আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
34 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। উস্তাদ, একটা বিষয়ে ফতওয়া জানতে চাচ্ছিলাম।


আমার এক বন্ধুর বিয়ে। সে মেয়েকে পছন্দ করে। মেয়ের পরিবারে প্রস্তাব দিয়েছে। এবং মেয়ের পরিবারও রাজি আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু কাবিন চায় ৭-১০ লাখ টাকা। অন্যদিকে ছেলে এবং মেয়ের মধ্যে আলোচনা হয়ে ছেলের সামর্থ্যনুযায়ী তারা নিজেরা নির্ধারণ করেছে আলহামদুলিল্লাহ। (৫০ হাজার/১ লাখ)। এইটুকু অব্দি ঠিক আছে। সমস্যা হচ্ছে-
৭/১০ লাখ টাকা কাবিন না ধরলে মেয়ের পরিবার কোনোভাবেইই বিয়ে দিবেনা। তারা চট্টগ্রামের হওয়ায়, এই রীতি আরো বেশি মানা হয়। কিন্তু মেয়ে ছেলে এমন চাচ্ছেনা। পরিবার নাহলে কখনো বিয়েই দিবেনা মেয়েকে। তাই শুধু ফরমালিটির জন্য কাবিন নামায় যদি ১০ লাখ কাবিন লিখা হয়, এবং কাজীও এভাবে বিয়ে পড়িয়ে দেয় (মেয়ের পরিবারের এটাই শর্ত), কিন্তু ছেলে যদি মেয়েকে তাদের নির্ধারণ অনুযায়ী ১ লাখ টাকা মোহর শোধ করে, তাহলে এইটা কি জায়েজ হবে? বাকী ৯ লাখ কি দিতে হবে? নাকি ১০ লাখ ই পরিশোধ করতে হবে পরে? যেহেতু মোহরানা দিয়ে দিতে হয়। (এটা পরিবার না দিলেও কিছু বলবেনা, কিন্তু ছেলে দ্বীন মানে)  একবছর পর মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার সময় এক লক্ষ পরিশোধ করবে ইনশাআল্লাহ। অন্যদিকে আজকাল ত মোহর শুধু ধরে রাখে কিন্তু আর দেয়না সারাজীবনেও। তাই পরিবারগুলোও এতে অসন্তুষ্ট হয়না। তারা কেবল এত এত লাখ টাকা ফরমালিটির জন্যই ধরে।
উল্লেখ্য : পরিবারকে বুঝিয়ে কোনোই লাভ নেই! জান প্রাণ দিয়ে বুঝালেও বুঝেনি। অন্যথায় কারো বিয়ে হবেনা। দিবেও না। এমতাবস্থায় মোহরানার এই বিষয়টি যদি একটু খোলাসা করে দিতেন উস্তাদ ইনশাআল্লাহ।

1 Answer

0 votes
ago by (91,050 points)

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

https://ifatwa.info/9646/ নং ফাতওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে, 

মহর উভয় মিলেই নির্ধারণ করবে। পাত্রপক্ষ এবং পাত্রীপক্ষ উভয় পক্ষ মিলে সমঝোতার ভিত্তিতে মহর নির্ধারণ করবে।

,

মহর দাতা মূলত পাত্র এবং গ্রহিতা মূলত পাত্রী। এই দুজনের অনুমতিক্রমে উভয়ের পরিবারের লোকজন মহর নির্ধারণ করবে। ক্রয়-বিক্রয়ের মত যেকোনো এক পক্ষ প্রথমে মহরের প্রস্তাব দিবে এবং অন্যপক্ষ মহরের প্রস্তাবকে গ্রহণ করে নিবে। যদি পাত্রীপক্ষ বেশী মহরের দাবী করে, তাহলে পাত্রপক্ষ চাইলে তাদের দাবীকে মানতে পারে, আবার চাইলে মহরকে কম করারও প্রস্তাব দিতে পারে এবং সম্ভব না হলে, সেখানে রিশতা না জুড়তে পারে। সেটা পাত্র পক্ষের সম্পূর্ণ নিজস্ব অধীকার। মহরের আলোচনা উঠার পর যে বিয়ে করতেই হবে, বিষয়টা আসলে এমন নয়, বরং তাদের ভাঙ্গা গড়ার অধীকার থাকবে।

মহর যতটুকু পরিশোধ করা যায়, ততটুকু হওয়াই কাম্য ও উচিৎ।

,

https://ifatwa.info/54326/ নং ফাতওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে,

মহর দুই প্রকার যথা,

(১) مهرمعجل  মহরে মু'আজ্জল তথা এমন মহর যা তারাতারি পরিশোধ করা হবে। এমন মহর পরিশোধের পূর্ব পর্যন্ত স্ত্রী চাইলে নিজেকে স্বামী থেকে দূরে রাখতে পারবে।

(২) مهر مؤجل  মহরে মু'য়াজ্জল, তথা এমন মহর যা পরবর্তীতে পরিশোধ করা হবে। এমন মহরের বেলায় স্ত্রী নিজেকে স্বামী থেকে দূরে রাখতে পারবে না।

فِي كُلِّ مَوْضِعٍ دَخَلَ بِهَا أَوْ صَحَّتْ الْخَلْوَةُ وَتَأَكَّدَ كُلُّ الْمَهْرِ لَوْ أَرَادَتْ أَنْ تَمْنَعَ نَفْسَهَا لِاسْتِيفَاءِ الْمُعَجَّلِ لَهَا ذَلِكَ عِنْدَهُ خِلَافًا لَهُمَا-

(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৩১৭)

وَإِذَا كَانَ الْمَهْرُ مُؤَجَّلًا أَجَلًا مَعْلُومًا فَحَلَّ الْأَجَلُ لَيْسَ لَهَا أَنْ تَمْنَعَ نَفْسَهَا لِتَسْتَوْفِي الْمَهْرَ عَلَى أَصْلِ أَبِي حَنِيفَةَ وَمُحَمَّدٍ - رَحِمَهُمَا اللَّهُ تَعَالَى -، كَذَا فِي الْبَدَائِعِ 

(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৩১৮)

,

★ সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই ও বোন!

,

মহর দাতা মূলত পাত্র এবং গ্রহিতা মূলত পাত্রী। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ৭/১০ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে হয়ে গেলে স্বামীর জন্য স্ত্রীকে ৭/১০ লাখ টাকা কাবিনই দিতে হবে। তবে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর স্ত্রী চাইলে খুশি মনে, স্বেচ্ছায় মহর কমিয়ে দিতে পারে। এই অধিকার স্ত্রীর আছে। তবে এই ক্ষেত্রে স্ত্রীর থেকে লিখিত আকারে নিলে স্বামীর জন্য আরো ভালো হয়। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...