আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির মূলত রুকইয়ার চিকিৎসা প্রয়োজন। রুকইয়া ট্রেনিংয়ের জন্য— এখানে ক্লিক করুন

0 votes
457 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
reopened by
ছোট ভাইয়ের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে

জীবিত আছেন -স্ত্রী,মা, তিন বোন, এক ভাই(সন্তান-১ মেয়ে)

ম ৃত আছেন -এক ভাই(সন্তান ২ ছেলে,১ মেয়ে)

1 Answer

+1 vote
by (784,260 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
মানুষ মারা যারা পর সর্বপ্রথম তার সম্পত্তি থেকে তার কাপন দাফন করা হবে। অতঃপর তার কোনো ঋণ থাকলে সেই ঋণ পরিশোধ করা হবে। প্রয়োজনে তার ওয়ারিছদের কাছ থেকে নিয়ে এসেও ঋণ পরিশোধ করা হবে। অতঃপর তার কোনো অসিয়ত থাকলে সেই অসিয়তকে তার এক তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে পূর্ণ করা হবে। অতঃপর তার স্থাবর অস্থাবর সকল প্রকার সম্পদকে তার ওয়ারিছদের মধ্যে বন্টন করা হবে।

قَالَ عُلَمَاؤُنَا رَحِمَهُمُ اللَّهُ تَعَالَى تَتَعَلَّقُ بِتَرَكَةِ الْمَيِّتِ حُقُوقُ أَرْبَعَةٌ مُرَتَّبَةٌ الْأَوَّلُ يُبْدَأُ بِتَكْفِيْنِهِ وَتَجْهِيزِهِ مِنْ غَيْرِ تَبْذِيرٍ وَلَا تَقْتِيْرٍ ثُمَّ تُقْضَى دُيُونُهُ مِنْ جَمِيعِ مَا بَقِيَ مِنْ مَالِهِ ثُمَّ تُنْفَذُ وَصَايَاهُ مِنْ ثُلُثِ مَا بَقِيَ بَعْدَ الدَّيْنِ ثُمَّ يُقَسَّمُ الْبَاقِي بَيْنَ وَرَثَتِهِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَإِجْمَاعِ الْأُمَّةِ .
আমাদের হানাফী আলিমগণ বলেছেন, মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পদের সাথে ধারাবাহিকভাবে চারটি হক সম্পর্কিত হয়। প্রথমত অপব্যয় ও কার্পণ্য ব্যতীত মধ্যপন্থায় তার কাফন ও দাফনকার্য সম্পাদন করা হবে। দ্বিতীয়ত তার অবশিষ্ট সমুদয় সম্পদ হতে তার ঋণসমূহ পরিশোধ করা হবে। তৃতীয়ত ঋণ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ হতে তার অসিয়ত পূরণ করা হবে। চতুর্থত তার অবশিষ্ট সম্পদকে তার ওয়ারিশগণের মধ্যে কিতাবুল্লাহ, সুন্নাতে রাসূল ও ইজমায়ে উম্মতের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বণ্টন করা হবে।(সিরাজী) 

فَيُبْدَأُ بِأَصْحَابِ الْفَرَائِضِ وَهُمُ الَّذِينَ لَهُمْ سِهَامُ مُقَدَّرَةٌ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى ثُمَّ بِالْعَصَبَاتِ مِنْ جِهَةِ النَّسَبِ وَالْعَصَبَةُ كُلُّ مَنْ يَأْخُذُ مَا أَبْقَتْهُ أَصْحَابُ الْفَرَائِضِ وَعِنْدَ الْانْفِرَادِ يُحْرِزُ جَمِيعَ الْمَالِ ثُمَّ بالعصبة مِن جِهَةِ السَّبَبِ وَهُوَ مَوْلَى الْعَتَاقَةِ ثُمَّ عَصَبَتِهِ عَلَى التَّرْتِيْبِ ثُمَّ الرد على ذَوِي الْفُرُوضِ النَّسَبِيَّةِ بِقَدْرِ حُقوقِهِمْ ثُمَّ ذَوِي الْأَرْحَامِ .ثُمَّ مَوْلَى الْمَوَالَاةِ ثُمَّ الْمُقِرِ لَهُ
بالنسب عَلَى الْغَيْرِ بِحَيْثُ لَمْ يَقْبُتْ نسبه باقرارِهِ مِنْ ذَلِكَ الْغَيْرِ إِذَا مَاتَ الْمُبَرُ عَلَى أَقْرَارِهِ ثُمَّ الْمُوْضِى لَهُ بِجَمِيعِ . المالِ ثُمَّ بَيْتَ الْمَالِ -
অতঃপর মিরাস বণ্টনের কাজ
প্রথমে যাবিল ফুরূযগণ হতে আরম্ভ করা হবে। আর তারা হলো সেই সমস্ত উত্তরাধিকারীগণ যাদের জন্য নির্ধারিত অংশ কিতাবুল্লহের মধ্যে নির্ধারিত রয়েছে। অতঃপর বংশগত অসাবাগণের মধ্যে মিরাস বণ্টন করা হবে। আর আসাবা বা অবশিষ্টাংশ ভোগী বলতে সে সকল উত্তরাধি-কারীগণকে বুঝানো হয়-যাবিল ফুরূযগণ স্বীয় অংশ গ্রহণ করার পর যা অবশিষ্ট রয়েছে, সে উদ্বৃত্ত অংশে যারা অংশীদার হয়ে থাকে, আর যাবিল ফুরূয বা নির্ধারিত অংশীদারগণের অবর্তমানে তারা সমুদয় পরিত্যক্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করে। তৎপর সাবাব বা কারণগত আসাবাগণের মধ্যে মিরাস বণ্টিত হবে। আর কারণগত আসাবা হলো, ক্রীতদাসের মুক্তিদাতা মনিব। তারপর তার আসাবাগণের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে বণ্টন করা হবে। অতঃপর পুনরায় বংশগত যাবিল ফুরূয বা নির্ধারিত অংশীদারগণের মধ্যে তাদের অংশহারে রদ বা পুনঃবণ্টন করা হবে। তৎপর রক্ত সম্পর্কে সম্পর্কিত যাবিল আরহাম তথা নিকটাত্মীয়গণের মধ্যে মিরাস বণ্টন করা হবে।
অতঃপর মাওলাল মুওয়ালাত
তথা মৃত ব্যক্তির চুক্তিবদ্ধ বন্ধু 'মনিবকে মিরাসের অংশ প্রদান করা হবে। তারপর মৃত ব্যক্তি কর্তৃক স্ববংশজাত বলে স্বীকৃত ব্যক্তিকে তার অংশ প্রদান করা হবে; এভাবে যে, তার স্বীকারোক্তি দ্বারা এ দ্বিতীয় ব্যক্তির উপর বংশের দাবি প্রতিষ্ঠিত হবে না। আর স্বীকৃতি দানকারী তার সে স্বীকারোক্তির উপর বহাল থাকাঅবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। অতঃপর সম্পূর্ণ সম্পদের প্রাপক হিসেবে অসিয়তকৃত ব্যক্তিকে অংশ প্রদান করা হবে। অতঃপর (সর্বশেষে উপযুক্ত হকদার না পাওয়া গেলে) পরিত্যক্ত সম্পদ বায়তুল মালে (ইসলামি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে) জমা করা হবে।(সিরাজী)

কে কে সম্পদের মালিক হবে? তথা ওয়ারিছ কে হবে?
সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/343

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
বন্টন প্রক্রিয়া অতি সহজ। দুই ছেলে আসাবা হিসেবে সমুদয় সম্পত্তির মালিক হয়ে যাবে। অর্ধেক অর্ধেক করে সমুদয় সম্পত্তির মালিক দুই ছেলে হয়ে যাবে।

বিঃদ্রঃ 
এই বন্টন প্রক্রিয়া তখনই কার্যকরী হবে যখন প্রশ্নে উল্লেখিত ওয়ারিছগণ ব্যতিত মৃত ব্যক্তির জীবিত আর কোনো ওয়ারিছ থাকবে না। যদি মৃত ব্যক্তির আর কোনো ওয়ারিছ জীবিত থাকে, তাহলে তখন বন্টন প্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...