আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
5 views
ago in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (6 points)
edited ago by
গত ৬ বছর আগে আমি সহ আমার সাথে আরো ৪ জন বালেগ ছেলে বন্ধু ছিলো গাড়িতে,গাড়িটি তখন চলমান ছিলো,মানে গাড়িটি চলতাছিলো।

সাথে একজন মেয়ে ছিলো,যার সাথে আমার সম্পর্ক ছিলো।মেয়ের বয়স তখন আনুমানিক ১৬/১৭।

★তো আমি ঐ মেয়েকে উপস্থিত সবার সামনে প্রস্তাব জানাই যে,তুমিকি আমাকে বিয়ে করতে রাজি?তো মেয়েটি অন্য একটা বিষয় নিয়ে আমার সাথে রাগ করে চুপ করে বসে ছিলো,কিছু বলেনি। এরপর আমার দুই বন্ধু মজা শুরু দেয় ,মজার ছলে কাজি যেভাবে বলে সেভাবে আমার বাবার নাম বেঙ্গ করে মজার ছলে বাবার নাম ঠিক করে না বলে ,তারা ঐ মেয়েকে বলে তুমিকি ওমুকের (বেঙ্গ করে) ছেলেকে (তারা আমার নাম উচ্চারণ করেছিলো কিনা মনে নাই) কে বিয়ে করতে রাজি আছো? পরে মেয়ে বলছে হে কবুল(বিয়ের প্রতি মেয়ের ইচ্ছে ছিলো,মেয়েকে জিজ্ঞেস করে জানতে পেরেছি)।পরে ৫ টাকা দিয়ে বলি এটাই দেনমোহর হিসেবে আছে,পরে মেয়ে বলে,না দিলেও হবে।

*এ বিয়েটাকি হয়েছে?

কিন্তু এরপর থেকে আমরা দুজনে এটাকে বিয়ে মনে করতাম।

এরপর সম্পর্ক চলাকালীন সময়ে ঝগড়া হলে মাজে মাজে অতিরিক্ত রাগ উঠলে তাকে ভয় দেখানোর জন্য,কখনো অপমান করার জন্য,কখনো আমাকে মান্যতার জন্য,আমার কাছে যাতে ক্ষমা চায়,আমার কথা যাতে মানে তাই আমি সরাসরি তালাক না বলে বলতামঃ তোকে ছেড়ে দিলাম,তোর সাথে থাকবোনা,তোকে মুক্ত করে দিলাম,তোর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নাই।তোমার জীবন তোমার মতো আমারটা আমার মতো, তুমিও আমাকে খুজবানা,আমিও তোমাকে আর খুজবোনা।মাজে মাজে তাকে বিদায় করে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েও এ কথা গুলা বলতাম যে মানলে আমার সাথে থাকবো,নাহয় চলে যাবে।

কিন্তু তালাক বলতে যেটা বুজায় সেটা মাথায় থাকতোনা,ব্রেকাপ বিষয়টা মাথায় থাকতো। তো কেনায়া বাক্যগুলো এমন অনেক শব্দ ব্যবহার হয়েছে।

তবে হাজারবার ঝগড়া হতো,যত কথাই হতো কয়েকদিন পর আবার সব ঠিক হয়ে যেতো।মানে এমন ঘটনা অনেক অনেকবার হয়েছে।

আমি আগে কেনায়া শব্দ সম্পর্কে জানতাম না,আমি ভাবতাম তালাক বল্লেই তালাক হয়,এছাড়া তালাক হয়না।

এরমাজে তার সাথে আমার কয়েকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে, বিয়ে হয়েছে মনে করেই করতাম।

*কিন্তু গতো ২ বছর আগে সে মেয়ে বলেযে: এ বিয়ে হয়নি,আমি মানিনা।কারন হিসেবে দেখায় যে,,,আমার বয়স তহন ১৬ ছিলো,আমার বুজ শক্তি ছিলোনা,আর আমার বয়স কম ছিলো , এরকম নিয়মের সময় মেয়ের পরিবার থেকে কোন পুরুষ সদস্য থাকতে হয়। বুজের জ্ঞান হয়নি,,বিয়ের সম্পর্কে জ্ঞান আমার ছিলোনা।ভালো মন্দবুজার জ্ঞান ছিলোনা।আর আমি তহন মাজহাব সম্পর্কে জানতাম না।এখন আমি সুন্নি মাজহাবের। সুতরাং এ বিয়ে আমার দিক থেকে হয়নি।

*তাই আমিও ধরে নিয়ে ছিলাম এ বিয়ে হয়নি।পরে যখন আবার ঝগড়া হতো তখন কেনায়া শব্দ গুলা বলতাম:তোমাকে ছেড়ে দিলাম,থাকবোনা তোমার সাথে,মানে পৃথক থাকা বুজায়,তোমার সাথে সম্পর্ক রাখতে চাইনা,মুক্ত করে দিলাম এমন শব্দ বলতাম।ইত্যাদি।ভাবতাম বিয়েই যেহেতু হয়নাই তাহলে এগুলা বল্লেহ আর সমস্যা কি।তবে তালাক দিলাম,বা তালাক বলতাম না।

★এখন সেকি আমার জন্য হারাম হয়ে গেছে এতোবার কেনায়া শব্দ ব্যবহার করে আবার তাকে গ্রহনও করে।একজনকেতো ৩ বার গ্রহন করা যায়,,তো আমিতো তাকে অগনিতভাবে ছেড়ে দিলাম এ ধরনের শব্দ গুলো বলেছি,আবার মিলেও গেছি।তার সাথে সাময়িকভাবে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েও  আবার কয়েকদিন পর কথা বলতাম।তো এগুলা করার কারনেকি সে আমার জন্য হারাম হয়ে গেছে?

দয়া করে আমাকে বলুন,আমি কি করতে পারি। সামনে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক হয়েছে।

এমতাবস্থায় আমার করনীয় কি?

১|আমি শুনেছি কেনায়া এক তালাক যদি হয়ে যায়,তাহলে তালাক পতিত হওয়ার পর আবার বিয়ে না করা পর্যান্ত কোন তালাক দিলেও পতিত হয় না।তো ধরেন আমার আগে যদি একবার কেনায়া তালাক হয়েও থাকে,তাহলে এর পরপর যতবারই কেনায়া শব্দ গুলা ব্যবহার করেছি,তার মাধ্যমেকি আবার কেনায়া তালাক হবে?(আমি কিন্তু আর তাকে বিয়ে করিনি)

২| তাকে কি আমি আর বিয়ে করতে পারবোনা?

৩|গাড়ি চলা অবস্থায় বিয়ে করলেকি বিয়ে হয়?

1 Answer

0 votes
ago by (763,560 points)
بسم الله الرحمن الرحيم 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 
আবূ হারূন আল-আবদী (রহঃ) থেকে বর্ণিত।
عَنْ أَبِي هَارُونَ الْعَبْدِيِّ، قَالَ كُنَّا إِذَا أَتَيْنَا أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ قَالَ مَرْحَبًا بِوَصِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ . إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ لَنَا " إِنَّ النَّاسَ لَكُمْ تَبَعٌ وَإِنَّهُمْ سَيَأْتُونَكُمْ مِنْ أَقْطَارِ الأَرْضِ يَتَفَقَّهُونَ فِي الدِّينِ فَإِذَا جَاءُوكُمْ فَاسْتَوْصُوا بِهِمْ خَيْرًا "

 তিনি বলেন, আমরা আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) -এর কাছে এলেই তিনি বলতেনঃ তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওসিয়ত অনুযায়ী স্বাগতম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলতেনঃ লোকেরা অবশ্যই তোমাদের অনুগামী। অচিরেই পৃথিবীর দিকদিগন্ত থেকে লোকেরা তোমাদের নিকট দ্বীনি ইলম অর্জনের জন্য আসবে। তারা যখন তোমাদের নিকট আসবে,তখন তোমরা তাদেরকে ভালো ও উত্তম উপদেশ দিবে।(সুনানু তিরমিযি-২৪৯,তিরমিযী ২৬৫০-৫১, মুওয়াত্ত্বা মালিক ২৪৭।)

সু-প্রিয় পাঠকবর্গ ও প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
অতীব জরুরী ও সাধারণ মাস'আলা মাসাঈল আয়ত্বে না থাকার কারণে দৈনন্দিন জীবনে দ্বীন-ইসলাম পালন করতে, যে সমস্ত দ্বীনি ভাই-বোন থমকে দাড়ান,এবং যাদের দ্বীনি ইলম অর্জনের কাছাকাছি কোনো নির্ভরযোগ্য মাধ্যম নেই, মূলত তাদেরকে দিকনির্দেশনা দিতেই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস .....

মুহতারাম/মুহতারামাহ!
দ্বীনের পরিধি অনেক ব্যাপক, সকল বিষয়ে আলোচনা করা বা দিকনির্দেশনা দেওয়া স্বল্প পরিসরের এই ভার্চুয়ালি মাধ্যম দ্বারা আমাদের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। চেষ্টা করলেও প্রশ্নকারীর পিপাসা মিটানো সম্ভব হবে না। প্রত্যেক বিষয়ে আমরা শুধুমাত্র সামান্য আলোকপাত করে থাকি।

উপরোক্ত প্রশ্নগুলো উত্তর দেওয়ার জন্য স্থান, কাল, পাত্র অনেক কিছুই জানার প্রয়োজন হয়। যেটা অনলাইনে জানা সম্ভব হয় না। 
তাই এই প্রশ্নগুলোর উত্তরের জন্য আপনার এলাকার সংশ্লিষ্ট উলামায় কেরামের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা আপনার জন্য কল্যাণকর হবে বলেই আমাদের ধারণা।

তাছাড়া ইলম অর্জনের জন্য সফর করা অত্যান্ত  জরুরী। এবং কষ্ট করে ইলম অর্জন করাই আমাদের  আকাবির আসলাফদের রীতি ও নীতি। এদিকেই কুরআনের এই আয়াত ইঙ্গিত দিচ্ছে,
 ۚفَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَائِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ
তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হলো না, যাতে দ্বীনের জ্ঞান লাভ করে এবং সংবাদ দান করে স্ব-জাতিকে, যখন তারা তাদের কাছে প্রত্যাবর্তন করবে, যেন তারা বাঁচতে পারে।(সূরা তাওবাহ-১২২)

সুতরাং আপনাকে বলবো, আপনি বিস্তারিত জানতে স্ব-শরীরে কোনো দারুল ইফতায় যোগাযোগ করবেন।
প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।আল্লাহ তা'আলা আপনার ইলম অর্জনের স্পৃহাকে আরো বাড়িয়ে দিক, আমীন।

প্রত্যেকটা বিষয়ের সাথে নিম্নের হাদীসকে লক্ষ্য রাখবেন।
হাসান ইবনে আলী রাযি থেকে বর্ণিত রয়েছে।
ﻭﻋﻦ ﺍﻟﺤَﺴَﻦِ ﺑﻦ ﻋَﻠﻲٍّ ﺭﺿﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗَﺎﻝَ : ﺣَﻔِﻈْﺖُ ﻣِﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﷺ : « ﺩَﻉْ ﻣَﺎ ﻳَﺮِﻳﺒُﻚَ ﺇِﻟﻰ ﻣَﺎ ﻻ ﻳﺮِﻳﺒُﻚ » ﺭﻭﺍﻩُ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ﻭﻗﺎﻝ : ﺣﺪﻳﺚٌ ﺣﺴﻦٌ ﺻﺤﻴﺢٌ 
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ কে বলতে শুনেছি।তিনি বলেন,সন্দেহ যুক্ত জিনিষকে পরিহার করে সন্দেহমুক্ত জিনিষকে গ্রহণ করো।(সুনানু তিরমিযি-২৪৪২)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...