আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
28 views
ago in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (7 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ
উস্তায,

আমার এক বোন এর হয়ে আমি প্রশ্ন করছি। লেখা দীর্ঘ হওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। উনার বিয়ে হয়েছে প্রায় ৫ বছর। উনার স্বামী প্রচন্ড উগ্র স্বভাবের এবং বদমেজাজি। উল্লেখ্য শ্বশুর কুফরী কালামের সাথে যুক্ত। তারা কেউ নামাজ পড়েনা,রোজা রাখেনা। মাঝে মাঝে নামাজ পড়ে এবং রোজা রাখে। অপরদিকে বোনটি দ্বীনদার পরিবারেই বেড়ে উঠে। শ্বশুর শাশুড়ি এমনকি স্বামীও চাইতো না বোনটি বাবার বাড়িতে আসুক। এক প্রকার মানসিক নির্যাতন করা হয় তার উপর।
তো বিয়ের এক বছরের মাথায় একদিন সে বাবার বাড়ি বেড়াতে আসে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। বোনটির স্বামী বোনটির মাকে ফোন দিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং খুবই বাজে ব্যবহার করে। তার মা বেয়াদবি সহ্য করতে না পেরে তাকে তুই তুকারি করে। তাদের বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে তার স্বামী বলেই ফেলে,"আপনার মেয়েকে তিন তালাক দিলাম,তালাক,তালাক,তালাক।" কিন্তু মা এক তালাক শুনে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তে পড়তে তার বড় ছেলের বৌ কে মোবাইল দিয়ে দেন। বাকি দুই তালাক মা শুনেননি শুনেছেন বোনটির ভাবী। উল্লেখ্য ঘটনাস্থলে বোনটি ছিলেন না এবং তিনি এসবের কিছুই জানতেননা। পরবর্তী তে তাকে জানানো হয়।

এখন তাদের তালাক হয়েছে কিনা এ নিয়ে দ্বন্দ্বের এক পর্যায়ে তারা উভয় পক্ষ বৈঠক বসে। বৈঠকে একজন মুফতি সমঝোতা করে দেন যে তাদের তালাক হয়নি এবং তারা সংসার করতে পারবে। বিয়েটা হয়েছিল হানাফী মাযহাব অনুসারে কিন্তু মুফতি সাহেব হানাফী ছিলেননা অন্য মাযহাবের ছিলেন যেটা তারা পরবর্তী যে জানতে পারেন।
কিন্তু তা অনেক পরে জানতে পারেন। এর মধ্যে বোনটি পুনরায় সংসার শুরু করেন।

এখন আমার প্রশ্ন
১.তাদের ৩ তালাক কার্যকর হয়েছে কিনা? নাকি ঐটা ১ তালাক হিসেবে ধরা হবে? উল্লেখ্য বোনটি কোন ইদ্দতও পালন করেননি।

২.যদি তালাক হয়ে থাকে তাহলে এই ৪ বছর ধরে যে তারা একত্রে থাকলো এটার কি কোন কাফফারা দিতে হবে কিনা?

৩.যদি তালাক হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে বোনটির পরিবারকে কি আইনী বা শরীয়াহ প্রক্রিয়ায় পুনরায় মেয়ের পক্ষ থেকে ডিভোর্স লেটার পাঠাতে হবে কিনা? যেহেতু স্বামী এখন কোন অবস্থাতেই তালাক দিতে রাজি নন।

জাঝাকাল্লাহু খইরান
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ

1 Answer

0 votes
ago by (806,550 points)


ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
সৌদী আরবের গ্রহণযোগ্য বিদগ্ধ গবেষক আলেমগণ এ  সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, তিন  তালাকে তিন তালাক-ই পতিত হবে।

সৌদী গবেষকবৃন্দে সিদ্ধান্তের কপি এই -
توصل المجلس بأكثريته إلى اختيار القول بوقوع الطلاق الثلاث بلفظ واحد ثلاثا ___الخ (مجلة البحوث الإسلامية، المجلة الأول، العدد الثالث، سنة 1397 ه)
অর্থ: লাজনাতুত দায়িমা লিল বুহুস ওয়াল ইফতা পরিষদ (সৌদী আরব)- অধিকাংশ সদস্য ওলামায়ে কিরামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তে উপনিত হয় যে,এক শব্দে তিন তালাক দিলে তিন তালাকই পতিত হবে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যা, প্রথম খন্ড, তৃতীয় সংখ্যা, ১৩৯৭ হিজরী)

তিন তালাকই পতিত হবে।স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যাবে।(ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যা-১২/৩৯১)
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/18630

আরো জানুন- https://www.ifatwa.info/222

প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন!
(১) 
একসাথে তিন তালাক দিলে তিন তালাকই পতিত হয়।এবং স্ত্রীকে তালাক শুনতে হয় না। স্ত্রীর জন্য তালাক শ্রবণ করা শর্ত নয়। সুতরাং প্রশ্নের বিবরণমতে তিন তালাক পতিত হয়েছে।

(২) যেহেতু তালাক হয়েছে, তাই এই ৪ বছর ধরে যে তারা একত্রে থেকেছে, তাই এটার জন্য অবশ্যই তাওবাহ ইস্তেগফার করতে হবে। কাফফারা যদিও আসছে না, তবে গোনাহ মাফ করানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা অবশ্যই করতে হবে।

(৩) যতি স্বামী কোন অবস্থাতেই লিখিত তালাক দিতে রাজি নয়, তাই স্ত্রীর জন্য অতীব জরুরী যে, তালাকের নোটিশ প্রেরণ করে সম্পূর্ণ পৃথক হয়ে যাওয়া।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...