আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
204 views
in পবিত্রতা (Purity) by (101 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ
১.ফরজ গোসল করার জন্য বাইরে থেকে বিসমিল্লাহ বলে ওয়াশরুমে যাওয়ার পর গোসল করার আগেই ওজু ভাঙার কোনো কারণ হয় বা প্রসাব/পায়খানার প্রয়োজন হলে তখন  আবার বিসমিল্লাহ বলে ফরজ গোসল শুরু করতে হয়!  কিন্তু ওয়াশরুমের ভিতরে বিসমিল্লাহ বলা যায় না আর মনে মনে বললেও মাখরাজ ঠিকমতো হচ্ছে কিনা সন্দেহ থাকে বা হয় না! সেক্ষেত্রে কিভাবে ফরজ গোসল করা যাবে?

[ যেহেতু গোসলে কাপড় ধুতে হয় তাই বাইরে থেকে  বিসমিল্লাহ বলে গেলেও কাপড় ধুয়ে গোসল করতে করতে তার মাঝে ওজু ভাঙার কারন হয়ে যায় ]

২. গরগরা সহ এমন ভাবে কুলি করতে হবে যেন কিছুটা পানি গলার ভিতরে যায়!  এটা কিভাবে করবো!  গরগরা করার সময় ইচ্ছা করেই সামান্য পানি খেয়ে ফেলার মতো গলার ভিতরে নেই আর সাথে সাথে সামান্য কাশি দেয়ার মতো করে  সেই পানি ফেলে দেই! এভাবে হবে?
৩. নাকের নরম অংশে পানি পৌছানো বলতে নাকের কতটা ভিতরে পানি প্রবেশ করাতে বলেছে?  নাকের ভিতরে নরম জায়গা পর্যন্ত কোন জায়গা, মানে নাকের ভিতরের সম্পুর্ন অংশে?
৪. ফরজ গোসল করার মাঝে সন্দেহ হয় যে ওজু ভেঙে গেলো কিনা, তখন কি আবার নতুন করে ফরজ গোসল করে নিবো?

৫. মেয়েদের গোপনাঙ্গের লোম পরিস্কার করার ক্ষেত্রে  সামনের দিকে লজ্জাস্থানের লোম যতটা দেখা যায় তা পরিস্কার করলেই হবে নাকি মলদ্বারের আশেপাশের লোমও পরিস্কার করতে হবে?  মলদ্বারে তো স্বাভাবিক লোম থাকে আর কখনো পরিস্কারও করি নি, দেখাও যায় না, সেগুলো পরিস্কার করা কি জরুরি?!  দেখা যায় না যেহেতু পরিস্কার করাও তো সম্ভব না,  কোথায় আছে, কেমন আছে তাও জানি না, কেটে যাওয়ার ও সম্ভাবনা থাকে, কিভাবে করবে পরিস্কার!  শুধুমাত্র সামনের লজ্জাস্থানের লোম পরিস্কার করে পবিত্র থাকা যাবে না?
জাযাকাল্লাহু খইরন

1 Answer

0 votes
by (607,050 points)
edited by
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 


(০১)
আর বিসমিল্লাহ পড়তে হবেনা।
,
(০২)
হাদীস শরীফে রাসুল সাঃ এর ফরজ গোসলের পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে।     

حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ مَيْمُونَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ، فَغَسَلَ فَرْجَهُ بِيَدِهِ، ثُمَّ دَلَكَ بِهَا الْحَائِطَ ثُمَّ غَسَلَهَا، ثُمَّ تَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ غُسْلِهِ غَسَلَ رِجْلَيْهِ.

মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্রতার গোসল করলেন। তিনি নিজের লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেললেন। তারপর হাত দেয়ালে ঘষলেন এবং তা ধুলেন। তারপর সালাতের উযূর ন্যায় উযূ করলেন। গোসল শেষ করে তিনি তাঁর দু’পা ধুয়ে নিলেন। (বুখারী ২৬০২৪৯ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৮)
,
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَتْ مَيْمُونَةُ وَضَعْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَاءً لِلْغُسْلِ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا، ثُمَّ أَفْرَغَ عَلَى شِمَالِهِ فَغَسَلَ مَذَاكِيرَهُ، ثُمَّ مَسَحَ يَدَهُ بِالأَرْضِ، ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ، ثُمَّ أَفَاضَ عَلَى جَسَدِهِ، ثُمَّ تَحَوَّلَ مِنْ مَكَانِهِ فَغَسَلَ قَدَمَيْهِ

ইবনু ‘আববাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাইমূনাহ্ (রাযি.) বলেনঃ আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম। তিনি তাঁর হাত দু’বার বা তিনবার ধুয়ে নিলেন। পরে তাঁর বাম হাতে পানি নিয়ে তাঁর লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেললেন। তারপর মাটিতে হাত ঘষলেন। তারপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, তাঁর চেহারা ও দু’হাত ধুয়ে নিলেন। অতঃপর তাঁর সারা দেহে পানি ঢাললেন। তারপর একটু সরে গিয়ে দু’পা ধুয়ে নিলেন। (বুখারী ২৫৭,২৪৯ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৫)
,
ফরজ গোসলের নিয়ম সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ 
,
★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
ফরজ গোসলে কুলি, নাকে পানি দেওয়া,আর সমস্ত শরীরে পানি ঢেলে দিলেই যথেষ্ট। 
বাকি যেসব নিয়ম বলা হয়,সেগুলো সুন্নাত,মুস্তাহাব।
সেই নিয়ম গুলো সহ আদায় করাই উচিত। 
,
★গড়গড়িয়ে কুলি করা ফরজ নয়,তাই প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে যদি গড়গড়িয়ে কুলি নাও করা হয়,স্বাভাবিক ভাব কুলি করে গোসল করলেও গোসল আদায় হয়ে যাবে।
অযুর ক্ষেত্রেও একই বিধান।
যদি অযুতে গড়গড়িয়ে কুলি নাও করা হয়,স্বাভাবিক ভাব কুলি করে অযু করলেও অযু হয়ে যাবে।
,
★প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে গড়গড়িয়ে কুলি হয়ে যাবে।
গলার ভিতর পানি না গেলেও সমস্যা নেই।  
,
(০৩)
নাকের ভিতর অগ্রভাগে কিছু শক্ত জায়গা আছে,তার পরেই নরম স্থাম,হাত দিলেই বুঝা যায়।
পানি দ্বারা হাতের আঙ্গুল ভিজিয়ে সেই আঙ্গুল সেই নরম স্থানে পৌছালে সুবিধা হবে।
কেহ এমনট না করে এমনিতেই নাকে সামান্য পানি দিলেও ফরজ গোসল আদায় হয়ে যাবে।
,
(০৪)
শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে অযু করতে হবেনা।
,
(০৫)
এক্ষেত্রে সেটি দেখা না গেলেও হাত তো পৌছে,তাই মলমের সাহায্য নিয়ে বা অন্য কোনোভাবে সেটি পরিস্কার করবেন। 
চেষ্টার পরেও কিছু থেকে গেলে সমস্যা নেই।

বিস্তারিত  জানুনঃ 

অবাঞ্চিত লোমের সীমানা সম্পর্কে জানুনঃ


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 473 views
+1 vote
1 answer 539 views
...