0 votes
54 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (17 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম।নারীদের পর্দা করা ফরজ এই বিষয়টি আমরা কম বেশি সবাই জানি।আমি আসলে জানতে চাচ্ছি একজন নারী যদি চুল খুলে ঘর থেকে বের হয়,বা চুলের সৌন্দর্য দেখায় সেক্ষেত্রে হাদীস অনুযায়ী কি কি শাস্তির কথা বর্ণিত আছে?আর অনেকেই বলে কবরে এক একটা চুলের জন্য সাপ এসে কামড়াবে,এটা কি সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত?আর একজন বেপর্দা নারীর জন্য তার পিতার কি শাস্তি হবে তাও জানতে চাই।

২য় প্রশ্ন:আগে সালাম দিলে সওয়াব বেশি অর্থাৎ দুইজন ব্যক্তির মধ্যেই যিনি আগে সালাম দিবেন তার সওয়াব বেশি হবে এটা কি সত্যি?

1 Answer

0 votes
by (413,440 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم


আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَلَا يُبۡدِينَ زِينَتَهُنَّ ۖ وَلَا يَضۡرِبۡنَ بِأَرۡجُلِهِنَّ لِيُعۡلَمَ مَا يُخۡفِينَ مِن زِينَتِهِنَّۚ﴾ [النور : ٣١]

“তারা তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ করবে না, তারা যেন তাদের গোপন আভরণ প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে----।
(সূরা নূর, আয়াত: ৩১)

মাথা চুল খুলে পর পুরুষের সামনে চলা নারীদের ক্ষেত্রে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামী হবার কথা জানিয়েছেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا، قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ، وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلَاتٌ مَائِلَاتٌ، رُءُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ، لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ، وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا، وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا»

“দুই শ্রেণীর মানুষ জাহান্নামের অধিবাসী যাদেরকে আমি দেখিনি, তারা ভবিষ্যতে আসবে প্রথম শ্রেণী অত্যাচারীর দল যাদের সঙ্গে থাকবে গরুর লেজের মত চাবুক যদ্ধারা তারা লোকদেরকে প্রহার করবে। আর দ্বিতীয় শ্রেণী হল সে নারীর দল যারা কাপড়তো পরিধান করবে কিন্তু তারা উলঙ্গ, নিজেরা অন্যদের প্রতি আকৃষ্ট এবং অন্যদেরকেও তাদের প্রতি আকৃষ্ট করবে, যাদের মস্তক [খোপা বাধার কারণে] উটের হেলে যাওয়া কুঁজের মত হবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তার গন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধ এত এত দূরবর্তী স্থান থেকেও পাওয়া যাবে”।
(মুসলিম: ২১২৮)

★একজন বেপর্দা নারীর জন্য তার পিতার শাস্তি হবেঃ-

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 
রাসুল (ﷺ)বলেছেন, তিন শ্রেণীর মানুষের উপর জান্নাত হারাম অর্থাৎ এই তিন শ্রেণীর মানুষ কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। প্রথম শ্রেণী হলো- যারা কোনো প্রকার নেশাদারদ্রব্য পান বা গ্রহণ করে।
দ্বিতীয় শ্রেণী হলো- যে বা যারা পিতা-মাতারঅবাধ্য, এই শ্রেণীভূক্ত মানুষরাওজান্নাতে যাবে না।
তৃতীয় শ্রেণী হলো-দাইউস। ঐ দাইউস ব্যক্তি যে তার পরিবারে পর্দা প্রথা চালু রাখেনি। পরিবারের সদ্যসের মাঝে বেপর্দা ছিলো, বেহায়াপনা ছিলো কিন্তু সে বাধা প্রদান করেনি। পরিবারের কর্তা হিসেবে বেপর্দা-বেহায়াপনা বন্ধ না করার জন্য এই শাস্তি পাবে সে। [মুসনাদে আহমাদ: ২/৬৯]

(০২)
সালাম দেয়ার কিছু পদ্ধতিগত কারনে সালাম দাতার ছওয়াব বেশি হয়। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، فَرَدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ، ثُمَّ جَلَسَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَشْرٌ ثُمَّ جَاءَ آخَرُ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، فَرَدَّ عَلَيْهِ، فَجَلَسَ، فَقَالَ: عِشْرُونَ ثُمَّ جَاءَ آخَرُ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، فَرَدَّ عَلَيْهِ، فَجَلَسَ، فَقَالَ: ثَلَاثُونَ

‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রা.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক রাসূল (সা.)-এর নিকট এসে বললো, আসসালামু আলাইকুম। তিনি তার জবাব দিলেন। লোকটি বসলো। রাসূল (সা.) বললেন, দশ নেকি। এরপর আরেকজন এসে বললো, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। রাসূল (সা.) অনুরূপ জবাব দিলেন। লোকটি বসলো। তিনি বললেন, বিশ নেকি। অতঃপর আরেকজন এসে বললো, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। রাসূল (সা.) তারও জবাব দিলেন। লোকটি বসলো। তিনি বললেন, ত্রিশ নেকি।’ [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫১৯৫]

★সুতরাং এখান থেকে বুঝা যায় যে সালাম দাতার ছওয়াব কিছু হলেও জবাব দাতার চেয়ে বেশি। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...