জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم
(০১)
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
مَّثَلُ الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنبُلَةٍ مِّائَةُ حَبَّةٍ ۗ وَاللَّهُ يُضَاعِفُ لِمَن يَشَاءُ ۗ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
যারা আল্লাহর রাস্তায় স্বীয় ধন সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ একটি বীজের মত, যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায়। প্রত্যেকটি শীষে একশ করে দানা থাকে। আল্লাহ অতি দানশীল, সর্বজ্ঞ। (সূরা বাকারা, আয়াত নং-২৬১)
দান আল্লাহ তাআলার ক্রোধ দমিয়ে দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লা ইরশাদ করেছেন-
إِنّ الصّدَقَةَ لَتُطْفِئُ غَضَبَ الرّبِّ وَتَدْفَعُ مِيتَةَ السّوءِ.
নিশ্চয়ই দান আল্লাহর ক্রোধ নিভিয়ে দেয় এবং মন্দ মৃত্যু ঠেকিয়ে দেয়। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৬৬৪
কুরআনে আছে-
قُلْ اِنَّ رَبِّیْ یَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ یَّشَآءُ مِنْ عِبَادِهٖ وَ یَقْدِرُ لَهٗ وَ مَاۤ اَنْفَقْتُمْ مِّنْ شَیْءٍ فَهُوَ یُخْلِفُهٗ وَ هُوَ خَیْرُ الرّٰزِقِیْنَ.
তুমি বলো, নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক স্বীয় বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা রিযিক বাড়িয়ে দেন, (যাকে ইচ্ছা) কমিয়ে দেন। আর তোমরা যা কিছুই দান কর, তিনি তার জায়গায় অন্য কিছু দিয়ে দেন। আর তিনিই তো শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা। -সূরা সাবা (৩৪) : ৩৯
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোর দিয়েই বলেছেন-
مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ.
কোনো দান-সদকাই সম্পদে ঘাটতি সৃষ্টি করে না। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৫৮৮
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
وَاللهُ فِى عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِى عَوْنِ أَخِيهِ.
বান্দা যতক্ষণ নিজ ভাইয়ের সহযোগিতা করে, ততক্ষণ আল্লাহও তাকে সহযোগিতা করেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬৯৯
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
مَا مِنْ يَوْمٍ يُصْبِحُ الْعِبَادُ فِيهِ إِلاّ مَلَكَانِ يَنْزِلاَنِ فَيَقُولُ أَحَدُهُمَا اللّهُمّ أَعْطِ مُنْفِقًا خَلَفًا وَيَقُولُ الآخَرُ اللّهُمّ أَعْطِ مُمْسِكًا تَلَفًا.
প্রতিদিনই দুজন ফেরেশতা নেমে আসেন। তাদের একজন দোয়া করেন- আল্লাহ! যে দান করে তাকে আপনি আরও দিন। অপরজন দুআ করেন- আল্লাহ! যে ধনসম্পদ আঁকড়ে ধরে রাখে, তার সম্পদ ধ্বংস করে দিন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৪৪২
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
রোজ হাশরে যখন সূর্য থাকবে খুব কাছাকাছি, তাপে আর তৃষ্ণায় মানুষ থাকবে অস্থির, হাদীসের ভাষ্যানুসারে, কঠিন সে মুহূর্তে সাত শ্রেণির লোককে আল্লাহ তাআলা নিজ ছায়ায় স্থান দেবেন। তাদের অন্যতম-
رَجُلٌ تَصَدّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتّى لاَ تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ.
এমন ব্যক্তি, যে এতটাই গোপনে দান করে, তার ডান হাতের দান বাম হাতও জানতে পারে না। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৪২৩
গোপন দানে ইখলাস, আন্তরিকতা ও সওয়াবের প্রত্যাশা বেশি থাকাই স্বাভাবিক। আর আল্লাহ তাআলা এ ইখলাসেরই মূল্যায়ন করেন।
অবশ্য গোপন দানের ফযীলতের কথা শুনে প্রকাশ্য দানকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। পবিত্র কুরআনে গোপন-প্রকাশ্য উভয় দানের কথাই বলা হয়েছে-
اِنْ تُبْدُوا الصَّدَقٰتِ فَنِعِمَّا هِیَ وَ اِنْ تُخْفُوْهَا وَ تُؤْتُوْهَا الْفُقَرَآءَ فَهُوَ خَیْرٌ لَّكُمْ .
যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান কর তবে তা কতই না উত্তম। আর যদি তা গোপনে কর এবং গরীবদের দিয়ে থাক তবে তা আরও উত্তম। -সূরা বাকারা (২) : ২৭১
নিয়ত ও ইখলাসে যদি কোনো ত্রুটি না থাকে, তবে প্রকাশ্য দানে উন্মোচিত হতে পারে কল্যাণের আরেক দুয়ার। কারও দান দেখে যদি কেউ উৎসাহিত হয় আর সে ব্যক্তিও পরে দান করে, তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির সমপরিমাণ সওয়াব যোগ হবে প্রথম ব্যক্তির আমলনামায়। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস-
مَنْ سَنّ فِى الإِسْلاَمِ سُنّةً حَسَنَةً فَعُمِلَ بِهَا بَعْدَهُ كُتِبَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ مَنْ عَمِلَ بِهَا وَلاَ يَنْقُصُ مِنْ أُجُورِهِمْ شَىْءٌ.
মুসলমানদের মধ্যে কেউ যখন কোনো ভালো কাজের সূচনা করে, এরপর তা অন্যদের আমলে পরিণত হয়, এ আমলকারীরা সকলে মিলে যে সওয়াব পাবে এর সমপরিমাণ সওয়াব সূচনাকারীর জন্যেও লিখে দেয়া হবে, তবে তাদের সওয়াব বিন্দু পরিমাণও কমবে না। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০১৭
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
ﺇِﻥ ﺗُﺒْﺪُﻭﺍْ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺎﺕِ ﻓَﻨِﻌِﻤَّﺎ ﻫِﻲَ ﻭَﺇِﻥ ﺗُﺨْﻔُﻮﻫَﺎ ﻭَﺗُﺆْﺗُﻮﻫَﺎ ﺍﻟْﻔُﻘَﺮَﺍﺀ ﻓَﻬُﻮَ ﺧَﻴْﺮٌ ﻟُّﻜُﻢْ ﻭَﻳُﻜَﻔِّﺮُ ﻋَﻨﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺳَﻴِّﺌَﺎﺗِﻜُﻢْ ﻭَﺍﻟﻠّﻪُ ﺑِﻤَﺎ ﺗَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ ﺧَﺒِﻴﺮٌ
যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত কর, তবে তা কতইনা উত্তম। আর যদি খয়রাত গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্যে আরও উত্তম। আল্লাহ তা’আলা তোমাদের কিছু গোনাহ দূর করে দিবেন। আল্লাহ তোমাদের কাজ কর্মের খুব খবর রাখেন।(সূরা বাক্বারা-২৭১)
ইবনে কাসির রাহ উক্ত আয়াতের তাফসীরে লিখেন,
" ﻓﻴﻪ ﺩﻻﻟﺔ ﻋﻠﻰ ﺃﻥ ﺇﺳﺮﺍﺭ ﺍﻟﺼﺪﻗﺔ ﺃﻓﻀﻞ ﻣﻦ ﺇﻇﻬﺎﺭﻫﺎ ؛ ﻷﻧﻪ ﺃﺑﻌﺪ ﻋﻦ ﺍﻟﺮﻳﺎﺀ ، ﺇﻻ ﺃﻥ ﻳﺘﺮﺗﺐ ﻋﻠﻰ ﺍﻹﻇﻬﺎﺭ ﻣﺼﻠﺤﺔ ﺭﺍﺟﺤﺔ ، ﻣﻦ ﺍﻗﺘﺪﺍﺀ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺑﻪ ، ﻓﻴﻜﻮﻥ ﺃﻓﻀﻞ ﻣﻦ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﺤﻴﺜﻴﺔ .ﻭﺍﻷﺻﻞ ﺃﻥ ﺍﻹﺳﺮﺍﺭ ﺃﻓﻀﻞ ﻟﻬﺬﻩ ﺍﻵﻳﺔ ، ﻭﻟﻤﺎ ﺛﺒﺖ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﺤﻴﺤﻴﻦ ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ( ﺳﺒﻌﺔ ﻳﻈﻠﻬﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ ﻇﻠﻪ ﻳﻮﻡ ﻻ ﻇﻞ ﺇﻻ ﻇﻠﻪ ... ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ، ﻭﻓﻴﻪ : ( ﻭﺭﺟﻞ ﺗﺼﺪﻕ ﺑﺼﺪﻗﺔ ﻓﺄﺧﻔﺎﻫﺎ ﺣﺘﻰ ﻻ ﺗﻌﻠﻢ ﺷﻤﺎﻟﻪ ﻣﺎ ﺗﻨﻔﻖ ﻳﻤﻴﻨﻪ ) "
এই আয়াত এটাই প্রমাণ করে যে,প্রকাশ্যে সদকাহ করার চেয়ে গোপনে সদকাহ করা অনেক উত্তম।কেননা গোপনে সদকাহ করা রিয়া(লোকদেখানো)এর কোনো সম্ভাবনা রাখে না।তবে যদি প্রকাশ্যে সদকাহ করার উল্লেখযোগ্য কোনো কারণ থাকে, যেমন অন্যকে উৎসাহিত করা।তাহলে এমন সময় প্রকাশ্যে সদকাহ করাই উত্তম।
হ্যা মূলত গোপনে সদকাহ করাটাই উত্তম ছিলো।কেননা আবু হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত,হাশরের ময়দানে আল্লাহ পাক সাত ব্যক্তিকে আরশের ছায়ার নিচে স্থান দিবেন।এই সাত ব্যক্তির একব্যক্তি হল এমন, যার ডান হাত সদকাহ করেছে কিন্তু তার বাম হাত সে সদকাহর খবর জানেনা।(তাফসীরে ইবনে কাসির-১/৭০১-৭০২)
যদি প্রকাশ্যে সদকাহ করার উল্লেখযোগ্য কোনো কারণ না থাকে।তথা ইসলাম এবং মুসলমানের স্বার্থ তথায় জড়িত না থাকে, তাহলে এমন অবস্থায় গোপনে সদকাহ করাই অধিক উত্তম।
কেননা হাদীসে বর্ণিত রয়েছে,
( ﺻﺪﻗﺔ ﺍﻟﺴﺮ ﺗﻄﻔﺊ ﻏﻀﺐ ﺍﻟﺮﺏ )
গোপন সদকাহ রবের রাগকে ঠান্ডা করে দেয়।(তাবারনী-আওসাত-৯৪৩)
(০২)
এক্ষেত্রে বালেগ পুরুষদের জন্য মাতাপিতার বিধিনিষেধ কে মান্য করা আপনার জন্য জায়েয হবে না। বরং মসজিদে জামাতে নামাজের জন্য যেতে হবে।
ইমাম বোখারী রাহ হাসান বসরী রাহ থেকে বর্ণনা করেন,
" إن منعتْه أمُّه عن العشاء في الجماعة شفقة:لم يطعها "
যদি মা তার সন্তানের কল্যাণ কামনায় তাকে অন্ধকারে এশার জামাতে যেতে বাধা প্রদান করে,তাহলে এক্ষেত্রে মায়ের আদেশকে মানা যাবে না।(সহীহ বোখারী-১/২৩০)
আরো জানুনঃ-