আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
114 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (1 point)

আসসালামু আলাইকুম। 

আমাদের বাসা ভাড়ার নোটিশ দেওয়ার পর এক চাকমা দম্পতি বাসা ভাড়া নেয় কিন্তু যে মাসে তাদের আসার কথা তারা সেই মাসে আসতে অনেক দেরী করে। মোটকথা, তারা বাসা ভাড়া নেওয়ার পর আমাদের বাসায় ১১ দিন ছিল। ওরা আমাদের বাসায় আসার বেশ কয়েকদিন পর আমরা কানাঘুষা শুনতে পাই যে, তারা একধরনের মদ বানায় তাদের বাসায়। এটা নিয়ে আমরা তাদের সাথে কথা বলি, তাদের বলি ঘর ছেড়ে দিতে,এবং যে কয়েকদিন থাকবে তারা এমন কোনো কাজ করতে পারবে না। (সাধারণ আমরা ভাড়াতিদের ২ মাস সময় দেই,কিন্তু তাদের বলেছি বেরিয়ে যেতে,মানে তারা যে মাসে এসেছে তারপর পরের মাসেই বেরিয়ে যেতে যেহেতু মে মাস শেষের দিকে)। তারাও বলে ছেড়ে দিবে এবং এমন কোনো কাজ করবে না। কিন্তু ৩ দিন আগে বিকাল বেলা কিছু ছেলে তাদের বাসায় গিয়ে টাকা দাবী করতে থাকে (তারা জানতে পেরেছিলো ভাড়াটি-টা মদ বানায় তাই চাঁদা নিয়ে এসে ছিল)। কিন্তু তারা ২ লক্ষ টাকা দাবী করে। আর তাদের কাছে এতো টাকা ছিল না, অবস্থা এতো খারাপ হয়ে যায় যে, তারা পুরুষকে মেরে ফেলতেও রাজী, কিন্তু ভাড়াটিয়া পুরুষ তখন লুকিয়ে ছিল৷ পরে তাকে অন্য ঘরে লুকাতে সাহায্য করে আমার আম্মু এবং তার বোন। তাদের কথা জীবন বাঁচানো ফরজ। এরমধ্যে ঘরে শুধু তার স্ত্রী আছে, তাকে আমাদের বাসায় এনে রাখে, কারণ ছেলেগুলো তার ক্ষতি করতে পারে। ছেলেগুলো আমাদের গলি পুরো ঘেরাও করে ফেলে, একজন দু'জন করে সব জায়গায় দাড়িয়ে থকে যাতে পুরুষ যদি কোথাও লুকিয়ে থাকে তাহলে বের না হতে পারে,আর যদি বাহিরে থাকে তারা যেন তাকে ধরতে পারে। এ-সময় আম্মু আর তার বোন অস্থির হয়ে যায় কারণ পুরুষটিকে তারা লুকিয়ে রেখেছে, তাকে বের করার পথ খুঁজতে থাকে। কারণ-

১.পুরুষটিকে পেলে তারা মারবে, ২. ছেলেগুলো আমাদের উপর ক্ষেপে যাবে, ৩. আমাদের ক্ষতি করতে পারে। আমাদের সম্মান নষ্ট হয়ে যাবে। (আমার বাবা এখানে সম্মানিত একজন ব্যক্তি)

তো তখন সন্ধ্যা ছিল। হঠাৎ ইলেকট্রিসিটি চলে যায়, তখন আমার আম্মু এবং তার বোন মিলে ঠিক করে এই সুযোগে পুরুষটিকে বের করে দিবে। কিন্তু পুরুষটি এখানে নতুন কিছু চেনে না, তাই আমার আন্টি আমাদের বাসার পিছনের রাস্তা দিয়ে বের করে দিয়ে আসে। তার স্ত্রী-কে আমার আম্মু বলে এ-জন্য আন্টিকে ৫০০-১০০০ টাকা দিতে। তার স্ত্রী-ও দিয়ে দেয়, ১০০০ টাকা দিয়েছিল। 

এখন আমার কথা হচ্ছে, আমার আম্মুরা পুরুষকে লুকিয়ে রেখে একটা পাপ করেছে, লোকটাকে যাওয়ার রাস্তা করে দিয়ে আরেকটা পাপ করেছে, আবার স্ত্রী থেকে ১ হাজার টাকা নেওয়াতে আরেকটা পাপ করেছে। আমার আম্মু প্রথম দুইটাকে পাপ মানলেও পরেরটাকে বলছে পারিশ্রমিক! বলছে যে, 'তোর আন্টি রিস্ক নিয়ে তাকে দিয়ে এসেছে এটা পারিশ্রমিক'। কিন্তু আমার মতে, এটা অনেকটা ঘুষের মতো,কারণ পুরুষটিকে তারা সাহায্য করেছে অনেকটা নিজেদেরকে বাঁচাতে। ঘুষের মতো না হলেও এটাও পাপ। কিন্তু আমার আম্মু এটা মানতে চাইছে না। তাই আমি চাই যে, আমাকে উত্তরটা বিশ্লেষণ করে দিবেন আমার আম্মুকে আমি দেখাবো। জাজাকুমুল্লাহি খইরন। 

(নোট: বাড়িটা যৌথবাড়ি, অর্ধেক আমাদের অর্ধেক আমার আন্টিদের)

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
মদ বানানো অপরাধ। এর জন্য শরয়ী ও দেশীয় আইনে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে, তাই বলে তার কাছে চাদা চাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। প্রকারন্তরে চাদা চেয়ে তাকে লাইসেন্স প্রদান করা। চাদা না দিলে মেরে ফেলা, এটা আরো বড় ধরণের অপরাধ। মৃত্যুর মুখ থেকে বাচানো এবং তাতে সাহায্য করা অপরাধ হিসেবে পরিগনিত হবে না।  তবে আপনার আন্টির জন্য টাকা নেওয়া উচিত হয়নি। উনার উচিত টাকা ফিরিয়ে দেওয়া বা সদকাহ করে দেওয়া।

হাসান ইবনে আলী রাযি থেকে বর্ণিত রয়েছে।
ﻭﻋﻦ ﺍﻟﺤَﺴَﻦِ ﺑﻦ ﻋَﻠﻲٍّ ﺭﺿﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗَﺎﻝَ : ﺣَﻔِﻈْﺖُ ﻣِﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﷺ : « ﺩَﻉْ ﻣَﺎ ﻳَﺮِﻳﺒُﻚَ ﺇِﻟﻰ ﻣَﺎ ﻻ ﻳﺮِﻳﺒُﻚ » ﺭﻭﺍﻩُ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ﻭﻗﺎﻝ : ﺣﺪﻳﺚٌ ﺣﺴﻦٌ ﺻﺤﻴﺢٌ 
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ কে বলতে শুনেছি।তিনি বলেন,সন্দেহ যুক্ত জিনিষকে পরিহার করে সন্দেহমুক্ত জিনিষকে গ্রহণ করো।(সুনানু তিরমিযি-২৪৪২)



(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...