আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
290 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (51 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।

আমার স্বামী প্রচন্ড জালিম স্বভাবের হওয়ায় আমি তালাক চেয়েছি উনার কাছে। কিন্তু উনি কোনো ভাবেই রাজী নন তালাক দিতে।

বিয়ের সময় কাবিননামায় উনি সাইন করার পর কাজী ছাহেব উনাকে না জানিয়েই ১৮ নং পয়েন্ট এ হ্যাঁ লিখে দেন। কাজী আমাদের ও জানান নি। পরে হাসবেন্ড রেগে কাজী ছাহেব কে জিজ্ঞেস করলে কাজী বলেন যে হ্যাঁ ই নাকি লিখতে হয়। এটাই সরকার থেকে নিয়ম করা হয়েছে।

তো সম্প্রতি আমি নিজেই তালাকনামা সাইন করে উনাকে পাঠিয়েছি। উনি এই তালাকনামাকে লিখিত/মৌখিক কোনো ধরনের স্বীকৃতি ই দেন নি। এখন প্রশ্ন হলো তালাকটি কি আদোও হয়েছে? যদি না হয়ে থাকে, তবে করনীয় কি? কেননা, উনি কোনোভাবেই তালাক দিতে রাজী হচ্ছেন না। কিন্তু উনার সাথে সংসার করাও সম্ভব না।

(এক বোনের প্রশ্ন)

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
তালাক প্রদান করা সম্পূর্ণ স্বামীর অধীকার।হ্যা শরীয়ত কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্ত্রীকে নিজের উপর তালাক প্রদানের অনুমোদন দিয়েছে।যেমন,স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক প্রদানের অনুমতি প্রদান করলে,স্ত্রী নিজেকে তালাক দিতে পারবে।তাছাড়া স্বামী খোরপোষ না দিলে,স্ত্রী কাযী সাহেবের নিকট অভিযোগ দায়ের করতে পারবে।কিংবা স্বামী নিখোঁজ হলে বা ধ্বজভঙ্গ হলে কোর্ট বিবাহ ভঙ্গের রায় দিতে পারবে।

স্বামীর খোঁজখবর না থাকলে স্ত্রী চার বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।চার বছর অপেক্ষার পরও যদি স্বামীর কোনো খোঁজখবর না মিলে,কোর্ট স্বামীর পক্ষ্য থেকে বিবাহ ভঙ্গ করে দিবে।স্ত্রী তালাক দিতে পারবে না।তালাক দেয়ার অধীকার স্ত্রীর নেই।
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/4506


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন!
১৮ নং কলামে যদি স্বামী বাস্তবে তালাকের অধিকার না দেয়, তাহলে স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে না। সুতরাং স্ত্রী তালাকের নোটিশ প্রেরণ করলেও আল্লাহর কাছে তালাক হবে না। যদি ১৮ নং কলামে স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদাণ স্বামীর অগোচরে কাজী সাহেব দিয়ে থাকেন, তাহলে এজন্য কাজী সাহেব গোনাহগার হবেন।এবং দুনিয়ার বিচারে তখন স্ত্রী তালাকের অধিকার পেয়ে যাবে।তবে আল্লাহর আদালতে স্ত্রী এভাবে তালাকের অধিকার পাবে না।

সুতরাং ঐ বোন প্রথমে তার স্বামীকে খুলা তালাকের প্রস্তাব দিবে। স্বামী তাতে সায় না দিলে তখন ঐ বোন কোর্টে বিবাহ ভঙ্গের আবেদন করবে, তারপর কোর্ট স্বামীকে তলব করে হয় বিষয়টার মীমাংসা করবে, অথবা স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করবে অথবা কোর্ট বিবাহ ভঙ্গের ফয়সালা শুনিয়ে দিবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (814,710 points)
সংযোজন ও সংশোধন করা হয়েছে।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...