আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
96 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (14 points)
1. আসসালামু আলাইকুম উস্তায।
উপযুক্ত চারজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে প্রায় তিন বছর আগে বিয়ে করা হয়েছিল।
তখন ১০ হাজার টাকা মোহরানা ধার্য করা হয়েছিল ছেলের সামর্থ্য অনুযায়ী।
পরিবার থেকে শুধু এই বিয়ের  ব্যাপারটা মেয়ের মা জানে । পরিবারের অন্য কেউ জানে না।
এ অবস্থায় তারা পারিবারিকভাবে আরেকবার বিয়ে করবে কিন্তু আগের বিয়ের ব্যাপারে কাউকে জানাবে না তখন স্বাভাবিকভাবেই কেউ মোহরানা ১০ হাজার টাকা করবে না। বর্তমানে ছেলের সামর্থ্য আলহামদুলিল্লাহ এর থেকে ভালো আছে।
এ অবস্থায় ছেলে কোন মোহরানাটা আদায় করবে দ্বিতীয়বার বিয়ে করার সময় যে মোহরানা ওইটা আদায় করবে নাকি প্রথমটা করবে?
অথবা মহরানা বর্ধিত করার কোন উপায় আছে কিনা? যদি প্রথমটা অনুযায়ী রাখতে চাই। কারণ দ্বিতীয় বিয়েটা শুধু সবাইকে জানানোর উদ্দেশ্যে

2.ছেলের মা বাবা যদি কোন ভাবে ছেলের বউকে দেখতে না পারে এবং ছেলেকে শর্ত দেয় বউকে তালাক না দিলে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে তাহলে ঐ ছেলের কি করণীয় ?
স্ত্রীর যদি দোষ না থাকে তালাক দেওয়ার মতো।
ওই স্বামীকে তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিবে মা বাবার কথায়?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

শরীয়তের বিধান হলো যদি দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক সমঝদার সাক্ষ্যির সামনে প্রাপ্ত বয়স্ক পাত্র ও পাত্রি যদি প্রস্তাব দেয় এবং অপরপক্ষ তা গ্রহণ করে নেয়, তাহলে ইসলামী শরীয়াহ মুতাবিক বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যায়। অভিভাবকের সম্মতি থাকুক বা না থাকুক। অভিভাবক জানুক বা না জানুক।

 তবে যদি গায়রে কুফুতে বিবাহ করে, তথা এমন পাত্রীকে বিবাহ করে, যার কারণে ছেলে বা মেয়ের পারিবারিক সম্মান বিনষ্ট হয়, তাহলে পিতা সে বিয়ে আদালতের মাধ্যমে ভেঙ্গে দিতে পারে। যদি কুফুতে বিবাহ করে, তাহলে পিতা এ অধিকারও পাবে না।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ؛ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «الْأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا.

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, মেয়ে তার ব্যক্তিগত বিষয়ে অভিভাবকের চেয়ে অধিক হকদার। {মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-৮৮৮, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৪২১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৮৮৮, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২০৯৮, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২২৩৪, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১১০৮, সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৩২৬০, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৪০৮৪, সুনানে দারাকুতনী, হাদীস নং-৩৫৭৬}

عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: ” جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أَبِي وَنِعْمَ الْأَبُ هُوَ، خَطَبَنِي إِلَيْهِ عَمُّ وَلَدِي فَرَدَّهُ، وَأَنْكَحَنِي رَجُلًا وَأَنَا كَارِهَةٌ. فَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى أَبِيهَا، فَسَأَلَهُ عَنْ قَوْلِهَا، فَقَالَ: صَدَقَتْ، أَنْكَحْتُهَا وَلَمْ آلُهَا خَيْرًا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا نِكَاحَ لَكِ، اذْهَبِي فَانْكِحِي مَنْ شِئْتِ

হযরত সালামা বিনতে আব্দুর রহমান রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক মেয়ে রাসূল সাঃ এর কাছে এল। এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা! কতইনা উত্তম পিতা! আমার চাচাত ভাই আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিল আর তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। আর এমন এক ছেলের সাথে বিয়ে দিতে চাইছেন যাকে আমি অপছন্দ করি। এ ব্যাপারে রাসূল সাঃ তার পিতাকে জিজ্ঞাসা করলে পিতা বলে, মেয়েটি সত্যই বলেছে। আমি তাকে এমন পাত্রের সাথে বিয়ে দিচ্ছি যার পরিবার ভাল নয়। তখন রাসূল সাঃ মেয়েটিকে বললেন, “এ বিয়ে হবে না, তুমি যাও, যাকে ইচ্ছে বিয়ে করে নাও”। {সুনানে সাঈদ বিন মানসূর, হাদীস নং-৫৬৮, মুসন্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-১০৩০৪, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-১৫৯৫৩, দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদিসীল হিদায়া, হাদীস নং-৫৪১}

বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(০১)
ইসলামী শরীয়াহ মতে, একই ব্যক্তিকে পরিবারের সদস্য ও ওয়ালীর উপস্থিতিতে পুনরায় বিবাহ করার ক্ষেত্রে কোন বাধা নেই।

তবে এক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিবাহের কোন গ্রহণযোগ্যতা শরীয়তে থাকবে না। এটি স্রেফ অভিনয় বলে গন্য হবে।

১ম বিবাহই মূলত গ্রহণযোগ্য হবে।

দ্বিতীয় বিবাহে যে মোহরানা ধার্য করা হবে এটার কোন গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না, মূলত প্রথম বিবাহে যে মোহরানা ছিল, সেটিই মোহরানা হিসেবে গণ্য হবে।

সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে দ্বিতীয়বার বিবাহ পড়ানো হলেও প্রথমবার যে মোহরানা ধার্য করা হয়েছিল, সেটি এক্ষেত্রে মোহরানা হিসেবে গণ্য হবে। মোহরানা বর্ধিত করার কোন সুযোগ নেই।

হ্যাঁ যদি স্বামী নিজেই সন্তুষ্টি চিত্তে স্ত্রীকে অনেক কিছুই দেয়, তাতে কোন বিধি নিষেধ নেই।

(০২)
এক্ষেত্রে ছেলে স্ত্রীকে তালাক দেবে না। পাশাপাশি মা বাবার সাথেও খারাপ ব্যবহার করবে না।

বরং মা-বাবার সাথে সর্বদা উত্তম ব্যবহার চালিয়ে যাবে।

মা-বাবার হতে ক্ষমা চেয়ে তাদেরকে বুঝিয়ে হেকমতের সাথে তাকে রাজি করানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...