0 votes
32 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম , একজন শ্রদ্ধেয় আপুর পক্ষ থেকে প্রশ্নটি করছি। আপু ঠিক যেভাবে বর্ননা দিয়েছেন সেভাবে বলেছিঃ

আমার হাজবেন্ড এবং আমি কথা বলছিলাম ফোনে প্রায় রাত ১২   টার সময়। আজ সারাদিন সে ব্যস্ত ছিল এবং  আমার সাথে অল্প কথা হয়েছে। তো আমার রাগ হয় এবংং তার সাথে অভিমান করে    কথা বলি, তবে কোন প্রকারের ঝগড়া হয় নি। তো, কথা বলতে বলতে এমনিতেই তাকে জিজ্ঞেস করলাম, "তুমি আমার সাথে কথা বল কেন?" ও উত্তর দিছে, "ছেড়ে দেবার জন্য"। সাথে সাথেই আমি ওরে জিজ্ঞেস করলাম, কি বল্লে তুমি এটা, ও বলছে, কই কি বলছি। এবং ও সাথে সাথেই ভুলে গেছে ও যে কথাটা বলছে। আমার ধারণা ও অন্যমনষ্ক ছিল। ভুলবশত কথাটা মুখ দিয়ে বের হই গেছে। ও যে কথাটা বলছে   আমি স্পষ্ট শুনছি কিন্তু তার মনেই নাই, সে সাথে সাথে আল্লাহর কছম করে বলছে সে এরকম কিছুই বলেনি। এখন এখানে আমার ২ টা প্রশ্ন আছে প্লিজ, আমি যেভাবে ১,২ আকারে প্রশ্ন করব ওইভাবে উত্তর দিবে,  এটা আমার অনুরোধঃঃ

১. উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে ও যে বলছে, ছেডে দেবার জন্য, এটা যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে বলে থাকে এবং তার যদি সম্পুর্ন হুশ জ্ঞান ঠিক থেকে থাকে ওই মূহুর্তে  তাহলে কি তালাক হবার সম্ভাবনা আছে?
২. উপরের কথাটা (ছেড়ে দেবার জন্য) যদি বলার সময় সত্যিই সে অন্যমনস্ক থাকে   , সে কি বলছে এ দিকে তার মমনোযোগ ই ছিল না, হঠাৎ মুখ ফসকে বের হয়ে গেছে, তাহলে কি তালাক হবার সম্ভাবনা আছে?

আপনি ২ টা প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েন প্লিজ। সবটুকু আলোচনায় তালাকের বিন্দুমাত্র কোন আলামতই ছিল না।

1 Answer

0 votes
by (15,000 points)

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

যদি কেউ স্ত্রীকে কেনায়া তালাকের কথা বলে এবং তালাকের নিয়ত করে, তবে স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে। আর যদি তালাকের নিয়ত না করে তাহলে তালাক হবে না। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া, ১/৩৭৫)

হেদায়া গ্রন্থে আছেঃ

وَالضَّرْبُ الثَّانِي: الْکِنَايَاتُ، وَلاَيَقَعُ بهَا الطلاَقُ إلاَّبِنِيَةٍ، اَوْ دَلالَةٍ حَالٍ. وَهِيَ عَلَی ضَرْبَيْنِ: مَنْها ثَلاَثَةُ اَلْفَاظٍ يَقَعُ بهَا الطّلاقُ الرَّجْعِيُّ،وَلاَيَقَعُ بهَا إِلا وَاحَدَةٌ، وَهِيَ قَوْلُهُ: اعْتَدِّي، وَاسْتَبْرِئِي رَحِمَکِ، وَاَنْتِ وَاحِدَةٌ، وَبَقِيَةُ الْکِنَايَاتِ إِذا نَوَی بهَا الطلاَقَ کَانَتْ وَاحِدَةً بَائِنَةً، وَإِنْ نَوَی بِهَا ثَلاَثاً کَانَتْ ثَلاَثاً، وَإِنْ نَوَی اثْنَتَيْنِ کَانَتْ وَاحِدَةً، وَهَذَا مِثْلُ قَوْلِهِ: اَنْتِ بَائِنٌ، وَبَتَّةٌ، وَبَتْلَةٌ، وَحَرَامٌ، وَحَبْلُکِ عَلَی غَارِبِکِ، وَالْحَقی بِاَهْلِک، وَخَلِيَةٌ، وَبَرِيّةٌ، وَوَهَبْتُکِ لاهْلِکِ، وَسَرَّحْتُکِ، وَاخْتَارِيْ، وَفارَقْتُکِ، وَاَنْتِ حُرَّةٌ، وَتَقَنَّعِي، وَتَخَمَّرِي، وَاسْتَتِرِيْ، وَاغْرُبِيْ، وَابْتَغِي الاَزْوَاجَ، فَإِنْ لَمْ يَکُنْ لَهُ نِيَةٌ لَمْ يَقَعْ بِهٰذِهِ الاَلْفَاظِ طَلاَقٌ؛ إِلا اَنْ يَکُوْنَا فِيْ مُذَاکَرَةِ الطّلاَقِ؛ فَيَقَعُ بِهَا الطّلاَقُ فِيْ الْقَضَاءِ، وَلاَيَقَعُ فِيْمَابَيْنَةُ وَبَيْنَ اﷲِ تَعَالَی إِلاَّ اَنْ يَنْوِيَهُ، وَإِنْ لَمْ يَکُوْنَا فِيْ مَذَاکَرَةِ الطّلاَقِ، وَکَانافِيْ غَضَبٍ اَوْ خُصُوْمَةٍ، وَقَعَ الطّلاَقُ بِکُلِّ لَفْظٍ لاَ يُقْصَدُ بِهِ السَّبُّ وَالشَّتِيْمَةُ، وَلَمْ يَقَعْ بِمَا يُقْصَدُبِهِ السَّبُّ وَالشَّتِيْمَةُ إِلاَّ اَنْ يَنْوِيَةُ.

احمد بن محمد البغدادي المعروف بالقدوري، مختصر القدوري363. 364، موسسة الريان للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت
برهان الدين علي المرغيناني، الهداية شرح البداية، 1: 241، المکتبة الاسلامية

সারমর্মঃ 
কেহ যদি তার স্ত্রীকে বলে যে তোমাকে আমি ছেড়ে  দিলাম, যা খুশি তাই করো,তুমি মুক্ত, তুমি স্বাধীন, তুমি স্বামী খুজো,বা স্বামী তালাশ করো,তাহলে এটিও কেনায়া তালাক।
কেনায়া তালাক হলো ইঙ্গিতসূচক শব্দ দ্বারা যেটা হয়।
কেনায়া তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত তথা তালাকের ইচ্ছা থাকা অত্যাবশ্যক। আর কেনায়া তালাক দ্বারা এক তালাকে বায়েন পতিত হয়

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বর্ণিত রয়েছে,

وفي حالة الغضب يصدق في جميع ذلك لاحتمال الرد والسب إلا فيما يصلح للطلاق ولا يصلح للرد والشتم كقوله اعتدي واختاري وأمرك بيدك فإنه لا يصدق فيها كذا في الهداية...............  وفي الينابيع ألحق أبو يوسف - رحمه الله تعالى - بالخمسة ستة أخرى وهي الأربعة المتقدمة وزاد خالعتك والحقي بأهلك هكذا في غاية السروجي.

রাগের অবস্থাঃ-
রাগের অবস্থায় স্বামী তালাকের নিয়তকে অস্বীকার করলে স্বামীর উক্ত বক্তব্য-কে সত্যায়ন করা হবে।কেননা সেই শব্দ সমূহে গালিগালাজ ও স্ত্রীর তালাকের আবেদন-কে  ফিরিয়ে দেয়ার অর্থ বিদ্যমান রয়েছে।

তবে যেই সমস্ত শব্দাবলীতে শুধুমাত্র তালাকের অর্থ বিদ্যমান রয়েছে।গালিগালাজ বা (স্ত্রীর তালাকের আবেদন) ফিরিয়ে দেয়ার অর্থ বিদ্যমান না থাকে,তাহলে সেই সমস্ত শব্দাবলীর বেলায় স্বামীর অস্বীকার-কে সত্যায়ন করা হবে না।বরং তালাক পতিত হবে।

যেমন- তুমি ইদ্দত গণনা করো,তুমি পছন্দ করো,তোমার বিষয় তোমার হাতে, ইত্যাদি।সুতরাং এমন শব্দাবলীর বেলায় স্বামীর অস্বীকারকে সত্যায়ন করা যাবে না,বরং তালাক পতিত হবে। (হেদায়া) ইমাম আবু ইউসুফ রাহ পূর্ববর্তী পাঁচের সাথে আরো দুইটি শব্দ সংযোগ করেন,তখন সর্বমোট ছয়টি শব্দ হয়। সেই দুইটি হল,আমি তোমার সাথে খোলা করলাম,তুমি তোমার পরিবারবর্গের সাথে মিলিত হয়ে যাও। (গায়াতুস-সুরুজী)

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৩৭৫

কেনায়া বাক্যের উদাহরণ অনেক রয়েছেঃ
তোমাকে আমি ছেড়ে দিলাম।
যা খুশি তাই করো।
তুমি মুক্ত।
তুমি খালি।
তুমি স্বাধীন।
তুমি ইদ্দত গণনা করো।
তুমি পছন্দ করো।
তোমার বিষয় তোমার হাতে।
তুমি স্বামী খুজো।
তুমি স্বামী তালাশ করো।
তোমার রশি তোমার ঘাড়ে।
তুমি তোমার পরিবারের সাথে যুক্ত হও।
আমি তোমার পরিবারের কাছে তোমাকে দিয়ে দিলাম।
আমি তোমাকে বিচ্ছিন্ন করে দিলাম।
তুমি আমার সামনে পর্দা করো।
তুমি আমার সামনে খিমার পরিধান করো,চেহারা ঢাকো
ইত্যাদি ইত্যাদি।  
আরো জানুনঃ
https://ifatwa.info/7162/
https://ifatwa.info/7406/

 

প্রশ্নকারী প্রিয় বোন/ ভাই!


১. প্রশ্নেল্লিখিত বিবরণ অনুযায়ী তার উপর কোনো তালাক পতিত হবে না। কারণ,আপনার কথানুযায়ী তার হাসবেন্ডের থেকে তালাকের নিয়ত পাওয়া যায়নি। এছাড়াও ছেড়ে দিলাম বা দিয়েছি এরকম বাক্যও বলেনি। বরং বলেছে যে, ছেড়ে দেবার জন্য । বিধায় তাদের তালাক হবে না। তবে পরবর্তীতে সতর্কতা অবলম্বন করবে, যেন দাম্পত্য জীবনে চলার পথে অভিমান করে হলেও এজাতীয় স্পর্শকাতর শব্দ ব্যবহার না করে।

 

২. না, ইচ্ছাকৃত ভাবে বললেও তালাক হবে না। কারণ, সে ‘ছেড়ে দিলাম’ বা দিয়েছি এরকম বাক্য বলেনি। বরং বলেছে যে, ছেড়ে দেবার জন্য। আর এই বাক্য দ্বারা কোনো তালাক হয় না।

 

৩. না, কোনো তালাক হওয়ার সম্ভাবনা নেই।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...