0 votes
296 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম

দয়া করে ধৈর্য সহকারে পড়বেন এবং যাচাই করে উত্তর দিবেন। যথাযথ উত্তর পেলে অত্যন্ত উপকৃত হবো।

কাহিনী এরূপ-

একটি ১৬-১৭ বছর বয়সী ছেলে কিছুদিন আগে হুরমতে মুসাহারাত সম্পর্কে জানতে পারে এবং জানার পর থেকে তার ৩-৪ বছর আগে তার মায়ের সাথে ইচ্ছাকৃত/অনিচ্ছাকৃত কিছু স্পর্শের কথা মনে পড়ে এবং দুশ্চিন্তায় পতিত হয়ে যায় এই ভেবে যে হুরমত হয়েছে কি হয়নি,এবং কিছুতেই সে নিশ্চিত হতে পারে না যে হুরমত হয়েছিল কি হয়নি (অর্থাৎ সকল শর্ত উপস্থিত ছিলো নাকি না)।একবার তার মনেহয় হয়নি,আরেকবার তার মনেহয় যে হয়েছে।

যেহেতু ৩-৪ বছর আগের ঘটনা,তাই সে যতই চিন্তা করে এই বিষয়ে,ততই অস্পষ্ট হওয়া শুরু করে এবং ছেলেটির দুশ্চিন্তা বেড়ে যায় এবং আত্নহত্যার কিংবা যাযাবর হয়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করতে থাকে।

সে কিছুতেই নিশ্চিত হতে পারে না যে হুরমত হয়েছে কি হয়নি।যখনই তার মনে শান্তি আসে যে হুরমত হয়নি,তখনই দুশ্চিন্তা এসে বসে যে যদি হুরমত হয়ে যায়। একবার তার মনেহয় যে সহবাসের নিয়তে স্পর্শ করেছিল,আরেকবার তার মনেহয় যে সহবাসের নিয়ত ছিলোনা। আবার আরেকবার মনেহয় যে সহবাসের নিয়ত ছিলোনা কিন্তু অশ্লীল নিয়ত থাকতেও পারে।  আরেকবার মনে হয় যে সহবাসের নিয়তে স্পর্শ করলেও লজ্জাস্থান উত্থিত হয়নি,আরেকবার মনেহয় যে উত্থিত হলেও স্পর্শের সময় হয়েছিল নাকি পরে হয়েছিল মনে নেই এবং আরও অনেক চিন্তা...

এবং সম্প্রতি ছেলেটি হতাশার চরম পর্যায়ে চলে গিয়েছে।কেননা সে কোনোভাবেই নিশ্চিত হতে পারছেনা যে হুরমত হয়েছে কি হয়নি। তার নিজের জীবনের প্রতি ঘেন্না চলে এসেছে।তার মা কে দেখলেই সে ভয় পেয়ে যায় এই ভেবে যে হুরমত যেনো না হয়,এবং কান্না পায় এই ভেবে যে যদি হুরমত হয়ে যায়।

প্রশ্ন হলো -

১) যদি ছেলেটি নিশ্চিত না থাকে যে হুরমত হয়েছে কি হয়নি এবং প্রবল ধারণার ভিত্তিতেও বিচার করতে ব্যর্থ হয় (একবার ধারণা হয় যে হয়নি আরেকবার মনেহয় হয়েছে) তাহলে তা হুরমত হবে?

২) যদি স্পর্শে সহবাসের চিন্তা থাকেনা কিন্তু শয়তানের ধোকায় পড়ে "স্পর্শ করেই ফেলি মায়ের গর্ভের থেকেই তো এসেছি স্পর্শে তো ঝামেলা নেই সহবাস এর কথা তো চিন্তাও করিনা " এরকম চিন্তা থেকে স্পর্শ করে এবং লিংগ উত্থিত হয়েছিল নাকি হয়নি নাকি স্পর্শের পর উত্থিত হয়েছিল নাকি নিস্তেজ অবস্থাতেই হালকা উত্থিত হয়েছিল এ বিষয়ে নিশ্চিত না থাকে, তাহলে হুরমত হবে?

৩) যদি ছেলেটি নিশ্চিত না থাকে (অর্থাৎ মনে নেই কী হয়েছিল) বলে ধরে নেয় যে হুরমত হয়নি,কিন্তু প্রকৃতপক্ষে হুরমতের শর্তগুলো ছিলো,,তাহলে হুরমত হবে?

৪) যদি হুরমত হয়ে যায় কিন্তু ছেলেও জানেনা (ছেলের মনে নেই যে শর্তগুলো উপস্থিত ছিলো কিনা) এবং পিতামাতাও এব্যাপারে কিছু জানেনা,তাহলে কী হবে? ওযর বিল জাহালত গ্রহণযোগ্য?পিতামাতার বিবাহবিচ্ছেদ হবে? পিতামাতার গুনাহ হবে? ছেলের গুনাহ হবে? ছেলের গুনাহ হলে তা তাওবার মাধ্যমে ক্ষমা পাওয়া সম্ভব?

৫) যদি ছেলেটি নিশ্চিত না থাকে যে হুরমত হয়েছিল নাকি না তাই সেজন্যে যদি যে আল্লাহর কাছে তওবা করে এবং পিতামাতাকে না জানায় (এ জন্যে পিতামাতাকে জানায়নি যে,জানালে যদি তারা বিচ্ছেদ হয়ে যায় কিন্তু দেখা যায় যে আসলে হুরমত হয়নি, তাহলে তো তা বিরাট গুনাহ এবং অনুশোচনার বিষয় হবে) এবং তওবা করে যে " হে আল্লাহ! যদি ভুলক্রমেও কোনোভাবে হুরমত হয়ে যায় তাহলে আখিরাতে এর শাস্তি হতে আমার পিতামাতাকে এবং আমাকে রক্ষা করো" এই তাওবা কি গ্রহণযোগ্য?

৬) যদি ছেলেটি মানসিক অসুস্থতার জন্যে কোনো ওষুধ খায় ( যেই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া  হিসেবে সাধারনত অনেকের স্মৃতিশক্তি কমে যায় কিংবা যা ঘটেনি বা যা হয়নি তা বিশ্বাস করে) এবং সে ছেলের যদি একটি পূর্বের কাহিনী মনে পড়ে যেখানে হুরমতের সকল শর্তগুলো ছিলোনা, কিন্তু সেই ছেলের মানসিক অসুস্থতা এবং তার চিকিৎসার জন্যে নেয়া ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্যে তার মনেহয় যে হুরমত হয়েছে,এক্ষেত্রে কী করণীয়?

৭) যদি হুরমতে বিশ্বাস না করি তাহলে কি কাফির/মুরতাদ হয়ে যাবো?

৮) যদি হুরমতের স্পর্শের বিধানের মাসআলা গুলোকে বিশ্বাস না করি তাহলে কাফির/মুরতাদ হয়ে যাবো?

৯) যদি হুরমতে স্পর্শের বিধানের ক্ষেত্রে অন্য মাযহাব এর মাসআলা গ্রহন করি তাহলে কি কাফির/মুরতাদ হয়ে যাবো? ৯৯% মানুষ এ মাসআলার ব্যাপারে অবগত নয়।

১০) কারও যদি তার মায়ের সাথে হুরমত হয়ে যায় (আল্লাহ না করুক) তাহলে তার মায়ের সাথে তার কিরূপ আচরণ কাম্য? সাধারণ মাতা-পুত্রের মতোন?
আশা করি শুধু একজন মুফতি নয়,একজন অভিভাবক হিসেবে উত্তর দিবেন।

1 Answer

0 votes
by (382,000 points)
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 


হাদীস শরীফে এসেছে 

أخبرنا إسماعیل بن عیاض، حدثنا سعید بن أبی عروبة، من قیس بن سعید، عن مجاهد في الرجل یفجر بالمرأة قال: إذا نظر إلی فرجها فلا یحله له أمها ولا بنتها، أخرجه محمد في الحجج أیضًا ورجاله ثقات (إعلاء السنن: ۱۱/۱۳۲

যার সারমর্ম হলো যদি কেহ কোনো মহিলার লজ্জাস্থানের দিকে দৃষ্টিপাত করে,তাহলে সেই মহিলার মেয়ে বা তার মাকে সে কোনোদিন বিবাহ করতে পারবেনা।

ই'লাউস সুনান ১১/১৩১

أخبرنا أبوحنیفة، عن حماد، عن إبراهیم، قال: إذا قبل الرجل أم أمرأته أو لمسها من شهوةٍ حرمت علیه امرأته، أخرجه محمد في الحجج ورجاله ثقات (إعلاء السنن: ۱۱/۱۳۱)

যার সারমর্ম হলো কেহ যদি তার শাশুড়িকে চুম্বন করে,অথবা উত্তেজনার সাথে স্পর্শ করে,তাহলে স্ত্রী তার উপর চিরজীবনের জন্য হারাম হয়ে যাবে।      

হুরমতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হবার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে।

শর্তগুলো হল,
১–

সরাসরি খালি গায়ে বা এমন কাপড়ের উপর দিয়ে স্পর্শ করে, যা এতটাই পাতলা যে, শরীরের উষ্ণতা অনুভব হয়। যদি এমন মোটা কাপড় পরিধান করে থাকে যে, শরীরের উষ্ণতা অনুভূত না হয়, তাহলে নিষিদ্ধতা সাব্যস্ত হবে না।

فى الدر المختار- أو لمس ) ولو بحائل لا يمنع الحرارة
وقال ابن عبدين– ( قوله : بحائل لا يمنع الحرارة ) أي ولو بحائل إلخ ، فلو كان مانعا لا تثبت الحرمة ، كذا في أكثر الكتب (الفتاوى الشامية، كتاب النكاح، فصل فى المحرمات-3/107-108)

যার সারমর্ম হলো যদি কাপড় পরিধান অবস্থায় হয় তাহলে যদি এমন কাপড়ের উপর দিয়ে স্পর্শ করে, যা এতটাই পাতলা যে, শরীরের উষ্ণতা অনুভব হয়। 
তাহলে হুরমতে মুসাহারাত প্রমাণিত হবে।   

( যদি এমন কাপড়ের উপর দিয়ে স্পর্শ করে,যেটা শরীরের গরমি ভাব অনুভব হয়,তাহলে হুরমতে মুসাহারাত প্রমানীত হবে। ) 

অন্যথায় হুরমতে মুসাহারাত প্রমাণিত হবেনা।     

২–

স্পর্শ করলে পুরুষ মহিলা যেকোন একজনের উত্তেজনা অনুভুত হওয়া।

পুরুষের উত্তেজনা অনুভূত হওয়ার লক্ষণ হল গোপনাঙ্গ দাঁড়িয়ে যাওয়া, আর পূর্ব থেকে দাঁড়িয়ে থাকলে স্পর্শ করার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া।

وفى رد المحتار- قوله (بشهوة) اي ولو من احدهما،
وفى الدر المختار- وحدها فيهما تحرك آلته أو زيادته به يفتى
وفي امرأة ونحو شيخ كبير تحرك قلبه أو زيادته (الفتاوى الشامية، كتاب النكاح، فصل فى المحرمات-4/107-109)  
সারমর্মঃ
উত্তেজিত হওয়ার সীমা হলো লিঙ্গ দাঁড়িয়ে যাওয়া, আর পূর্ব থেকে দাঁড়িয়ে থাকলে স্পর্শ করার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া।
মহিলাদের ক্ষেত্রে কলব তথা অন্তর কেঁপে উঠা, আগে থেকেই কেঁপে উঠে থাকলে স্পর্শ করার পর কাঁপা বেড়ে যাওয়া। 

৩-
স্পর্শ,দৃষ্টিপাত করার সময় উত্তেজিত হতে হবে। 
আগে বা পরে উত্তেজিত হলে হুরমতে মুসাহারাত প্রমাণিত হবেনা।      

وفى الدر المختار- والعبرة للشهوة عند المس والنظر لا بعدهما
وفى رد المحتار- ( قوله : والعبرة إلخ ) قال في الفتح : وقوله : بشهوة في موضع الحال ، فيفيد اشتراط الشهوة حال المس ، فلو مس بغير شهوة ، ثم اشتهى عن ذلك المس لا تحرم عليه (رد المحتار-كتاب النكاح، فصل فى المحرمات-4/108)

যার সারমর্ম হলো স্পর্শ,দৃষ্টিপাত করার সময় উত্তেজিত হতে হবে। যদি স্পর্শ করার সময় কেউ উত্তেজিত না হয়, তাহলেও নিষিদ্ধতা প্রমাণিত হবে না। 

বিস্তারিত জানুনঃ 
,
★★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,

(০১)
যেহেতু সে নিশ্চিত না,তাই এতে হুরমতে মুসাহারাত প্রমাণিত হবেনা। 
,
(০২)
এতে হুরমতে মুসাহারাত প্রমাণিত হবেনা। 
,
(০৩)
নিশ্চিত না থাকলে  এতে হুরমতে মুসাহারাত প্রমাণিত হবেনা। 
,
(০৪)
এক্ষেত্রে যদি শরীয়তের বিধান মতে হুরমত সাব্যস্ত হয়,তথা নিশ্চিত ভাবেই যদি হুরমতে মুসাহারাত এর সমস্ত শর্ত পাওয়া যায়,তাহলে এটি তার বাবা মা যদি না জানে,তাহলে এক্ষেত্রে ওযরর বিল জাহালত গ্রহণযোগ্য।

পিতামাতার বিবাহ বিচ্ছেদ হবে,তবে পিতামাতার গুনাহ হবেনা,কেননা তারা জানেনা।
তাই আল্লাহ তায়ালা তাদের মাফ করবেন। 
ছেলের গুনাহ হবে। ছেলের গুনাহ হলে তা খালেছ দিলে তাওবার পাশাপাশি পিতামাতাকে বিষয়টি জানানোর মাধ্যমে ক্ষমা পাওয়া সম্ভব।

(০৫)
ছেলেটির নিশ্চিত না হওয়ায় যেহেতু হুরমতে মুসাহারাত প্রমাণিত হচ্ছেনা,তাই এক্ষেত্রে খালেছ দিলে তওবা করলে তার গুনাহ মাফ হবে,ইনশাআল্লাহ। 
,
(০৬)
এক্ষেত্রেও হুরমত সাব্যস্ত হবেনা।
ছেলেটির জন্য এহেন ঔষধ খাওয়া শরীয়ত বহির্ভূত কাজ বলে গন্য।
কোনোদিন আর এহেন কাজ করবেনা।
,
(৭.৮.৯)
না,এতে ইসলাম ধর্ম থেকে বের হয়ে যাবেননা      

(১০)
তার পিতা, মাতার সাথে তার আচরণ সাধারণ পিতা মাতার মতোই করতে হবে।
তার পিতা মাতা তার পিতা মাতা হিসেবেই থাকবে।
শুধু তার বাবা মার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাবে।  
তাদের ঘর সংসার নাজায়েজ হবে।  


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...