“আমি একজন মেয়ে। আমার বাবা বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করেন। যদিও তার ডিপার্টমেন্ট সরাসরি সুদের সাথে সম্পর্কিত নয়, তবে যতদূর জানি এটাও হারামের সাথে সম্পৃক্ত। আমাদের একটি বাড়িও আছে, যেটি সুদসহ লোন নিয়ে তৈরি করা হয়েছিল, যদিও সেই লোন এখন পরিশোধ করা হয়েছে। বাড়িটি বাবার মালিকানাধীন। বাড়িভাড়া থেকে যে টাকা আসে, তা দিয়ে মূলত আমাদের খাবার ও আমার পড়াশোনার খরচ চলে, যা মা দেখাশোনা করেন। এছাড়া বাবা আলাদা করে আমাদের জন্য অতিরিক্ত খাবার, যেমন চা–কফি ও পোশাক কিনে দেন।
একজন তালিবুল ইলম হিসেবে এই পরিস্থিতিতে আমার করণীয় কী? বাবার কেনা খাবার কি এড়িয়ে চলা উচিত? কিন্তু যদি না খাই, বাবা বুঝতে পারবেন এবং পরিবারে অশান্তি হতে পারে। পোশাকের ক্ষেত্রেও একই বিষয়।
আমার নানাভাইয়ের আয়ের প্রধান উৎস ব্যাংকের মাসিক সুদ। তাদের বাড়ি আমাদের পাশেই। সেখানে গেলে আমি কীভাবে খাবার গ্রহণ করব? আমি সাধারণত চেষ্টা করি যেন তারা বুঝতে না পারেন যে আমি এড়িয়ে চলছি—কম খাই, কিন্তু সরাসরি না করি। তারা যদি টাকা উপহার দেন, আমি সাধারণত সেই টাকা দিয়ে তাদের জন্য কোনো উপহার কিনে ফেরত দিই।
আমি টিউশন করি। বাবার ও নানাভাইয়ের কাছ থেকে যতটুকু খাই, সেই হিসেবে তাদের জন্য কিছু কিনে দেওয়া কি উচিত? ছোটবেলা থেকেই আমি এই পরিবারেই বড় হয়েছি, তাই এত বছরের খাওয়া–দাওয়ার পুরো হিসাব তো পরিশোধ করা সম্ভব নয়।
আমি অনেক দোয়া করি এবং ভয় পাই যে হারাম খাদ্যের কারণে আল্লাহ আমার দোয়া কবুল না করুন। তাই শরিয়তের দৃষ্টিতে আমার সঠিক করণীয় কী?