াংশকে তার সকল ওয়ারিছদের মধ্যে বন্টন করে দেয়া হবে।দানকৃত বা ওসিয়তকৃত ব্যক্তি এক্ষেত্রে ঐ জিনিষের এক তৃতীয়াংশ ব্যতীত অন্যকিছুর হক্বদার হবে না।

সুতরাং বলা যায় যে,উনি চেয়েছিলেন,

বিল্ডিং উপরের তলায় যাতে উনার মেয়েরা ঘর বানাক,কিন্তু উনার জীবদ্দশায় তাদের কেউই তা নিজ আয়ত্বে নিয়ে আসে নি,বিধায় ঐ ওসিয়তনামাকে পরিপূর্ণ কার্যকর করা অদ্য জরুরী বিষয় নয়।

এখন উনার পূর্ণ সম্পত্তিকে উনার ওয়ারিছদের মধ্যে বন্টন করে দিতে হবে।

উনি যেহেতু ২ছেলে এবং ৩ মেয়ে রেখে গেছেন,

আর অন্যকোনো জীবিত ওয়ারিছের আলোচনা প্রশ্নে নেই।

তাই সম্পূর্ণ সম্পত্তিকে ৭ ভাগ করে ৩ ভাগ উনার তিন মেয়ে পাবে।এবং অবশিষ্ট ৪ ভাগ উনার চার ছেলে পাবে(প্রত্যেকজন ২ ভাগ করে)

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, IOM.

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

...