+1 vote
29 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (101 points)
আসসালামু আলাইকুম।
১. ইতিকাফরত অবস্থায় তারাবীহের নামাজ একা একা পড়লে গুনাহ হবে? মসজিদে ইমাম ৫জি স্পীডে সুরা পড়ে এজন্য।

২. তারবীহের নামাজ কি জামাতে পড়া আবশ্যক সাধারণ অবস্থায়
৩. গিয়াসউদ্দিন তাহেরী একটা ওয়াজে গানের সুরে বললো আল্লাহ নাকি নবীকে(সাঃ) ধন দিয়ে আল্লাহ গায়েব হইছে। নবী(সাঃ) সেই ধন কোন খাজা বাবাকে দিছে, এখন কোন মানুষ নাকি সেই বাবার মাজার থেকে খালি হাতে ফিরে না। একজন আলেম রেজাউল করিম আবরার বলেছেন এরকম কথা বললে কাফির হয়ে যায় যারা এগুলো শুনে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ  বলে তাদেরও ইমান নষ্ট হয়ে যায়। তিনি একটা ফেসবুক পোস্টে এমনও বলেছেন জাহেলী যুগের কাফেরদের মধ্যে আর এদের মধ্যে পার্থক্য কি? এখন আমরা তাকে কি মনে করবো? সে কি কাফের? কারন কাফেরকে কাফের মনে না করলে সেও কাফের!
বিঃ দ্রঃ গিয়াসউদ্দিন তাহেরী মুলত মাজারকেন্দ্রীক লোক।
তার অন্য একটা ওয়াজে শুনেছি কিরামান কাতবীন রোজ হাশরের দিন জিগেস করলে সে নাকি বলবে সে খাজা বাবার লোক।

1 Answer

0 votes
by (117,760 points)
edited by
ওয়া আলাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
(১)
মসজিদে ইমাম ৫জি স্পীডে সুরা পড়েন। এজন্য কেউ মসজিদে একা একা তারাবিহর নামায পড়তে পারবেন না।কেননা শরীয়তের নিয়ম হল,মসজিদে একটি জামাত হওয়া।এবং একটি জামাতের অধীনে সবাইকে শরীক থাকা।মসজিদে জামাত হওয়ার পর বা জামাত চলাকালীন সময়ে মসজিদে কেউ ভিন্ন জামাতের সাথে বা একাকি নামায পড়তে পারবেন না।সুতরাং এ'তেকাফ অবস্থায় উনাকে মসজিদের জামাতের সাথেই নামায আদায় করতে হবে।

(২)
তারাবীহ এর সালাত প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমানের উপর সুন্নাতে মুআক্কাদা। 
এবং জামাতের সাথে আদায় করা সুন্নাতে মুআক্কাদা আ'লাল কিফায়া।

ফেকহে হানাফির নির্ভর্যোগ্য প্রসিদ্ধ গ্রন্থ "ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে" বর্ণিত আছে,
وَنَفْسُ التَّرَاوِيحِ سُنَّةٌ عَلَى الْأَعْيَانِ عِنْدَنَا كَمَا رَوَى الْحَسَنُ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى - وَقِيلَ: تُسْتَحَبُّ وَالْأَوَّلُ أَصَحُّ. وَالْجَمَاعَةُ فِيهَا سُنَّةٌ عَلَى الْكِفَايَةِ، كَذَا فِي التَّبْيِينِ وَهُوَ الصَّحِيحُ، كَذَا فِي مُحِيطِ السَّرَخْسِيِّ.
তারাবীহ সুন্নাতে মুআক্কাদা আলাল আইন।যেমন ইমাম আবু-হানিফা থেকে হাসানের রেওয়াতে বর্ণিত আছে।কেউ কেউ অবশ্য মুস্তাহাব ও বলেছেন।তবে প্রথম অভিমতটাই অধিক গ্রহণযোগ্য।এবং জামাতের সাথে তারাবীহের সালাত আদায় করা সুন্নাতে মুআক্কাদা আলাল কিফায়া। এভাবেই "তাবয়ীনুল হাক্বাইক্ব" নামক কিতাবে বর্ণিত আছে। এবং "মুহিতে সারাখসীতে" বর্ণিত আছে।(ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া,১/১১৬)

অন্যত্র বর্ণিত রয়েছে,
وَلَوْ تَرَكَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ كُلُّهُمْ الْجَمَاعَةَ فَقَدْ أَسَاءُوا وَأَثِمُوا، كَذَا فِي مُحِيطِ السَّرَخْسِيِّ.
যদি কোনো মসজিদের অধিবাসী সবাই জামাতকে ছেড়ে দেয়,তাহলে তারা গুনাহগার হবে,এভাবেই মুহিতে সারাখসীতে বর্ণিত আছে।বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/4047

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
তারাবিহ এর নামায সুন্নতে মু'আক্কাদা।সবাইকে পড়তে হবে।বিনা প্রয়োজনে তরক করলে গোনাহ হবে।মসজিদে জামাতের সাথে আদায় করা সুন্নতে মু'আক্কাদা আলাল কেফায়া।কিছু সংখ্যক মসজিদে আদায় করে নিলেই, সবার পক্ষ্য থেকে আদায় হয়ে যাবে।অন্যথায় সবাই গোনাহগার হবে।বিস্তারিত জানুন- 9808

(৩)
তাহেরীর উক্ত বক্তব্য সঠিক নয় বরং তা ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক।আল্লাহ উনাকে হেদায়ত দান করুক।এরকম আকিদা-বিশ্বাস লালন করলে ঈমান থাকবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (101 points)
–1
ইমাম দ্রুত পড়ে বিধায় ইতিকাফে থাকাকালীণ সময়ে ইমামে পিছে তারাবীহ না পড়ে  মসজিদের অন্য এক কোণে একা একা পড়া
by (117,760 points)
সংযোজন ও সংশোধন করা হয়েছে
by (4 points)
"মসজিদে জামাত হওয়ার পর বা জামাত চলাকালীন সময়ে মসজিদে কেউ ভিন্ন জামাতের সাথে বা একাকি নামায পড়তে পারবেন না।"----
অনেক সময় ওজর বসত জামাত ছুটে গেলে আমরা ছোট জামাত করে থাকি অথবা নিজে নিজেই সলাত আদায় করি এটা কি উচিত নয় তাহলে?? নাকি আলচ্য বিষয়টি নিয়তের সাথে সম্পৃক্ত?
by (117,760 points)
জামাতের পর আর জামাত করা যাবে না।তবে একাকি পড়া যাবে

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...