0 votes
89 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (33 points)
শাইখ,

আমি নতুন হালাল মোমবাতি তৈরীর ব্যবসা শুরু করতে চাই,এখন আমার মনে অনেক প্রশ্ন জন্মে, যার একটু ইসলামী শরীয়াহ ভিত্তিক সমাধান চাইছি।

১আমি আমার ব্যবসায়ে পণ্যের পেকেটে নাম দিতে চাই,যেমন পন্যর মালিকের নাম ইত্যাদি,এখন আমি যদি আমার নাম কুরআনে আছে এমন একটা নাম যেমন (আলম)তথা এর মানে হয় বিশ্ব দেই,দেখা গেল কেউ উক্ত পণ্যটি কিনে পণ্যের পেকেটটি বাইরে ফেলে দিল,যেখানে আমার নাম (আলম) লিখা ছিল,এখন কেউ যদি উক্ত নামটি হাটাচলার ফলে পা দিয়ে মাড়িয়ে দেয়, তাহলে কি আমার কোন গুণাহ হবে?

২ ইসলামী শরীয়ত এই বিষয়ে কি বলে?যেখানে ইসলামিক নাম লিখা পেকেট কেউ পা দিয়ে মাড়ায় অথবা ডাস্টবিন এ ফেলে দেয়।

৩এখানে দোষ কার? মালিকের নাকি যে ক্রেতা তার?

৪ আমি আমার ব্যবসায়ে বেশি বেশি বারাকাহ পাওয়ার জন্য কি কি আমল করতে পারি?

যেহেতু আমি মোমবাতি বানিয়ে দোকানে বিক্রি করি,পরে দোকান হতে অনেক মানুষ মোমবাতি  শবে বরাতের জন্য কিনে নিয়ে যায়, যেখনে বাচ্ছারা এটা জ্বালিয়ে আনন্দ করে,এখানে কি আমার কোন গুণাহ হবে কিনা?

৬ অনেক মানুষ বিদআত করার জন্য ও নিয়ে যায় যেমন কবরে মোমবাতি জ্বালানো ইত্যাদি, এখন আমার কি কোন গুণাহ হবে কিনা?যেহেতু আমি মোমবাতি বানিয়ে তাদের কাছে বিক্রি করেছি,এটাতো এক ধরণের সাহায্য করা।
এটার সমাধান কি?

৭অনেক মানুষ জ্যোতিষী কুফরী কাজের জন্য ও মোমবাতি কিনে দোকান হতে,
যেহেতু আমি বানিয়ে দোকানে সেল করেছি,তাই তারা দোকান হতে কিনে নিতে পেরেছে,এটাতো একধরণের সাহায্য,এতে কি আমাকেও গুণাহের ভাগী হতে হবে?

৮ হযরত দেখুন,আমি মানুষের উক্ত কাজগুলোর জন্য কোন না কোন ভবে জড়িত,এখন আমার কি কোন গুণাহ হবে কিনা?গুণাহ হলে কেন হবে?

৯ আমিতো স্পষ্ট ভাবে জানতাম না তারা এসব করতে পারে,তাহলে আমার কেন গুণাহ হবে?

১০ ইসলামী শরীয়ত কি বলে এটি নিয়ে?
১১ তাহলে আমি আমার মোমবাতি গুলো কিভাবে দোকানে সেল করবো,যেভাবে করলে আমার গুণাহ হবে না,আমাকে স্পষ্ট ভাবে বুঝিয়ে দিন।

1 Answer

0 votes
by (382,000 points)
edited by
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
জবাবঃ-


হাদীস শরীফে এসেছেঃ
  
وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: إِنَّ اللهَ يَرْفَعُ بِهٰذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا وَيَضَعُ بِه اٰخَرِينَ

উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা এ কিতাব কুরআনের মাধ্যমে কোন কোন জাতিকে উন্নতি দান করেন। আবার অন্যদেরকে করেন অবনত।
(মুসলিম ৮১৭, ইবনু মাজাহ ২১৮, আহমাদ ২৩২, দারিমী ৩৪০৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫১২৫, শু‘আবূল ঈমান ২৪২৮, সহীহাহ্ ২২৩৯।)
,
কোরআন-হাদিস লিখিত ক্যালেন্ডার দ্বারা কিতাব বা বই-পুস্তক বাঁধাই করা মাকরুহ। এটা কোরআন-হাদিসের মর্যাদার পরিপন্থী। এ ধরনের ক্যালেন্ডার প্রয়োজন শেষে হেফাজত করতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে পুড়িয়ে ছাইগুলো কোনো পবিত্র স্থানে দাফন করে দেবে। (ফতোয়ায়ে খানিয়া : ৩/৪২৪; আল বাহরুর রায়েক : ২/৩৭; ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া : ১৮/৬৭, ৬৯; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/১০৯, ৫/৩২২; দুররুল মুখতার : ৪/১৩০)
,

ফাতাওয়ায়ে আলমগীরীতে আছে  
وَيُكْرَهُ أَنْ يَجْعَلَ شَيْئًا فِي كَاغِدَةٍ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ تَعَالَى كَانَتْ الْكِتَابَةُ عَلَى ظَاهِرِهَا أَوْ بَاطِنِهَا، (الفتاوى الهندية، كتاب الكراهية، الباب الخمس-5/322)

يكره كتابة قرآن أو إسم الله تعالى على ما يفرش لما فيه من ترك التعظيم وكذا على درهم ومحراب وجدار لما يخاف من سقوط الكتابة (طحطاوى على مراقى الفلاح، باب الحيض، مصرى-118)

 যার সারমর্ম হলো কুরআনের আয়াত বা আল্লাহর নাম এমন জায়গায় লেখা যাবেনা,যেটার দ্বারা সম্মান হানী হয়।
এরকমটি হলে এটি নাজায়েয।
,
সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা গেলো যে   
পদপৃষ্ঠ সম্ভাবনাময় স্থানে কুরআন,আল্লাহর নাম লিখা মাকরুহ।

যদি দেয়ালে এমনভাবে লিখা হয় যা কখনো পড়ে গিয়ে পদপৃষ্ঠ হওয়া বা অসম্মানিত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে তা নাজায়েয হবে না।

আরো জানুনঃ

(১.২.৩)
★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
এক্ষেত্রে যেহেতু কুরআনের আয়াত বা আল্লাহর নাম লেখা হচ্ছেনা,তাই উল্লেখিত নাম,ইসলামিক নাম লিখিত কোনো কিছু  মাটিতে ফেলে দিলে গুনাহ হবেনা।
তাই আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন।

(০৪)
বারাকাহ লাভের জন্য আপনি বেশি দোয়া করতে পারেন।
সদকাহ করতে পারেন।

প্রশ্নে যেই বিষয় উল্লেখ করেছেন,এতে যারা সেটি দিয়ে অনৈসলামিক কার্যকলাপ করে, আনন্দ করে, গুনাহ তাদের হবে।
আপনার নয়।

(৬.৭)
নিশ্চিত ভাবে কাহারো ব্যাপারে এই গুনাহ করবে বলে  জেনে থাকলে তার কাছে বিক্রয় করবেননা।
তবে এতে আপনার ইনকাম হারাম হবেনা। এটিই অধিকাংশ আলেমদের মত।

(৮.৯.১০.১১)
কে কি কাজ করবে,সে সংক্রান্ত যেহেতু  আপনি জানেননা,তাই আপনার এতে গুনাহ হবেনা।
আপনি নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারেন।   

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ 

اِنۡ تَکۡفُرُوۡا فَاِنَّ اللّٰہَ غَنِیٌّ عَنۡکُمۡ ۟ وَ لَا یَرۡضٰی لِعِبَادِہِ الۡکُفۡرَ ۚ وَ اِنۡ تَشۡکُرُوۡا یَرۡضَہُ لَکُمۡ ؕ وَ لَا تَزِرُ وَازِرَۃٌ وِّزۡرَ اُخۡرٰی ؕ ثُمَّ اِلٰی رَبِّکُمۡ مَّرۡجِعُکُمۡ فَیُنَبِّئُکُمۡ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ؕ اِنَّہٗ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ ﴿۷﴾ 

যদি তোমরা কুফরী কর তবে (জেনে রাখ) আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। আর তিনি তার বান্দাদের জন্য কুফরী পছন্দ করেন না। এবং যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও তবে তিনি তোমাদের জন্য তা-ই পছন্দ করেন। আর কোন বোঝা বহনকারী অপরের বোঝা বহন করবে না। তারপর তোমাদের রবের কাছেই তোমাদের ফিরে যাওয়া। তখন তোমরা যা আমল করতে তা তিনি তোমাদেরকে অবহিত করবেন। নিশ্চয় অন্তরে যা আছে তিনি তা সম্যক অবগত।
(সুরা আয যুমার ০৭)

وَ لَا تَزِرُ وَازِرَۃٌ وِّزۡرَ اُخۡرٰی

কোনো ব্যাক্তি অন্য কোনো ব্যাক্তির গুনাহের বোঝা বহন করবেনা।
(সুরা ফাতির ১৮)

★তবে নিশ্চিত ভাবে কাহারো ব্যাপারে কোনো গুনাহ করবে বলে জেনে থাকলে তার কাছে বিক্রয় করবেননা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...