0 votes
33 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (53 points)
আসসালামুআলাইকুম,

হুজুর মোহর নিয়ে আমার মধ্যে কিছু কনফিউশন কাজ করছে,বর্তমানে বিয়েতে মোহর কম নির্ধারণে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে মোহর কম হওয়ার কারনে অনেকের কাছেই বিয়েটা ছেলেখেলা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।আর লিভ ইন রিলেশনশিপ ও বিয়ের মধ্যে আসলে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হলো মোহর নির্ধারণ। কারন বিয়েতে মোহরের বিধানের জন্যই বিয়ের সম্পর্কটা  ছেলেখেলার পর্যায়ে থাকে না।
১)রসুল(সাঃ) বলেছেন মোহরকে সহজ করতে এবং আমিও এ বিষয়ে একমত কিন্তু মোহর সহজ করার অর্থ তো শরীয়তের মোহরের বিধানকে হেলাফেলা করা নয় বরং এই পরিমাণ মোহর দেয়া যাতে স্ত্রীর সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকে ও স্বামীর প্রতিও জুলুম না হয়ে যায়।আমার এই চিন্তাধারা কি ঠিক আছে?

২) বর্তমানে মোহরে ফাতেমি কে রুপার মুল্য দ্বারা হিসাব করা হয় কিন্তু রূপার মুল্য তো রাসুল(সাঃ) এর সময়ের তুলনায় বর্তমানে অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে তাহলে কী বর্তমানে মোহরে ফাতেমির হিসাব সঠিক হয়?

৩)আর মোহর কিছু পরিশোধ করে কিছু বাকি রাখা কি শরীয়াহসম্মত? এবং সুন্নাহ?ধরেন আমার এখন যেই পরিমান মোহর আদায়ের সামর্থ্য আছে যাতে স্ত্রীর মর্যাদা পরিপূর্ণ রক্ষা হয় না কিন্তু কয়েক বছর সময় পেলে এমন মোহর আদায় করতে পারব যাতে স্ত্রীর সম্মান রক্ষা হয় ।তো বিয়ের সময় কি আমি কাবিননামায় উল্লেখ করতে পারব যে এখন নগদে এত পরিশোধ করলাম আর এত বছর পর এত পরিশোধ করব,এভাবে শর্ত দেয়া লেখা জায়েজ হবে কি?এটা কি উত্তম হবে নাকি অনুচিত হবে?

৪)আর মোহর কি ছেলের সামর্থ্য অনুযায়ী হবে নাকি ছেলের পারিবারিক স্ট্যাটাস অনুযায়ী হবে? নাকি মেয়ের পারিবারিক স্ট্যাটাস অনুযায়ী হবে?

৫) মোহরে মিছিল নির্ধারণের পদ্ধতি কি?

৬) আর ধরেন বিয়ের সময় মোহর নির্ধারিত হল ১০ লাখ টাকা আর আমি আকদে তাদের সম্মতিতে শোধ করলাম ৩ লাখ টাকার পরিমান গহনা ।আর কাবিননামায় শর্ত দিলাম যে ৫ বছরের মধ্যে বাকিটা শোধ করব ইনশাআল্লাহ।আর পাঁচ বছর পর সেই স্বর্ণের দাম হয়ে গেল ৫ লাখ টাকা তাহলে কি ৫ বছর পর ৫ লাখ শোধ করবো নাকি ৭ লাখ?

৭) আর পাত্রীর সম্মানের দিকে লক্ষ্য রেখে উচ্চ মোহর ধরে পরিবারের কাছে ধার করে মোহর আদায় করা যাবে কি?

1 Answer

0 votes
by (213,760 points)
edited by
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 


(০১)
হ্যাঁ আপনার চিন্তাধারা ঠিক আছে।
,
(০২)
 হ্যাঁ সঠিক হয়।
উলামায়ে কেরামগন এই ব্যাপারে এই মতই প্রদান করেছেন।

(০৩)
স্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে মোহর কিছু দেওয়া কিছু বাকি রাখা শরীয়ত সম্মত। 
তবে এটি সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নয়।
,
পবিত্র কুরআন শরীফে এসেছে  
আল্লাহ তায়ালা বলেন 
وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً ۚ فَإِن طِبْنَ لَكُمْ عَن شَيْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَّرِيئًا [٤:٤] 
আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও খুশীমনে। তারা যদি খুশী হয়ে তা থেকে অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর। [সূরা নিসা-৪] 


فَمَا اسْتَمْتَعْتُم بِهِ مِنْهُنَّ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُم بِهِ مِن بَعْدِ الْفَرِيضَةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا [٤:٢٤] 
অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা গ্রহণ করবে,তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ। [সূরা নিসা-২৪] 
,
★আলোচ্য আয়াত দ্বারা একথা স্পষ্ট হয় যে যদি মোহরানা নির্ধারন হওয়ার পর স্ত্রী যদি (মোহরানা মাফ করে দেওয়া বা কম করে দেওয়া বা বাকি রেখে অন্য সময়ে দেওয়া) কোনো বিষয়ের উপর স্বামীর সাথে একমত হয়, তাহলে কোনো সমস্যা নেই।   
সুতরাং স্ত্রীর সম্মতিতে মোহরানা বাকি রাখা জায়েজ আছে।     

لَا خِلَافَ لِأَحَدٍ أَنَّ تَأْجِيلَ الْمَهْرِ إلَى غَايَةٍ مَعْلُومَةٍ نَحْوَ شَهْرٍ أَوْ سَنَةٍ صَحِيحٌ وَإِنْ كَانَ لَا إلَى غَايَةٍ مَعْلُومَةٍ فَقَدْ اخْتَلَفَ الْمَشَايِخُ فِيهِ قَالَ بَعْضُهُمْ يَصِحُّ وَهُوَ الصَّحِيحُ وَهَذَا؛ لِأَنَّ الْغَايَةَ مَعْلُومَةٌ فِي نَفْسِهَا وَهُوَ الطَّلَاقُ أَوْ الْمَوْتُ أَلَا يَرَى أَنَّ تَأْجِيلَ الْبَعْضِ صَحِيحٌ، وَإِنْ لَمْ يَنُصَّا عَلَى غَايَةٍ مَعْلُومَةٍ، كَذَا فِي الْمُحِيطِ.

এ বিষয়ে কারো কোনো মতভেদ নেই যে,নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধযোগ্য সম্পূর্ণ মহরকে বাকী রাখা জায়েয।যেমনঃ- এক মাস বা এক বৎসর।কিন্তু যদি নির্দিষ্ট দিন-তারিখ উল্লেখ না থাকে, তাহলে এ সম্পর্কে উলামায়ে কেরামদের মতবিরোধ রয়েছে,কিছুসংখ্যক উলামায়ে কেরাম জায়েয বলে থাকেন।এটাই বিশুদ্ধ মত।কেননা বাস্তবে একটি দিন-তারিখ অবশ্যই নির্দিষ্ট রয়েছে।আর ইহা হল,তালাক বা মৃত্যু।কেননা দিন-তারিখ উল্লেখ ব্যতীত মহরের কিছু অংশ বাকী রাখা জায়েয[মুহিত]
(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৩১৮)

★★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
স্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে  এভাবে শর্ত দিয়ে লেখা জায়েজ হবে।   
স্ত্রীর অনুমতি থাকলে অনুচিত হবেনা।
তবে উত্তম হলো একেবারে নগদ পরিশোধ করে দেওয়া।
,
(০৪)
মোহর ছেলের সামর্থ্য আর মেয়ের পারিবারিক স্ট্যাটাস এর সমন্বয়ে হবে। 
,
(০৫)
মোহরে মিছিল হল, স্ত্রীর পিতার দিকের বিবাহিতা মহিলা আত্মীয় অর্থাৎ বোন, ফুফু ও চাচাতো বোনদের মধ্যে যারা দ্বীনদারী, বয়স, সৌন্দর্য, গুণাবলি, বংশ মর্যাদা ও জ্ঞান-গরিমা ইত্যাদিতে তার মতো হয় তাদের মোহরের অনুপাতে অনুরূপ মোহর নির্ধারণ করা।
,
আরো জানুনঃ
,
(০৬)
৭ লাখ শোধ করতে হবে।
তবে স্ত্রী রাজি থাকলে কমিয়ে তার সন্তুষ্টি চিত্তে তার কথা মোতাবেক কমিয়ে দিতে পারেন।
,
(০৭)
হ্যাঁ, যাবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...