ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
জবাবঃ-
(০১)
ফজরের ওয়াক্ত হয়ে গেলে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত ফজরের দুই রাকাত সুন্নত ব্যতীত আর কোন নফল নামাজ পড়া যায় না।
হাদিস শরিফে এসেছে-
عَنْ حَفْصَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ لاَ يُصَلِّى إِلاَّ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ وفى رواية إلا ركعتي الفجر
‘হাফসা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ফজর উদিত হবার পর ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত ছাড়া অন্য কোন নামায পড়তেন না। [সহিহ মুসলিম. হাদিস: ১৭১১]
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
لَا صَلَاةَ بَعْدَ الفَجْرِ إِلّا سَجْدَتَيْنِ.
ফজরের সময় শুরু হওয়ার পর সুন্নত ছাড়া অন্য কোনো নফল নামায নেই। (জামে তিরমিযী, হাদীস ৪১৯)
روى البيهقي بسند صحيح عن سعيد بن المسيب أنه رأى رجلا يصلي بعد طلوع الفجر أكثر من ركعتين يكثر فيها الركوع والسجود فنهاه فقال : يا أبا محمد ! أيعذبني الله على الصلاة ؟ ! قال : لا ولكن يعذبك على خلاف السنة . )إرواء الغليل ” (2 / 236 (
ইমাম বাইহাকী সহিহ সনদে সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি এক ব্যক্তিকে ফজরের সময় (ফরজ ছাড়া) দুইয়ের অধিক নামাজ পড়তে দেখে তাকে নিষেধ করেন। লোক সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাবকে লক্ষ্য করে বলেন, হে আবু মুহাম্মাদ! আল্লাহ তায়ালা কি আমাকে নামাজ পড়ার অপরাধে শাস্তি দিবেন!! তিনি বলেন: না, বরং তোমাকে শাস্তি দিবেন সুন্নাহ পরিপন্থী আমল করার কারণে।
(ইরওয়াউল গলীল ২/২৩৬)
فى صحيح البخارى– أبا سعيد الخدري يقول : سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول لا صلاة بعد الصبح حتى ترتفع الشمس ولا صلاة بعد العصر حتى تغيب الشمس ( صحيح البخارى- كتاب مواقيت الصلاة، باب لا يتحرى الصلاة قبل غروب الشمس، رقم–1139)
হজরত আবু সাঈদ খুদরী রাঃ বলেন-আমি নবীজি সাঃ কে বলতে শুনেছি যে, ফজরের নামাযের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত কোন নামাজ নেই, এবং আসরের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত কোন নামাজ নেই। (সহীহ বুখারী-১/৮২, হাদীস নং-১১৩৯)
★তবে এক্ষেত্রে তবে ফজরে সুন্নতের সাথে তাহিয়াতুল অযু ও দুখুলুল মসজিদ নামাযের নিয়ত করে নিলে তার সাওয়াব পেয়ে যাবে৷
★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
আজান হওয়ার পর ফজর আর মাগরিব নামাজের আগে নফল পড়া যাবেনা।
এ সময়ে তাহিয়্যাতুল মসজিদ, তাহিয়্যাতুল অযু কোনো নামাজই পড়া যাবেনা।
ফজর ও মাগরিব ব্যাতিত অন্যান্য নামাজের ক্ষেত্রে আযানের পর নির্ধারিত সুন্নাত ব্যাতিত অন্যান্য নফল নামাজ পড়া যাবে।
(০২)
কোনো আলেম এমন কথা বলে থাকেন।
তবে এর উপর ফতোয়া নয়।
এই সময় নামাজের ছুরুতে বসা ওয়াজিব নয়।
তবে মনোযোগ সহকারে খুতবা শ্রবন ওয়াজিব।