আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির মূলত রুকইয়ার চিকিৎসা প্রয়োজন। রুকইয়া ট্রেনিংয়ের জন্য— এখানে ক্লিক করুন

0 votes
30 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (17 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ উস্তাদ

১/ বাবার বাড়িতে থাকাকালীন স্ত্রী এবং সন্তান এর চিকিৎসা, যাবতীয় খরচ দেওয়া কি স্বামীর দায়িত্ত্ব নাকি বাবার?

২/ আমার স্বামী আমার বাবার কাছে কয়েকমাস এর জন্য ধার বলে টাকা নিয়ে বছর অতিবাহিত হওয়ার পর এখনও টাকা ফেরত দিচ্ছে না। টাকার কথা আমি বললে বলছে যে দিবে আবার বলে জামাইয়ের কাছে টাকা দিয়ে কেউ নেয় নাকি। এগুলো কি যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে?

৩/ ধারের নামে টাকা যদি যৌতুক হয় তাহলে আমার স্বামীর জন্য ওই টাকাগুলো কি হারাম হবে? সেই টাকাগুলো আমার জন্য কি হারাম হবে?

৪/ উপহারের নামে আমার বাবা মায়ের দেওয়া আসবাপত্র আমার এবং আমার স্বামীর জন্য ব্যাবহার করা কি হারাম?

৫/ আমার বাবার ছেলে নেই ২ মেয়ে শুধু। এখন আমার স্বামী সবসময় এমন ভাবে বলেন যে আমার বাবার ছেলে নেই জন্য আমার বাবার টাকা,সম্পদ যেনো ওনাকেই দিবে। আমার মনে হয় যে আমার বাবার টাকা,সম্পদের উপর আমার স্বামীর লোভ। এক্ষেত্রে আমার স্বামীকে কিভাবে বুঝাবো?

৬/ বিয়ের সময় আমার বাবা দের লাখের মধ্যে একটা মোটরসাইকেল দিতে চেয়েছিল যদি তাঁর জামাই ভালো হয়। এখন এই টাকার জন্য স্বামী, শাশুড়ি যদি চাপ দেয় তাহলে কি এটা যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে?
৭/ আমার বিয়ের দেনমোহর আড়াই লাখ টাকা ঠিক হয়। পরে আমাকে একটা নাক ফুল দেওয়া হয় ২ হাজার টাকার সেই টাকা টা দেনমোহর থেকে বাদ দেওয়া হয়। এখন এটা কি দেনমোহর এর মধ্যে পরে?
৮/ বিয়ের ২ বছর পরও আমার স্বামী আমাকে দেনমোহর এর কোনো টাকা দেননি। এখন আমি কি তার কাছে দেনমোহর টাকা চাইতে পারবো? আর দেনমোহর উনি না দিলে কি সেটা মাফ হয় যদি মাফ না করি?

1 Answer

0 votes
ago by (744,030 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
শরীয়তের বিধান হলো, স্ত্রী গরিব হোক বা ধনী। অসুস্থ হোক সুস্থ। বৃদ্ধা হোক বা যুবতী,সর্বাবস্থায় স্ত্রীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব স্বামীর ওপর। এমনকি স্বামীর অনুমতিক্রমে স্ত্রী তার বাবার বাড়ি থাকলেও ভরণ-পোষণের অধিকারী হবে।

তবে স্বামীর অবাধ্য হয়ে স্ত্রী পিত্রালয়ে বা অন্য কোথাও চলে গেলে ভরণ-পোষণের অধিকারী হবে না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 

، اتَّقُوا اللَّهَ فِي النِّسَاءِ، فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانَةِ اللَّهِ، وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللَّهِ، وَإِنَّ لَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لَا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ، أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ، فَإِنْ فَعَلْنَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ، وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ،

তোমরা নারীদের সম্পর্কে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা তাদেরকে তোমরা আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছো এবং আল্লাহর বিধান মোতাবেক তোমরা তাদের লজ্জাস্থানকে নিজেদের জন্য হালাল করেছো। তাদের উপর তোমাদের অধিকার আছে, তারা যেন তোমাদের অপছন্দনীয় ব্যক্তিকে তোমার ঘরে স্থান না দেয়। তারা এরূপ করলে তাদেরকে খুবই হালকা মারধর করো।
‘তাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব তোমাদের ওপর। তোমরা তা স্বাভাবিকভাবে আদায় করবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৯০৫)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য হয়ে নিজ পিত্রালয়ে বা অন্য কোথাও চলে গেলে ভরণ-পোষণের অধিকারী হবে না।
,
তবে অবাধ্য হয়ে কোথাও চলে না গিয়ে স্বামীর বাসাতেই থাকলে স্ত্রী ভরণ-পোষণের অধিকারী হবে।

(০২)
প্রশ্নের বিবরন মতে স্বামী সেই টাকা পরিশোধ না করলে তাহা জুলুম হবে,যাহা অনেকটা যৌতুক এর নামান্তর।

(০৩)
এ টাকা পরিশোধ না করলে তা ব্যবহার করা আপনার স্বামীর জন্য হারাম হবে।

সেই টাকা আপনার স্বামী যদি পরিশোধ না করে তাহলে আপনার জন্য ব্যবহার হারাম হবে।

হ্যাঁ আপনার ব্যবহারকৃত টাকার ক্ষেত্রে আপনার বাবার যদি সমর্থন থাকে এবং তিনি যদি বলেন আপনার ব্যবহারকৃত টাকা তিনি ফেরত নেবেন না, সেক্ষেত্রে তা আপনার জন্য ব্যবহার করা হারাম হবে না।

(০৪)
সন্তুষ্টি চিত্তে দিয়ে থাকলে তা ব্যবহার করা আপনাদের জন্য হালাল হবে।

(০৫)
শ্বশুরের টাকা চেয়ে নিতে হয় না, তার টাকার উপর লোভ থাকা ঠিক নয়, বিভিন্ন ইসলামিক বিষয়গুলি তাকে বুঝাতে হবে। প্রয়োজনে কোন আলেমের কাছে তাকে পাঠিয়ে বিষয়গুলো তাকে বোঝাতে হবে।

(০৬)
হ্যাঁ, এটা যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে।

(০৭)
এটিকে দেনমোহরের মধ্যে গণ্য করা শুদ্ধ হবে।

(০৮)
আপনি তার কাছে দেনমোহর টাকা অবশ্যই চাইতে পারবেন।
এটি আপনার হক।

আর দেনমোহর উনি না দিলে এবং আপনি সন্তুষ্টি চিত্তে তাহা মাফ না করলে সেটা কোনোদিনও মাফ হবেনা। 

আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...