0 votes
70 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (51 points)
আসসালামু আলাইকুম।

আমার করা 1889 নং প্রশ্নের যে জবাব পেয়েছি তাতে আমার আরো একটি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, মুহতারাম। তা হলো- বর্তমানে যদি আমাদের উপর জিহাদ ফরযে কিফায়া হয় তাহলে কারা এই কিফায়া জিহাদের দায়িত্ব পালন করছে সমগ্র উম্মাহর তরফ থেকে? আমরাদের স্থানীয় আলেমরা তথাকথিত স্বঘোষিত জিহাদি দলগুলোকে খারেজি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাহলে প্রশ্ন হলো আমরা কি সবাই তাহলে এই ইবাদত বর্জনের পাপে দোষী?

1 Answer

0 votes
by (74,280 points)
বিসমিহি তা'আলা

জবাবঃ-

ইসলাম কখনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে সমর্থন করে না।আজ যারা জিহাদকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে তুলনা করে মুজাহিদদের-কে জঙ্গি আখ্যায়িত করছে,তারা মূলত ইসলামি এবং মুসলমানদেরকে নিষ্পেষিত করার পায়তারা করছে।এখনকার মিডিয়ায় জিহাদ মানেই জঙ্গি তৎপরতা।ইহুদি খৃষ্টান কর্তৃক ইসলামকে রুখে দাড়ানোর এক মহা ষড়যন্ত্র। তাদের পালিত কিছু মিডিয়াই মূলত এগুলো প্রচার করছে।অন্যদিকে তারা বসনিয়া, ফিলিস্তিন, বার্মা ইত্যাদি রাষ্ট্র সমূহে মুসলমানদের উপর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে।

শত্রুর আক্রমনকে প্রতিহত করার নামই হলো জিহাদ।সুতরাং মুসলমানরা কোথাও নির্যাতিত হলে,সেখানে তারা প্রতিরোধ বনাম জিহাদ গড়ে তুলবে।এটা তাদের উপর ফরয।তারা প্রতিরোধ গড়তে সামর্থবান না হলে,আশপাশ এমনকি সারা দুনিয়ার মুসলমানের উপর প্রতিরোধ গড়ায় সাহায্য সহায়তা করা ফরযে কেফায়া।

বর্তমান সময়ে কিছু লোক অবশ্যই ফরযে কেফায়ার দায়িত্ব আদায় করে মুসলমানদেরকে যুলুম-নির্যাতন থেকে বাঁচানোর চেষ্টায় রত রয়েছেন।তবে এটা যথেষ্টসংখ্যক নয়।অন্যদিকে ইহুদি খৃষ্টানদের দালাল কিছু লোক ইসলামের নাম ব্যবহার করে হত্যা-ব্যভিচার চালিয়ে ইসলামকে কুলুষিত করার কাজে লিপ্ত রয়েছে।যেমন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেখা গেছে,আই এস এর প্রধান বাগদাদি একজন মোসাদ এজেন্ট ছিলো।
যাইহোক,বোমা ফটানো কিংবা আত্মঘাতি হামলার নাম জিহাদ নয়।বরং জিহাদ হলো শান্তি প্রতিষ্টার নাম এবং মুসলমানদেরকে যুলুম-নির্যাতন থেকে বাঁচানো বা বাঁচানোর চেষ্টা করার নাম এবং কালিমাকে উচু করার নাম।

যেহেতু ইসলাম এবং মুসলমানদেরকে যুলুম-নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা হচ্ছে না,বা হলেও যথেষ্টভাবে হচ্ছে না।তাই এটা বলা যায় যে,সঠিকমত ফরযে কেফায়ার দায়িত্ব পালন হচ্ছে না।যেজন্য উম্মতে মুসলিমাহ অবশ্যই গোনাহগার হবেন।এবং এসবের দায়ভার  ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ এবং মুসলিম লিডারগণের উপরই বর্তাবে।এবং কাল হাশরের মাঠে জবাবের কাঠগড়ায় প্রথম সাড়িতে তাদের দাড় করানো হবে।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

পরামর্শ  প্রদাণে
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ, Iom.
পরিচালক
ইসলামিক রিচার্স কাউন্সিল বাংলাদেশ


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...