আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
73 views
in পবিত্রতা (Purity) by (9 points)
আসসালামু আলাইকুম।
১. প্রস্রাবের পরে পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগের অংশে স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব লেগে যায় বা ঝাঁকি দিলে অগ্রভাগের অংশেই অন্য জায়গাতে লেগে যায়। তো এমন অবস্থায় কি পানি ব্যবহার করা আবশ্যক? নাকি শুধু টিস্যু ব্যবহারই যথেষ্ট হবে?

২. কিতাবে এমন পড়েছিলাম যে, প্রস্রাব বাহিরে ছড়িয়ে পড়লে পানি ব্যবহার অত্যাবশ্যক। এই বিষয়টা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই।

1 Answer

0 votes
by (90,930 points)

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

পেশাব-পায়খানার পর; পবিত্রতা অর্জন করার তিনটি পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে।

প্রথম পদ্ধতি: শুধু ঢিলা/টিস্যু ব্যবহার করা: এক্ষেত্রে তিনটি টিলা/টিস্যু ব্যবহার করা সুন্নাহ। এ বিষয়ে বহু হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

 قَدْ عَلّمَكُمْ نَبِيكُمْ كُلّ شَيْءٍ حَتى الْخِرَاءَةَ قَالَ: فَقَالَ: أَجَلْ لَقَدْ نَهَانَا  أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِأَقَلّ مِنْ ثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ

সালমান ফারসী রা.-কে বলা হল, তোমাদের নবী তোমাদের সবকিছু শিক্ষা দিয়েছেন; এমনকি শৌচাগার ব্যবহারের পদ্ধতিও! আব্দুর রহমান বিন ইয়াযীদ রাহ. বলেন, সালমান রা. বললেন, ‘হাঁ, অবশ্যই! তিনি আমাদেরকে নিষেধ করেছেন, আমরা যেন ডান হাত দ্বারা ইস্তিঞ্জা না করি এবং ইস্তিঞ্জার সময় তিন পাথরের কম ব্যবহার না করি ।’ সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬২

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্ত আমল ও বাণী মুতাবেক অনেক সাহাবা ও তাবেয়ীনের আমল ছিল। তাঁরা পানি থাক বা না থাক শুধু ঢিলা দ্বারা ইস্তিঞ্জা করতেন।

এ অনুযায়ীই উম্মাহর ইমামগণের ফতোয়া। সকল ইমামের মত হল, পানি থাকুক বা নাই থাকুক সর্বাবস্থাই শুধু ঢিলা দ্বারা তাহারাত হাসিল করা জায়েয। আল ইসতিযকার ১/১৪৩

,

দ্বিতীয় পদ্ধতি: শুধু পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা। পেশাব-পায়খানার পর শুধু পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করার বিষয়ে সাহাবা ও তাবেয়ীন-যুগে দু-একজনের ভিন্নমত থাকলেও পরবর্তীতে এ বিষয়ে কোনো ইমামের মতবিরোধ নেই যে, পেশাব-পায়খানার পর শুধু পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা যাবে।

শুধু পানি দিয়ে ইস্তিঞ্জা করার ব্যাপারে আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

كَانَ رَسُوْلُ اللهِ  صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُ الْخَلاَءَ، فَأَحْمِلُ أَنَا وَغُلاَمٌ نَحْوِيْ إِدَاوَةً مِنْ مَاءٍ وَعَنَـزَةً، فَيَسْتَنْجِيْ بِالْمَاءِ

রাসূলুল্লাহ সা. পায়খানায় গেলে আমি এবং আমার সমবয়সী একটি ছেলে এক লোটা পানি ও একটি হাতের লাঠি নিয়ে রাসুল সা. অপেক্ষায় থাকতাম। অতঃপর তিনি পানি দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতেন।” সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫০

,

তৃতীয় পদ্ধতি: টিস্যু/ঢিলা ও পানি উভয়টা দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা। ঢিলা ব্যবহার করে পানি দ্বারা ধৌত করা কুরআন-সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীনের আমল দ্বারা প্রমাণিত। কারণ, তাতে অধিক পরিচ্ছন্নতা অর্জিত হয় এবং এই পদ্ধতিটাই সবচেয়ে উত্তম। তবে টিস্যু/ঢিলা ব্যবহারের ক্ষেত্রে  বাড়াবাড়ি করা কখনোই ঠিক হবে না। যেমন, প্রস্রাবের পর টিস্যু/ঢিলা হাতে নিয়ে শৌচাগারের বাইরে চল্লিশ কদম দেওয়া, লেফট-রাইট করা, বার বার উঠা-বসা করা, কেউ পানির পূর্বে ঢিলা ব্যবহার না করলে তাকে পশুর সাথে তুলনা ও ঘৃণা করা কিংবা কটু বাক্য বলে তাকে জর্জরিত করা ইত্যাদি ইত্যাদি।

,

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই!

,

১-২. শুধু টিস্যু দ্বারাও পবিত্রতা অর্জন করা যায়। তবে উত্তম হলো টিস্যু ব্যবহারের পর পানিও ব্যবহার করা। আর যদি শুধু টিস্যু ব্যবহার করা হয় এবং খুবই সামান্য নাপাকি লেগেও থাকে এটাসহ সালাত আদায় করলেও সালাত হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আর যদি নাপাকি বেশি থাকে এবং ছড়িয়ে যায় তাহলে টিস্যু ব্যবহারের পর অবশ্যই পানি ব্যবহারের মাধ্যমে উক্ত নাপাকি দূর করা আবশ্যক। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...