আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
28 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (15 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম।(মুফতি ইমদাদুল হক হুজুরের কাছে প্রশ্ন)
স্বামীর চরিত্রগত ত্রুটি আছে। তাদের বিয়ের প্রায় সাড়ে ৪ বছর এই সাড়ে ৪ বছরে সে একাধিক মেয়েদের সাথে ফোনে,ম্যাসেজে অযথা কথা বলে আসছে এখনও বলে।

হারাম কোনো রিলেশন না কিন্তু তারা অযথা খোশ গল্প,রাত বিরাতে ম্যাসেজিং করে।স্ত্রীকে পর্যাপ্ত সময় দেয়না,হক পালন করেনা।বরং স্ত্রীর হকের সময়টা গয়রে  মাহরামকে দেয়।এটা নিয়ে স্ত্রী শান্তভাবে বুঝিয়েছে,কান্না,অভিমাণ রাগ সব ভাবে একেকবারে বুঝিয়েছে। বুঝানোর পর কিছুদিন ঠিক থাকে তারপর আবার আগের মত।একেকবার  একেকটা।

তার উপর স্বামী বাচ্চা চায়না কোনোভাবেই।সংসারে কোনো মন নেই।যখন তখন যেখানে সেখানে চলে যায় স্ত্রীকে  মাসের ১৫/২০ ও একা রেখে চলে যায় শ্বশুরবাড়ি।অথবা বাপের বাড়ি ফেলে রাখে ৬/৭/৮ মাস এরকম।এই সময় না ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয় আর না স্ত্রীর হক পালন করে।

স্ত্রী এই সাড়ে ৪ বছর এগুলো দেখতে দেখতে তার উপর শ্বশুরবাড়ি লোকদের অত্যাচারের কারনে শারীরিক মানসিক দুই ভাবেই অসুস্থ। তার ধৈর্য আর নাই এর সাথে সংসার করার।তার বাপ মা চায় সে আমাকে তালাক দিক, আমিও চাই।

আমার পরিবারও বলসে হয় ভালোভাবে সংসার করো নইলে ছেড়ে দাও ওকে।ওর জীবন নষ্ট করোনা।সে নিজে কোনোভাবেই আমাকে তালাক দিবেনা।সে বলে আমি তোমাকে জীবনেও নিজ থেকে তালাক দিবোনা।তবে তুমি যদি নিজে দিতে চাও বা এমনকিছু তাহলে অনুমতি দিয়ে রাখলাম। যা ভালো মনে হয় করতে পারো।

সে কারো সামনেই এটা বলেনি।আমি ফোনে যখন এগুলা বলসি সে এই কথা বলসে।এখন আমি আমার বাবার বাড়ি আছি সে তার বাড়ি।এখন ফোনে ফোনে কিভাবে আমি কোনো কাজী বাদেই ১ তালাক গ্রহণ করতে পারবো সেটা বলে দিন।

(উল্লেখ্য ১৮ নং কলামে অনুমতি দেয়নি,সেখানে না লিখে রেখেছে।মুখে বলেছে তাও শুধু আমাকে ফোন কলে।আমি এখন ফোন কলেই তালাক গ্রহন করতে চাচ্ছি কোনো ধরনের কোর্ট,কাজী বা শালিশ বিচারের মাধ্যম ছাড়াই। আমার গার্ডিয়ানদের সামনে তাকে ফোন দিয়ে আর ফোন রিসিভ বা করলে ম্যাসেজের মাধ্যমে গ্রহণ করতে চাচ্ছিলাম)

আর যদি ১ তালাক হয়ে যায় আর পরবর্তীতে ইদ্দত পালনের সময়ের মধ্যেই যদি স্ত্রীকে বলে অথবা কারো মাধ্যমে এই কথা পৌছিয়ে  দেয় যে,আমি আমার স্ত্রীকে আবার গ্রহণ করলাম।স্ত্রী না চাওয়া স্বত্তেও কি সম্পর্ক আবারও ঠিক হয়ে যাবে? আমি তাকে এই সুযোগ দিতে চাচ্ছিনা অন্তত তার শুধড়ানোর আগ পর্যন্ত। সে যদি কখনও সম্পূর্ণ রুপে শুধড়ায় তারপর আমাকে গ্রহন করতে চায় আমার কোনো আপত্তি নেই।এক্ষেত্রে এটা ঠ্যাকাতে আমি কি করতে পারি? আমি কি তালাক গ্রহণের সাথে শর্ত জুড়ে দিতে পারি কিনা যে, অমুক অমুক শর্ত মেনে যদি আমাকে গ্রহণ করতে চান তাহলে গ্রহণ করতে পারবেন না হলে আমাদের সম্পর্ক আবার শুরু করা সম্ভব না?

1 Answer

0 votes
ago by (806,550 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(وَأَمَّا) بَيَانُ صِفَةِ الْحُكْمِ الثَّابِتِ بِالتَّفْوِيضِ: فَمِنْ صِفَتِهِ أَنَّهُ غَيْرُ لَازِمٍ فِي حَقِّ الْمَرْأَةِ حَتَّى تَمْلِكَ رَدَّهُ صَرِيحًا أَوْ دَلَالَةً لِمَا ذَكَرْنَا أَنَّ جَعْلَ الْأَمْرِ بِيَدِهَا تَخْيِيرٌ لَهَا بَيْنَ أَنْ تَخْتَارَ نَفْسَهَا وَبَيْنَ أَنْ تَخْتَارَ زَوْجَهَا، وَالتَّخْيِيرُ يُنَافِي اللُّزُومَ وَمِنْ صِفَتِهِ أَنَّهُ إذَا خَرَجَ الْأَمْرُ مِنْ يَدِهَا لَا يَعُودُ الْأَمْرُ إلَى يَدِهَا بِذَلِكَ الْجَعْلِ أَبَدًا،
তাফবীযে তালাকের মাধ্যমে অর্জিত তালাকের অধিকার স্ত্রীর জন্য গ্রহণ করা অত্যাবশ্যকীয় নয়।এমনকি স্ত্রী প্রকাশ্যে বা ইশারায় সেই অধিকার কে ফিরিয়ে দেয়ারও ক্ষমতা রাখে। কেননা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, স্ত্রীর হাতে অর্পিত অধিকারটি তার ইচ্ছাধীন।স্ত্রী চাইলে সে তার অধিকার কে বাস্তবায়িত করতে পারে, আবার সে স্বামীকে গ্রহণ করেও নিতে পারে।সুতরাং ইচ্ছাগত বিষয় অত্যাবশ্যকীয় বিষয়ের সম্পূর্ণ বিরোধী।
এ হিসেবে বলা যায় যে,যখন স্ত্রী তার স্বামী কর্তৃত প্রদত্ত তালাকের অধিকারকে ফিরিয়ে দেবে তখন পূর্বে প্রদত্ত অধিকার দ্বারা স্ত্রী আর নিজের উপর তালাক প্রয়োগ করতে পারবে না।(বরং নতুন করে আবার স্বামী অধিকার দিলে স্ত্রী তালাকের মালিক বনবে।)
(বাদায়ে সানায়ে-৩/১১৭)


التَّفْوِيضُ الْمُعَلَّقُ بِشَرْطٍ إمَّا أَنْ يَكُونَ مُطْلَقًا عَنْ الْوَقْتِ وَإِمَّا أَنْ يَكُونَ مُوَقَّتًا فَإِنْ كَانَ مُطْلَقًا بِأَنْ قَالَ إذَا قَدِمَ فُلَانٌ فَأَمْرُك بِيَدِك فَقَدِمَ فُلَانٌ فَأَمْرُهَا بِيَدِهَا إذَا عَلِمَتْ فِي مَجْلِسِهَا الَّذِي قَدِمَ فِيهِ
তাফবীযে তালাক হয়তো কোনো সময়ের সাথে নির্দিষ্টি থাকবে না, অথবা সময়ের সাথে নির্দিষ্ট থাকবে।যদি কোনো সময়ের সাথে নির্দিষ্ট না থাকে, যেমন কেউ বলল, যখন ঐ ব্যক্তি আসবে, তখন তোমার বিষয়(তাফবীযে তালাক) তোমার হাতে ন্যস্ত থাকবে, যেদিন ঐ ব্যক্তি আসবে, সেদিন স্ত্রী তালাকের অধিকারপ্রাপ্ত হবে। যে মজলিসের মধ্যে ঐ ব্যক্তি আসবে, সেই মজলিসে স্ত্রী তালাক-কে গ্রহণ করতে পারবে।মজলিস শেষ হওয়ার পর আর পারবে না।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৩৯৬)এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/9409


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
যেহেতু আপনার স্বামী বলেছে, 
"তুমি যদি নিজে দিতে চাও বা এমনকিছু তাহলে অনুমতি দিয়ে রাখলাম। যা ভালো মনে হয় করতে পারো।"
সুতরাং আপনি তালাকের অধিকার প্রাপ্ত হবেন। আপনি চাইলে নিজের উপর তালাক গ্রহণ করতে পারবেন। তালাক গ্রহণ করতে হলে স্বামীকে অবগত করা জরুরী নয়। তবে দুইজন সাক্ষী রাখা মুস্তাহাব। তালাক গ্রহণের মাঝে স্বামী যদি কল দেয়, বা বাড়ীতে ফিরিয়ে নেয়া বা মৌখিকভাবে স্ত্রী সূলভ কথাবার্তা বলে, তাহলে অটোমেটিক রাজ'আত হয়ে যায়। সেজন্য আপনি নিজের উপর বায়িন তালাক গ্রহণ করতে পারেন। অথবা কেনায়া শব্দ দ্বারা তালাক গ্রহণ করতে পারবেন। তখন আর নতুন বিয়ে ছাড়া রাজআত হবে না। 
মোটকথা, আপনি আরো গভীর ভাবে চিন্তাভাবনা করেন। তারপর ইচ্ছা হলে নিজের উপর বায়িন তালাক গ্রহণ করবেন। তাহলে নতুন বিয়ে ব্যতিত আর স্বামীর ফিরিয়ে নিতে পারবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ago by (15 points)
হুজুর আমি যদি কেনায়া বাক্য হিসেবে এটা বলি যে,যতদিন না গয়রে  মাহরাল সম্পর্কিত সমস্যায় আপনি থাকবেন ততদিন আমাদের এক তালাক বহাল থাকবে। 

তাহলে কি হবে নাকি কিভাবে বললে হবে এটা?

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...