0 votes
44 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (33 points)
স্বামী স্ত্রী দুই জনই স্টুডেন্ট। লিখিত কোনো চুক্তি হয় নি , কিন্তু এমন টা কথা হয়েছিল বিয়ের সময় যে স্ত্রীর ভরণ পোষণের দায়িত্ত্ব মেয়ের বাবার ই থাকবে আপাতত। এক্ষেত্রে স্বামী যদি স্ত্রীর জন্য কিছু খরচ করে নিজ থেকেই, টুকটাক প্রয়োজন পূরণ করে, সেই খরচ কি সে মোহর থেকে কেটে ফেলতে পারবে?

বিশেষ করে স্ত্রী যদি চায় তাকে টাকা ই দেওয়া হোক, প্লাস একথা ও বলে যে যখন সামর্থ্য তখন দিতে, এখন না দিতে যদি না পারে, তবুও কি স্বামী চাইলে বিভিন্ন টুকটাক জিনিস কিনে দেওয়ার মাধ্যমে মোহর থেকে কেটে নিতে পারে কিনা সেই খরচ স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে।

1 Answer

0 votes
by (283,200 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
স্বামীর উপর ওয়াজিব যে,সে তার স্ত্রীর ভরণপোষণ করবে।
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ
পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে।(সূরা নিসা-৩৪)

لِيُنْفِقْ ذُو سَعَةٍ مِنْ سَعَتِهِ وَمَنْ قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ فَلْيُنْفِقْ مِمَّا آتَاهُ اللَّهُ لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا مَا آتَاهَا
বিত্তশালী ব্যক্তি তার বিত্ত অনুযায়ী ব্যয় করবে। যে ব্যক্তি সীমিত পরিমাণে রিযিকপ্রাপ্ত, সে আল্লাহ যা দিয়েছেন, তা থেকে ব্যয় করবে।(সূরা তালাক-৭)

হাকীম ইবনু মু‘আবিয়াহ আল-কুশাইরী (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত।
وعَنْ مُعَاوِيَةَ الْقُشَيْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : " قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا حَقُّ زَوْجَةِ أَحَدِنَا عَلَيْهِ ؟ قَالَ : ( أَنْ تُطْعِمَهَا إِذَا طَعِمْتَ ، وَتَكْسُوَهَا إِذَا اكْتَسَيْتَ ، وَلَا تَضْرِبْ الْوَجْهَ ، وَلَا تُقَبِّحْ ، وَلَا تَهْجُرْ إِلَّا فِي الْبَيْتِ) 
 তিনি বলেন, একদা আমি বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কারো উপর তার স্ত্রীর কি হক রয়েছে? তিনি বললেনঃ তুমি যখন আহার করবে তাকেও আহার করাবে। তুমি পোশাক পরিধান করলে তাকেও পোশাক দিবে। তার মুখমন্ডলে মারবে না, তাকে গালমন্দ করবে না এবং পৃথক রাখতে হলে ঘরের মধ্যেই রাখবে।(আবু দাউদ-২১৪২,ইবনে মা'জা-১৮৫০)

স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ আদায় না করলে এবং স্ত্রীকে সঙ্গ না দিলে,স্ত্রী যদি কাযী সাহেবের নিকট বিচার দায়ের করে,তাহলে কাযী সাহেব উক্ত বিবাহকে ভঙ্গ করে দেয়ার অধিকার রাখেন।(জাদীদ ফেকহী মাসাঈল-৩/১০০)


সু-প্রিয় পাঠকবর্গ!
স্ত্রীর ভরণপোষন দেওয়া স্বামীর একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। বিয়ের সময় মেয়ের বাবার উপর ভরণপোষনের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া কখনো জায়েয হবে না। হ্যা, মেয়ের বাবা স্বেচ্ছায় রাজী হলে ভিন্ন কথা। তখন স্বামীর উপর থেকে দায়িত্ব চলে যাবে। ততদিনের জন্য যতদিনের আলোচনা হয়েছিলো। আবার যে কোনো সময় মেয়ের বাবা নাও করে দিতে পারে। সুতরাং স্বামীর টুকটাক গিফটকে যদি স্ত্রী মহরের মধ্যে শামিল করতে চায়, তাহলে তা মহরের টাকায় গণ্য হবে। নতুবা গণ্য হবে না। 

স্ত্রী যদি চায় তাকে টাকা-ই দেওয়া হোক, প্লাস একথা ও বলে যে যখন সামর্থ্য তখন দিতে, এখন না দিতে যদি না পারে, তবুও স্বামী চাইলে বিভিন্ন টুকটাক জিনিস কিনে দেওয়ার মাধ্যমে মোহর থেকে কেটে নিতে পারবেনা। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...