0 votes
34 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (9 points)

আসসালামু আলাইকুম উস্তাদ। আশাকরি ভালো আছেন। মোহরানা বিষয়ে আমার একটা প্রশ্ন ছিল। আমি একটু বিস্তারিত লিখলাম। আশাকরি আপনাদের কাছ থেকে সঠিক পরামর্শ পাবো। জাযাকাল্লাহ খায়ের। 

পাত্র পক্ষ পাত্রীকে ৬+ ভরি স্বর্ণ আর নগদ ১০০০০ টাকা মোহরানা হিসাবে দিবে আর পাত্রীর শপিং (জামা-কাপড়) হাদিয়া হিসেবে বিয়েতে দিবে। কিন্তু পাত্রী পক্ষের পরিবার বলেছে, পাত্র মোহরানা হিসাবে পাত্রীকে নগদ টাকা আর যেই স্বর্ণ দিবে সেটা যেনো টাকায় কনভার্ট করে মোহরানা মোট ৩৭০০০০ টাকা উল্লেখ করে (প্রতি ভরি স্বর্ণ ৬০০০০ টাকা করে)। এই পর্যন্ত পাত্র এবং পাত্রী উভয়পক্ষের কোন সমস্যা ছিল না।  কিন্তু পরবর্তীতে পাত্র পক্ষকে জানানো হয়,পাত্রী পক্ষের আত্মীয়স্বজনের সামাজিকতার দাবী  ১০লক্ষ টাকা মোহরানা। কিন্তু পরে তারা ১০ লক্ষ থেকে কমিয়ে ৬ লক্ষ টাকা কাবিন মানায় উল্লেখ  করার কথা বলে। এখানে ৩৬০০০০ (স্বর্ণ)  + ১০'০০০(নগদ) মোট ৩৭০০০০ টাকা উসুুুল দিয়ে, ২৩০০০০ টাকা বাকি রাখার কথা বলে। সাথে তারা এটাও বলে কাবিনমানায় বাকী ২৩০০০০ টাকা দেওয়া প্রয়োজন নাই। কিন্তু পাত্র পাত্রী পক্ষের এই প্রস্থাবে রাজি না। পাত্র মোহরানার এক টাকা বাকি রাখবে না, যা দিবে তা পুরোটাই নগদ দিবে। এমন পরিস্থিতে একজন ভাই পরামর্শ দেয় যে, পাত্রী পক্ষ কাবিন নামায় যেই টাকা বাকী রাখার কথা বলে ছিল সেই টাকা তাওয়িল (ব্যাখ্যা) করে  উসুল দেখাতে। কারন পাত্রীরা সামিজিকতার কারনে বেশি টাকা উল্লেখ করতে চায় কিন্তু তাদের বাকী টাকার প্রয়োজন নেই। তার পরামর্শ অনুযায়ী মোহরানা হবে, ৩৬০০০০ (স্বর্ণ)  + ১০০০০(নগদ) + ৩০০০০ শপিং + ২০০০০০ (একটি বই) = মোট ৬০০০০০ টাকা উসুল আর এক টাকাও বাকি থাকবে না। পাত্রী পক্ষের এভাবে তাওয়িল করে কাবিন নামায় মোট ৬ লক্ষ টাকা নগদ লিখাতে কোন আপত্তি নাই।  

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে একটি সাধারণ বইয়ের দাম তাওয়িল করে ২ লক্ষ ধরে মোট ৬লক্ষ  টাকা দেখানো কি ইসলামী শরীয়া সম্মত হবে নাকি এতে ইসলামী শরীয়তের লঙ্ঘন হবে?

আর যদি এখানে ইসলামী শরীয়তের লঙ্ঘন হয় তাহলে কিভাবে মোহরানা ধরা যেতে পারে?

1 Answer

0 votes
by (224,080 points)
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 


পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন-

فَمَا اسْتَمْتَعْتُم بِهِ مِنْهُنَّ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُم بِهِ مِن بَعْدِ الْفَرِيضَةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا

অতএব তাদের নিকট থেকে তোমরা যে আনন্দ উপভোগ করেছ (সে কারণে) তাদের ধার্যকৃত মোহর তাদেরকে প্রদান করবে। আর মোহর নির্ধারিত থাকার পরও কোনো বিষয়ে পরস্পর সম্মত হলে তাতে তোমাদের কোনো অপরাধ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সূরা নিসা : ২৪)

অন্যত্র তিনি বলেন-
وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً ۚ فَإِن طِبْنَ لَكُمْ عَن شَيْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَّرِيئًا

এবং তোমরা নারীদেরকে দাও তাদের মোহর খুশিমনে। এরপর তারা যদি স্বেচ্ছায় স্বাগ্রহে ছেড়ে দেয় কিছু অংশ তোমাদের জন্য তাহলে তা স্বচ্ছন্দে ভোগ কর।(সূরা নিসা : ৪)
.
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে,
আয়াতে ‘হষ্টচিত্তে’ প্রদানের শর্ত আরোপ করার পেছনে গভীর তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। কেননা, মাহর স্ত্রীর অধিকার এবং তার নিজস্ব সম্পদ হৃষ্টচিত্তে যদি সে তা কাউকে না দেয় বা দাবী ত্যাগ না করে, তবে স্বামী বা অভিভাবকের পক্ষে সে সম্পদ কোন অবস্থাতেই হালাল হবে না। 

★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন, 
মোহরানার টাকার মধ্যে শপিং এর টাকা ধরা যাবেনা।
উল্লেখিত তাওয়িল জায়েজ নেই।
,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ৬ লক্ষ টাকা মোহরানা ধার্য করে তা থেকে নগদ কিছু টাকা দিয়ে যাহা কিছু বাকি রাখবে,তার সম্পূর্ণই স্ত্রী পাওয়ার হকদার।
পরবর্তীতে হলেও তাহা আদায় করতে হবে।
,
এক্ষেত্রে কোনো তাওয়িল শরীয়তে জায়েজ হবেনা।
হ্যাঁ যদি স্ত্রী সন্তুষ্টি চিত্তে মাফ করে দেয়,সেটি ভিন্ন কথা।
সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে বিবাহ পড়ানোর সময় যাহা কিছুই মোহরানা হিসেবে বলা হবে/লেখা হবে,তার পুরাটাই মোহরানা হিসেবে গন্য হবে।
যাহা বাকি থাকবে,তাহাও পরবর্তীতে আদায় করতেই হবে।
,
যদি স্ত্রী সন্তুষ্টি চিত্তে মাফ করে দেয় বা কমিয়ে দেয়,তাহলে মোহরানার বাকি অংশ মাফ/কমিয়ে যাবে।অন্য কোনো তাওয়িল করে বিবাহের সময়ে ধার্য্যকৃত মোহরানা কমানোর কোনো সুযোগ নেই। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...