+1 vote
152 views
in সালাত(Prayer) by (44 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ,বিতর নামাজের সঠিক নিয়ম কি ?অনেকে বলেন রাসূলুল্লাহ (সঃ )এক রাকাত পড়েছেন ..অনেকে বলেন 3রাকাত ..আর উল্টা তাকবীর কতটুকু সঠিক ??

এবং দোআ কুনুত কি পড়তে হবে যদি 1রাকাত হয় ?

2 Answers

0 votes
by (52,200 points)

বিতির নামায সম্পর্কে পাকিস্তানের বিশিষ্ট গবেষক আলেম মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ লুধিয়ানভী রাহ.
'হাদীস ও আছারের আলোকে বিতর নামায'
শীর্ষক একটি ফেকহী মাক্বালা লিখেছেন- যা মাসিক আল-কাউছারে প্রকাশ করা হয়েছে।উনি এ সম্পর্কিয় যাবতীয় বিষয়বস্তুকে একজায়গায় একত্র করেছেন।তাই এ বিষয়ে নতুন করে লিখার কোনো প্রয়োজন নাই।
নিম্নে উনার মাক্বালাকে উপস্থাপন করছি-




'হাদীস ও আছারের আলোকে বিতর নামায'

 মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ লুধিয়ানভী রাহ.

বিতরের নামাযে দুই রাকাতের পর আত্তাহিয়্যাতুর জন্য বসা এবং তৃতীয় রাকাতে ফাতিহা-কিরাতের পর আল্লাহু আকবার বলে দুই হাত কান পর্যন্ত ওঠানো অতঃপর হাত বেঁধে কুনূত পাঠ করা সহীহ হাদীস ও আসারে সাহাবা দ্বারা প্রমাণিত। বিস্তারিত দলিল নিম্নে আলোচিত হল

বিতরের দ্বিতীয় রাকাতে বৈঠক–প্রসঙ্গ  

বিতরের দ্বিতীয় রাকাতে আত্তাহিয়্যাতুর জন্য বসা জরুরি। শরীয়তের যেসব উসূল ও আদিল্লা তথামূলনীতি ও দলীল-প্রমাণ দ্বারা বিষয়টি প্রমাণিত তা সংক্ষেপে আলোচনা করছি।

এক. সকল নামাযে দুই রাকাতের পর বৈঠক অপরিহার্য। এই মূলনীতি বহু হাদীসে পাওয়া যায়। কিছুহাদীস হাওয়ালাসহ উল্লেখ করা হল।

১.

উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, “প্রতি দু’ রাকাতে রয়েছে“আত্তাহিয়্যাতু।’”

وكان يقول في كل ركعتين التحية  সহীহ মুসলিম ১/১৯৪

২.

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. বলেন,-“আমরা জানতাম না প্রতি দু’ রাকাতে কী বলা হবে? তবে আমরা আমাদের রবের তাসবীহ, তাকবীর ও হামদ করতাম। হযরত মুহাম্মদ সাঃ আমাদেরকে দান করেছেন সকল কল্যাণের শিক্ষা। তিনি বলছেন-‘যখন তোমরা দুই রাকাতে বসবে তখন বলবে “আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহ”।

كنا لا ندري ما نقول في كل ركعتين، غير أن نسبح ونكبر ونحمد ربنا وأن محمدا صلى الله عليه وسلم علم فواتح الخير وخواتمه فقال : إذا قعدتم في كل ركعتين فقولوا التحيات لله.

মুসনাদে আহমদ ১/৪৩৭; সুনানে নাসায়ী ২/২৩৮; সহীহ ইবনে হিব্বান ৫/২৮১; সুনানে কুবরা,বায়হাকী ২/১৪৮

৩.

আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান ও আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান বলেন, আবু হুরায়রা রা.রমযানের ও রমযানের বাইরের, ফরয ও অন্য সকল নামাযে (যেভাবে) তাকবীর দিতেন, “তিনি (নামাযে) দাঁড়ানোর পর তাকবীর দিতেন, রুকুর সময় তাকবীর দিতেন,সিজদার আগে,সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ ও রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ বলতেন, সিজদায় যাওয়ার সময় আল্লাহুআকবার বলতেন,সেজদা থেকে মাথা ওঠানোর সময় তাকবীর দিতেন, (দ্বিতীয়) সেজদায় যাওয়ারসময় তাকবীর দিতেন, সেজদা থেকে মাথা ওঠানোর সময় তাকবীর দিতেন। অতপর দ্বিতীয় রাকাতেরবৈঠক থেকে ওঠার সময় তাকবীর দিতেন। নামায সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত প্রতি রাকাতে এভাবেই তিনিতাকবীর দিতেন। নামায শেষে বলতেন, ঐ সত্ত্বার কসম,যাঁর হাতে আমার প্রাণ। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামাযের সাথে তোমাদের মাঝে আমার সর্বাধিক নিকটসাদৃশ্যরয়েছে। তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া পর্যন্ত (জীবনভর) এভাবেই নামায আদায় করেছেন।’’

أن أبا هريرة كان يكبر في كل صلاة من المكتوبة وغيرها في رمضان وغيره فيكبر حين يقوم ثم يكبر حين يركع ثم يقول سمع الله لمن حمده ثم يقول ربنا ولك الحمد قبل ان يسجد ثم يقول الله اكبر حين يهوي ساجدا ثم يكبر حين يرفع رأسه من السجود ثم يكبر حين يقوم من الجلوس في الإثنتين ويفعل ذلك في كل ركعة حتى يفرغ من الصلاة ثم يقول حين ينصرف والذي يفسي بيده إني لأقربكم شبها بصلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم  إن كانت هذه لصلاته حتى فارق الدنيا

মুসনাদে আহমদ ২/৪৫৪; মুসান্নাফ, আবদুর রাযযাক ২/৬২; বুখারী ১/৩১৮; মুসলিম ২/২৬৬; আবুদাউদ ১/২২১; নাসায়ী ২/২৩৩)

৪.

হযরত আলী রা.-এর সূত্রে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিবসের নামাযেরবিবরণ সম্বলিত একটি হাদীসে আছে-তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি দু’রাকাতেরমাঝে ব্যবধান করতেন আল্লাহর নৈকট্যশীল ফেরেশতা এবং নবীরাসূল ও তাঁদের অনুসারীমুমিন্তমুসলমানদের জন্য তাসলীম (রহমত ও সালামতের দোয়ার) দ্বারা।’

كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا كانت الشمس من ههنا كهيئتها من ههنا عند العصر صلى ركعتين وإذا كانت الشمس من ههنا كهيئتها عند الظهر صلى أربعا وصلى أربعا قبل الظهر وبعدها ركعتين وقبل العصر أربعا يفصل بين كل ركعتين بالتسليم على الملائكة المقربين والنبيين والمرسلين ومن تبعهم من المؤمنين والمسلمين.

(মুসনাদে আহমদ ১/৮৫;  মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৪/২৮০; মুসান্নাফ  আবদুর রাযযাক ৩/৬৩;তিরমিযী ২/২৯৪, ৪৯৪; নাসায়ী ২/১২০; ইবনে মাজাহ ১/৩৬৭)

উপরোক্ত হাদীসে ‘তাসলীম’ দ্বারা তাশাহহুদ পাঠ বোঝানো হয়েছে। ইমাম ইসহাক ইবনে রাহুয়াহ বলেন,দুই রাকাতের মাঝে তাসলীম দ্বারা তাশাহহুদ পাঠ বোঝানো হয়েছে ।

ومعنى أنه يفصل بينهن بالتسليم يعني التشهد

জামে তিরমিযী ২/২৯৪

উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা.-এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটিহাদীস ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতি দু’ রাকাতে রয়েছে আত্তাহিয়্যাতু।’ তদ্রূপ উম্মুল মুমিনীনউম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘প্রতি দু’রাকাতে আছে (তাওহীদ ও রিসালাতের) সাক্ষ্যদান এবং (সকল) নবী-রাসূল ও তাঁদের অনুসারী আল্লাহরবান্দাদের জন্য সালাম।’

إن النبي صلى الله عليه وسلم قال : في كل ركعتين تشهد وتسليم على المرسلين وعلى من تبعهم من عباد الله الصالحين. وفيه : علي بن زيد، واختلف في الاحتجاج به، وقد وثق.

মুজামে কাবীর তবারানী-মাজমাউয যাওয়াইদ ২/৩৩২

৫.

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নামাযেরমাঝে ও নামাযের শেষে তাশাহহুদ পাঠ করতে শিখিয়েছেন। তিনি বলতেন, যখন (নামাযী) নামাযেরমাঝে ও নামাযের শেষে নিতম্বের উপর বসবে তখন …।’’

علمني رسول الله صلى الله عليه وسلم التشهد في وسط الصلاة وفي آخرها فكان يقول إذا جلس في وسط الصلاة وفي آخرها على وركه.

মুসনাদে আহমদ ১/৪৫৯

৬.

উম্মে সালামা রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রতি দু’ রাকাতে রয়েছেতাশাহহুদ এবং রাসূল-নবী ও তাঁদের অনুসারী আল্লাহর নেকবান্দাদের প্রতি সালাম।’’

في كل ركعتين تشهد وتسليم على المرسلين وعلى من تبعهم من عباد الله الصالحين.

(মুজামে কাবীর, তবারানী-মাজমাউয যাওয়াইদ ২/৩৩২)

৭.

আবু সায়ীদ খুদরী রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অযু নামাযের চাবি,তাকবীর তার সূচনা ও সালাম তার সমাপ্তি। আর প্রতি দু’ রাকাতে সালাম পাঠ কর। অর্থাৎ তাশাহহুদপড়। আর নামায হয় না ফাতিহাতুল কিতাব ও কিছু অংশ ছাড়া।

والضوء مفتاح الصلاة والتكبير تحريمها والتسليم تحليلها وفي كل ركعتين فسل يعني فتشهد ولا تجزئ صلاة إلا بفاتحة الكتاب ومعها غيرها.

(কিতাবুল আছার, পৃ. ১৫৭) সুনানে দারাকুতনী ১/৩৬৬; সুনানে কুবরা, বায়হাকী ২/৩৮০

৮.

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, সকল নামাযে কিরাত আছে। আর আছে দু’ রাকাতে বসা এবংতাশাহহুদ ও তাসলীম। তুমি যদি তা আদায় না কর তাহলে তোমাকে সালাম ফিরিয়ে দু’টি সিজদা করতেহবে।’’

ليس من صلاة إلا وفيها قراءة وجلوس في الركعتين وتشهد وتسليم فإن لم تفعل سجدت سجدتين بعدما تسلم وأنت جالس.

মুসান্নাফ, ইবনে আবী শায়বা ৬/৪৭

৯.

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, ‘‘দু’ রাকাতের পর ‘বিশ্রাম’ তো তাশাহহুদের জন্যই।’’

ما جعلت الراحة في الركعتين إلا للتشهد

মুসান্নাফ, ইবনে আবী শায়বা ৩/৪৭

এজন্যই নামাযের প্রতি দু’ রাকাতের পর বৈঠক করা ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ.-এর মতে ফরয,ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর মতে ওয়াজিব এবং ইমাম মালিক ও ইমাম শাফেয়ী রাহ.-এর মতে সুন্নত।মাযহাবসমূহের বিবরণ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, দ্বিতীয় রাকাতে বৈঠক ওয়াজিব হওয়ার মতটি হলমাঝামাঝি ও ভারসাম্যপূর্ণ।

শরীয়ত যখন সকল নামাযের জন্য একটি মূলনীতি নির্ধারণ করেছে তখন বিতরের নামাযও যে সেমূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

মোটকথা, বহু হাদীসে এ বিষয়টি রয়েছে যে, নামাযের প্রতি দু’ রাকাতে তাশাহহুদ পাঠ করতে হবে।সালাতুল লায়ল ও বিতর সংক্রান্ত ইবনে উমর রা.-এর হাদীসেও এই মূলনীতি উল্লেখিত হয়েছে। অতএববিতর নামাযকে তা থেকে খারিজ করার কোনো অবকাশ নেই।

দুই. 

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর সূত্রে বর্ণিত মশহূর হাদীস-

صلاة الليل مثنى مثنى

‘‘রাতের নামায দুই রাকাত, দুই রাকাত’’ সালাতুল লায়ল ও বিতর সম্পর্কেই বলা হয়েছে। এই হাদীসথেকে দু’টি বিষয় বোঝা যায় :

১.

নামায সর্বনিম্ন দুই রাকাত। এর নীচে নামায নেই। এজন্য ফরয থেকেনফল কোনো নামাযই এক রাকাত পড়ার নিয়ম নেই। অতএব বিতর নামাযেও এর ব্যতিক্রম হবে না।

২.

নামাযের প্রতি দু’ রাকাতে আত্তাহিয়্যাতুর জন্য বসা জরুরি। এটা ছাড়া দুই রাকাত সম্পন্ন হয় না।সহীহ মুসলিমে (১/২৫৭) আছে যে, ইবনে উমর রা.কে জিজ্ঞাসা করা হল, দুই রাকাত, দুই রাকাতকথাটার অর্থ কী? তিনি বললেন, প্রতি দু’ রাকাতের পর সালাম পাঠ করবে।’

قيل لابن عمر : ما مثنى مثنى؟ قال : أن تسلم في كل ركعتين.

এখানে সালাম পাঠ অর্থ আত্তাহিয়্যাতু পড়া। এই ব্যাখ্যা হাদীস শরীফ থেকেই পাওয়া যায়। ইতিপূর্বেতা আলোচনা করা হয়েছে।

তিন. 

মুতাওয়াতির’ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন রাকাত বিতরপড়তেন। সা’দ ইবনে হিশামের বর্ণনায় একথাও আছে যে, দ্বিতীয় রাকাতে আত্তাহিয়্যাতু পড়তেন। তবেসালাম ফেরাতেন না। হুবহু এটিই হচ্ছে হানাফী মাযহাব।

আর হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা. ও আরো যেসব সাহাবীর রেওয়ায়েতে পাঁচ, সাত বা নয় রাকাত বিতরপড়ার কথা আছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে যে, এসব রেওয়ায়েতে বিতর ওতাহাজ্জুদের সমষ্টিকে বিতর শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে।

চার. 

শরীয়তে এমন কোনো নামায নেই, যা শুধু এক রাকাত পড়া যায় কিংবা মাঝে তাশাহহুদ ছাড়া দু’রাকাতের অধিক আদায় করা যায়।

যারা বিতর নামাযে শরীয়তের এই মূলনীতিকে অস্বীকার  করেন এবং রাবীদের তাবীর ও উপস্থাপনায়বিভ্রান্ত হয়ে বিতর নামায পাঁচ, সাত বা নয় রাকাত এক সালামে ও এক বৈঠকে  আদায় করার ফতোয়াদেন তারা কি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর নিম্নোক্ত রেওয়ায়েতেরও এমন অর্থই করবেন? ইবনেআব্বাস রা. বলেন,আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আট রাকাত একসাথে ও সাতরাকাত একসাথে আদায় করেছি।’

صليت مع النبي صلى الله عليه وسلم ثمانيا جميعا وسبعا جميعا.

তারা কি বলবেন যে, যোহর-আসরের আট রাকাত এবং মাগরিব-ইশার সাত রাকাত এক বৈঠক ও একসালামে আদায় করা যাবে? তদ্রূপ যারা “বিতর এক রাকাত রাতের শেষে”-এই বর্ণনার ভিত্তিতে ফতোয়াদেন যে, বিতর এক রাকাত পড়াও জায়েয তারা কি হজ্ব হল আরাফা-এই হাদীসের ভিত্তিতে বলবেন যে,শুধু উকুফে আরাফা দ্বারাই হজ্ব সম্পন্ন হয়, অন্যান্য কাজকর্মের কোনো প্রয়োজন নেই?

যদি তারা এমন না বলেন এবং কোনো বর্ণনার বিশেষ উপস্থাপনার দ্বারা শুধু এই কারণে ভুলবোঝাবুঝির শিকার না হন যে, যোহর-আসর ও মাগরিব-ইশার নিয়ম তো সুবিদিত, তদ্রূপ হজ্বেরআরকান ও আহকাম সম্পর্কেও কোনো অস্পষ্টতা নেই তাহলে বিতরের ক্ষেত্রেও একথা মনে রাখাউচিত। কারণ মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা বিতর তিন রাকাত হওয়া এবং নামায বিষয়ক শরীয়তের উসূলও আদিল্লা দ্বারা প্রতি দু’ রাকাতের পর বৈঠক হওয়া সুপ্রমাণিত। অতএব বর্ণনাসমূহের ভাষাগতবিভিন্নতাকেও এরই আলোকে বুঝতে হবে। বর্ণনাকারীদের ভাষাগত বিভিন্নতাকে স্বতন্ত্র নীতি ও পদ্ধতিসাব্যস্ত করে মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও সুবিদিত নিয়মকে অস্বীকার করা মোটেই যুক্তিসংগতচিন্তা নয়।

দুআয়ে কুনূত রুকুর আগে,না পরে?

এ বিষয়ে মতভেদ আছে যে, কুনূত শুধু বিতর নামাযেই পড়া হবে, না ফজরের নামাযেও; তদ্রূপ রুকুর আগে পড়া হবে, না রুকুর পরে। হানাফী মাযহবের আলিমগণ বলেন, বিতরের কুনূত সারা বছর পড়া হবে এবং রুকুর আগে পড়া হবে।

পক্ষান্তরে কুনূতে নাযেলা রুকুর পরে ও বিশেষ বিশেষ অবস্থায় পড়া হবে। রুকুর আগেও রুকুর পরে কুনূত পড়া সংক্রান্ত রেওয়ায়েতসমূহের মাঝে হানাফী আলিমগণ এভাবেই সমন্বয় করে থাকেন।

সহীহ বুখারী ১/১৩৬, ‘বাবুল কুনূত কাবলার রুকু ওয়া বা’দাহ’ শীর্ষক পরিচ্ছেদে আছে, ‘আসিম আহওয়াল বলেন, ‘আমি (হযরত) আনাস ইবনে মালিক রা.কে কুনূত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ‘কুনূত আছে।’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম, রুকুর আগে, না পরে? তিনি বললেন, ‘রুকুর আগে।’ আমি বললাম, জনৈক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন যে, আপনি রুকুর পরে কুনূত পড়ার কথা বলেছেন? তিনি বললেন, ‘সে ভুল বলেছে। রুকুর পরে তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু এক মাস কুনূত পড়েছেন।’

حدثنا عاصم قال : سألت أنس بن مالك رضي الله عنه عن القنوت فقال : كانت القنوت، قلت : قبل الركوع أو بعده؟ قال : قبله، قلت : فإن فلانا أخبرني عنك إنك قلت : بعد الركوع، فقال : كذب، إنما قنت رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد الركوع شهرا.

হযরত আনাস রা. থেকেই অন্য রেওয়ায়েতে আছে, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত কুনূত পড়েছেন। আবু বকর রা.ও মৃত্যু পর্যন্ত কুনূত পড়েছেন, উমর রা.ও মৃত্যু পর্যন্ত কুনূত পড়েছেন।’

إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قنت حتى مات، وأبو بكر رضي الله عنه حتى مات، وعمر رضي الله عنه حتى مات، رواه البزار، ورجاله موثقون.

(বাযযার-মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৩৯)

এই বর্ণনায় বিতরের কুনূতই উদ্দেশ্য। কারণ ফজরের কুনূত সর্বদা পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায় না; বরং বিপরীত বিষয়টি সহীহ বুখারীর উপরোক্ত হাদীস ছাড়াও বিভিন্ন হাদীসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। এজন্য মুসনাদে আহমদ ও বাযযারের নিম্নোক্ত বর্ণনায় ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া পর্যন্ত (অর্থাৎ জীবনভর) ফজরের নামাযে কুনূত পড়েছেন।’

ما زال رسول الله صلى الله عليه وسلم يقنت في الفجر حتى فارق الدنيا.

‘ফিল ফজর’ শব্দটি রাবীর ভুল না হয়ে থাকলে কুনূতে নাযিলা উদ্দেশ্য।

মোটকথা, বহু হাদীসের ভিত্তিতে হানাফী মাযহাবের সিদ্ধান্ত এই যে, কুনূতে নাযিলা, যা ফজরের নামাযে এবং (কখনো কখনো অন্য নামাযেও) পড়া হয় তা রুকুর পরে হবে আর তা হল বিশেষ পরিস্থিতির কুনূত। পক্ষান্তরে বিতরের কুনূত সর্বদা রুকুর আগে পড়া হবে। আর এটিই হচ্ছে সারা বছরের কুনূত।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

+1 vote
by (52,200 points)

২য় পৃষ্টা

রুকুর আগে দুআয়ে কুনূতের দলীল

বিতরের কুনূত রুকুর আগে হওয়া বহু হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

১.

হযরত উবাই ইবনে কা’ব রা. বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন রাকাত বিতর পড়তেন … এবং রুকুর আগে কুনূত পাঠ করতেন।’

عن أبي بن كعب رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يوتر بثلاث ركعات … ويقنت قبل الركوع.

(নাসায়ী ১/২৪৮)

ইবনে মাজার রেওয়ায়েতে আছে-‘তিনি বিতর পড়তেন এবং রুকুর আগে কুনূত পাঠ করতেন।’

كان يوتر فيقنت قبل الركوع    (ইবনে মাজাহ পৃ. ৮৪)

২.

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর নামাযে রুকুর আগে কুনূত পড়তেন।’

عن ابن مسعود رضي الله عنه إن النبي صلى الله عليه وسلم قنت في الوتر قبل الركوع، قال الدار قطني وأبان بن أبي عياش متروك، قلت : ورواه الخطيب في كتاب القنوت من غير طريق أبان بن أبي عياش وذكره ابن الجوزي في التحقيق من جهة الخطيب وسكت عنه إلا أنه قال :  أحاديثنا مقدمة كما في نصب الراية قال الترمذي في العلل : وقد روى غير واحد عن إبراهيم النخعي عن علقمة عن عبد الله بن مسعود أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقنت في وتره قبل الركوع.

৩.

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন রাকাত বিতর পড়তেন এবং রুকুর আগে কুনূত পাঠ করতেন।’

عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يوتر بثلاث ركعات ويجعل القنوت قبل الركوع، قال الطبراني : لم يروه عن عبيد الله إلا سعيد بن سالم كما في نصب الراية.

৪.

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, ‘আমি একরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে ছিলাম। তিনি  শয্যাত্যাগ করলেন এবং দুই রাকাত নামায পড়লেন। এরপর উঠে বিতর পড়লেন। প্রথম রাকাতে ফাতিহার পর সূরা আ’লা পাঠ করলেন। এরপর রুকু ও সিজদা করলেন। দ্বিতীয় রাকাতে ফাতিহা ও কাফিরূন পাঠ করলেন এবং রুকু-সিজদা করলেন। তৃতীয় রাকাতে ফাতিহা ও ইখলাস পাঠ করলেন। এরপর রুকুর আগে কুনূত পড়লেন।’

عن ابن عباس رضي الله عنهما قال : بت عند النبي صلى الله عليه وسلم، فقام من الليل فصلى ركعتين، ثم قام فأوتر فقرأء بفاتحة الكتاب وسبح اسم ربك الأعلى ثم ركع وسجد ثم قام فقرأ يفاتحة الكتاب وقل يا أيها الكافرون ثم ركع وسجد وقام فقرأ بفاتحة الكتاب و قل هو الله أحد ثم قنت ودعا قبل الركوع.

(কিতাবুল হুজ্জাহ ১/২০১; হিলয়া, আবু নুআইম-নসবুর রায়াহ ২/১২৪)

৫.

আসওয়াদ রাহ. বলেন, ‘আমি ছয় মাস (হযরত) উমর রা.-এর সোহবতে ছিলাম। তিনি বিতর নামাযে রুকুর আগে কুনূত পড়তেন।’

عن الأسود قال : صحبت عمر بن الخطاب رضي الله عنه ستة أشهر فكان يقنت في الوتر قبل الركوع.

(কিতাবুল হুজ্জাহ ১/২০১)

৬.

আসওয়াদ রাহ. বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বিতর ছাড়া অন্য কোনো নামাযে কুনূত পড়তেন না। আর বিতরে কুনূত পড়তেন রুকুর আগে।’

عن الأسود أن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه كان لا يقنت في شيء من الصلوات إلا في الوتر قبل الركوع.

(মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২/৩০২; কিতাবুল হুজ্জাহ, ইমাম মুহাম্মাদ ১/২০১; মাজমাউয যাওয়াইদ ২/২২৪

৭.

আলকামা রাহ. বলেন, ‘(হযরত) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. ও অন্যান্য সাহাবী বিতর নামাযে রুকুর আগে কুনূত পড়তেন।’

عن علقمة أن ابن مسعود وأصحاب النبي صلى الله عليه وسلم رضي الله عنهم كانوا يقنتون في الوتر قبل الركوع.

(মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২/৩০২)

ইমাম ইবনে আবী শাইবা রাহ. বলেন, ‘আমাদের নিকটে বিতরের কুনূত রুকুর আগে পড়াই সঠিক।’

قال بن أبي شيبة هذا الأمر عندنا

(প্রাগুক্ত)

বিতরের কুনূতে তাকবীর ও রাফয়ে ইয়াদাইন

যারা উপরোক্ত হাদীসসমূহের ভিত্তিতে রুকুর আগে কুনূত পড়ার কথা বলেন তাদের নিকট কিরাত ও কুনূতের মাঝে তাকবীর দেওয়া সুন্নত। এই তাকবীরের সাথে রাফয়ে ইয়াদাইন আছে। এ প্রসঙ্গে কিছু রেওয়ায়েত উল্লেখ করা হল।

১.

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর নামাযে রুকুর আগে কুনূত পড়তেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি আমার মা উম্মে আব্দকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গৃহে পাঠালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীনদের সাথে রাত্রিযাপন করলেন এরপর জানালেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকুর আগে কুনূত পড়েছেন’।’’

عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم  كان يقنت في الوتر قبل الركوع قال : ثم أرسلت أمي أم عبد فباتت عند نساءه فأخبرتني أنه قنت في الوتر قبل الركوع.

(মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২/৩০২)

হাফেয ইবনে আবদিল বার ‘আলইসতীআব ফী মা’রিফাতিল আসহাব’ কিতাবে লেখেন, ‘উম্মে আবদ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর মহিয়সী জননী। তাঁর থেকে পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বর্ণনা করেন যে, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রুকুর আগে কুনূত পড়তে দেখেছি।’ তাঁর সম্পর্কেই ঐ হাদীসটি প্রসিদ্ধ, যা হাফ্স ইবনে আবু সুলায়মান বর্ণনা করেন আবান ইবনে আবী আইয়াশ থেকে, তিনি ইবরাহীম নাখায়ী থেকে, তিনি আলকামা থেকে বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, ‘আমি আমার আম্মাকে বললাম তিনি যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গৃহে রাত্রিযাপন করেন এবং তাঁর বিতর পড়া দেখেন। আম্মা তা করলেন (এবং জানালেন যে,) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নামায পড়লেন যে পরিমাণ আল্লাহর ইচ্ছা, রাতের শেষ অংশে। এরপর বিতর নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা আ’লা ও দ্বিতীয় রাকাতে সূরা কাফিরূন পড়লেন। এরপর বৈঠক করলেন এবং সালাম না ফিরিয়ে (তৃতীয় রাকাতে) দাঁড়ালেন। এই রাকাতে সূরা ইখলাস পড়লেন। এরপর তাকবীর দিয়ে দুআয়ে কুনূত পাঠ করলেন এবং যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছা দুআ করলেন। এরপর তাকবীর দিয়ে রুকু করলেন।’

وفي الإستيعاب لابن عبد البر : أم عبد أم عبد الله بن مسعود روى عنها ابنها عبد الله بن مسعود أنها قالت : رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم قنت في الوتر قبل الركوع. ويعرف أيضا بها حديث أم بن مسعود يرويه حفص بن سليمان عن أبان بن عياش عن إبراهيم النخعي عن علقمة عن عبد الله قال أرسلت أمي ليلة لتبيت عند النبي صلى الله عليه وسلم فتنظر كيف يوتر فباتت عند النبي صلى الله عليه وسلم فصلى ما شاء الله أن يصلي حتى إذا كان آخر الليل وأراد الوتر قرأ بسح اسم ربك الأعلى في الركعة الأولى وقرأ في الثانية قل يا أيها الكافرون ثم قعد ثم قام ولم يفصل بينهما بالسلام ثم قرأ بقل هو الله أحد حتى إذا فرغ كبر ثم قنت فدعا بما شاء الله أن يدعوه ثم ركع فكبر.

(আলইসতীআব ৪/৪৫০; ইসাবার টীকায়)

২.

আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত, মাসরূক রাহ., আসওয়াদ রাহ. ও ইবনে মাসউদ রা.-এর অন্য শাগরিদগণ বলেছেন,আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. শুধু বিতর নামাযে কুনূত পড়তেন আর তিনি কুনূত পড়তেন রুকুর আগে এবং কিরাআত সমাপ্ত হওয়ার পর কুনূত পড়ার সময় তাকবীর দিতেন।

عن مسروق والأسود وأصحاب عبد الله قالوا كان عبد الله لا يقنت إلا في الوتر وكان يقنت قبل الركوع يكبر إذا فرغ من قراءته حين يقنت

{শরহু মুশকিলিল আছার ১১/৩৭৪ আরো দেখুন : মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২/৩০৭}

এই রেওয়ায়েতটি বর্ণনা করার পর ইমাম তহাবী রাহ. বলেন, ‘এ ধরনের বিষয়  যুক্তি ও ইস্তিম্বাতের ভিত্তিতে বলা (বা করা) যায় না। তা একমাত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুস্পষ্ট শিক্ষা থেকেই গৃহীত হতে পারে।

إذ كان مثله لا يقال بالاستنباط ولا بالاستخراج وإنما يقال بالتوقيف الذي وقف رسول الله صلى الله عليه وسلم الناس عليه.

শরহু মুশকিলিল আছার ১১/৩৭৪-৩৭৫

ইমাম তহাবী রাহ. আরো বলেন, হযরত ওমর ফারূক রা.-এর আমলও এ পদ্ধতি সমর্থন করে। কারণ তিনি ফজরের নামাযে রুকুর আগে যখন কুনূত পড়তেন তখন কুনূতের জন্য তাকবীর দিতেন।-শরহু মুশকিলিল আছার ১১/৩৭৫-৩৭৬

৩.

আসওয়াদ রাহ. বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বিতরের কুনূতের জন্য রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন।’

عن الأسود قال عن عبد الله مسعود رضي الله عنه كان يرفع يديه إذا قنت في الوتر

(মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২/২৭-২৮)

৪.

ইমাম বুখারীর ‘রিসালা রাফয়িল ইয়াদাইনে’ (পৃ. ২৪) আছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বিতরের শেষ রাকাতে সূরা ইখলাস পড়তেন, এরপর রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন এবং রুকুর আগে কুনূত পাঠ করতেন।’

أنه كان يقرأ في آخر ركعة من الوتر قل هو الله احد ثم رفع يديه فيقنت قبل الركعة

৫.

আবু উছমান বলেন, ‘উমর রা. কুনূতে রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন।’

عن أبي عثمان كان عمر رضي الله عنه يرفع يديه في القنوت

(জুয্উ রাফয়িল ইয়াদাইন পৃ. ২৮)

৬.

ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেছেন, ‘বিতর নামাযে কুনূত ওয়াজিব, রমযানে ও রমযানের বাইরে। যখন তুমি কুনূত পড়ার ইচ্ছা করবে তখন তাকবীর দিবে, এরপর (কুনূতের পর) যখন রুকু করার ইচ্ছা করবে তখন পুনরায় তাকবীর দিবে।

محمد قال : أخبرنا أبو حنيفة عن حماد عن إبراهيم أن ألقنوت في الوتر واجد في شهر رمضان وغيره وإذا أردت أن تقنت فكبر وإذا أردت أن تركع فكبر أيضا

(কিতাবুল আছার ১/৫৭৯; কিতাবুল হুজ্জাহ ১/২০০)

এই রেওয়ায়েত বর্ণনা করার পর ইমাম মুহাম্মাদ রাহ. বলেন, ‘আমরা এই তরীকা মোতাবেকই আমল করি। আর কুনূতের তাকবীরে সেভাবেই হাত তুলবে যেভাবে নামাযের শুরুতে তোলা হয়। এরপর হাত বেঁধে দুআ করবে। এটিই ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর সিদ্ধান্ত।’

قال محمد وبه نأخذ ويرفع يديه في التكبيرة الأولى قبل القنوت كما يرفع يديه في افتتاح الصلاة ثم يضعهما ويدعو وهو قول أبي حنيفة رضي الله عنه   .

(কিতাবুল আছার ১/৫৭৯)

ইমাম তহাবী রাহ. বলেন, বিতর নামাযে কুনূতের তাকবীর হল এই নামাযে একটি অতিরিক্ত তাকবীর। যারা রুকুর পূর্বে কুনূত পড়ার কথা বলেন তাদের ইজমা রয়েছে যে,এই তাকবীরের সাথে রাফয়ে ইয়াদাইনও করতে হবে।

وأما التكبير في القنوت في الوتر فإنها تكبيرة زائدة في تلك الصلاة وقد أجمع الذين يقنتون قبل الركوع على الرفع معها.

(তহাবী ১/৩৩২)

দুআয়ে কুনূতে হাত বাঁধা

বিতরের কুনূতে হাত বাধা-না বাঁধার ক্ষেত্রে তিনটি সম্ভাবনা আছে :

১. দোয়ার মতো হাত ওঠানো হবে।

২. কওমার মতো দুই হাত ছেড়ে দেওয়া

৩. রাফয়ে ইয়াদাইনের তার কিয়ামের মতো দুই হাত বাঁধা।

প্রথম পদ্ধতিটি হানাফী ইমামগণের নিকট পসন্দনীয় নয়। কারণ নামাযের যত জায়গায় দোয়া আছে কোথাও হাত ওঠানোর নিয়ম নেই। যদিও হাত তুলে দোয়া করাই দোয়ার সাধারণ নিয়ম। কিন্তু  নামাযের মধ্যে হাত তুলে দোয়া করার বিধান নেই। এজন্যই ইবনে উমর রা. এই পদ্ধতিকে বিদআত বলেছেন।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন,‘দেখ,তোমরা যে ফজরের নামাযেও ইমামের কিরাত শেষে কুনূতের জন্য দাড়াও,আল্লাহর কসম,এটা বিদআত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুধু এক মাস করেছেন। দেখ, তোমরা যে নামাযে হাত তুলে কুনূত পড়,আল্লাহর কসম,এটিও বিদআত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো শুধু কাঁধ পর্যন্ত হাত তুলতেন।

قال عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال : أرأيتم قيامكم عند فراغ الإمام من السورة هذا القنوت والله إنه لبدعة ما فعله رسول الله صلى الله عليه وسلم غير شهر ثم تركه أرأيتم رفعكم في الصلاة والله إنه لبدعة ما زاد رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا قط فرفع يديه حيال منكبيه، رواه الطبراني في الكبير وفيه شهر بن حوشب ضعفه أحمد وابن معين وأبو زرعة وأبو حاتم والناسئي ووثقه أيوب وابن عدي.

(আলমু’জামুল কাবীর তবারানী; মাজমাউয যাওয়াইদ ২/১৩৭)

উপরোক্ত রেওয়ায়েতের সরল অর্থ এটাই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুনূতের জন্য যদিও রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন কিন্তু দুআর মতো হাত উঠিয়ে কুনূত পড়তেন না।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় পদ্ধতি সম্পর্কে কথা এই যে, কুনূত যদি রুকুর আগে পড়া হয়, যেমন বিতরের কুনূত, তো রুকুর আগের হালত যেহেতু কিয়ামের হালত, আর কিয়ামের হালতে হাত বাঁধা সুন্নত তাই এ সময় হাত বাঁধা থাকবে। পক্ষান্তরে কুনূতে নাযিলা যেহেতু রুকুর পর কওমার হালতে পড়া হয় আর কওমার হালতে হাত বাঁধা সুন্নত নয় এজন্য এ কুনূত হাত ছেড়ে পড়া হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

0 votes
1 answer 53 views
...