আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
137 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (1 point)
edited by

আসসালমুআলাইকুম হুজুর,
আমি একজন চূড়ান্ত পর্যায়ের ওয়াসওয়াসা মানুষ। তিন বছর ধরে মানসিক রোগের ওষধ খাচ্ছি। আমার একটা না একটা ঈমানী চিন্তা লেগে থাকে। হুজুর আমার বিষয় টা একটু মনোযোগ দিয়ে বুঝবেন।
https://ifatwa.info/76804/ এই লিঙ্কের ৩, ও ৬ নম্বর প্রশ্নে , বলা হয়েছে উক্ত বাক্য জেনে বুঝে বললে ঈমান চলে যাবে।  হুজুর আমি জানি উক্ত বাক্য বললে বা লিখলে ঈমান চলে যাবে। কিন্তু আমি তো আমার জন্য বলিনি বা লিখিনি।
হুজুর, বিষয় হলো , আমি ২ নম্বর প্রশ্নে উক্ত বাক্য টি আপনাকে বোঝানোর জন্য ব্যাবহার করেছি  উক্ত বাক্য টি মনে মনে হয়েছিল । যেহেতু ২ নম্বর প্রশ্ন তে আপনাকে বোঝানোর জন্য , বাক্য টি ব্যবহার করেছি মানে লিখেছি, তাই আমার মনে মনে ভয় হয়ে জাই ঈমান নিয়ে , যেহেতু আমি বিশাল ওয়াসওয়াসা রুগী। তাই আমি ৩  নম্বর  প্রশ্নে আপনাকে জিজ্ঞাসা করেছি যে , উক্ত বাক্য  টি আপনাকে বোঝানোর জন্য  ব্যাবহার করেছি,  এর জন্য কি ঈমান চলে যাবে? সেইটা বলতে চেয়েছি। আর আপনাকে বিষয় টা  বোঝানোর জন্য লিখেছি । হুজুর আমি জানি যে উক্ত বাক্য কেউ বললে ঈমান চলে যাবে, কিন্তু আমি তো আমার জন্য লিখিনি। আমি লিখেছি এই জন্য যে,  উক্ত বাক্য ২ নম্বর প্রশ্নে যেহেতু ব্যাবহার করেছি আপনাদের কে বোঝানোর জন্য। তাই ৩ নম্বর প্রশ্নে জানতে চেয়েছি, যেহেতু বিষয় টা আপনাকে বোঝানোর জন্য  লিখতে হয়েছে এর জন্য কি ঈমান চলে যাবে ?  আল্লাহ কসম আল্লাহ কসম আমি আপনাকে বিষয় টা বোঝানোর জন্য বাক্য টি লিখেছি। আমার নিজের জন্য লিখিনি। @@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@
১. হুজুর আশা করছি আমি আপনাকে  ঘটনা টা বোঝাতে পেরেছি।  , হুজুর  উপরুক্ত লিঙ্কের  উত্তর পড়ার পর ভয় তো হয়েছে, আবার মনে মনে  শয়তানের ওয়াসওয়াসা তে মনে হচ্ছে আমি এমনি লিখেছি, ঠিক লিখেছি , ইচ্ছা করে লিখেছি, উত্তর দেখার পর  শয়তানের ওয়াসওয়াসা তে এমন মনে হচ্ছিল সম্পূর্ণ শয়তানের ওয়াসওয়াসা তে এমন মনে মনে ভাবনা হয়েছে , । কিন্তু আসলে আমি আপনাকে বোঝানোর জন্যই লিখেছি।  আল্লাহ কসম আমি আপনাকে বোঝানোর জন্য ই লিখেছি। আমার জন্য লিখিনি। হুজুর আমার ঈমান চলে গেলে শেষ  হয়ে যাবো। হুজুর আর একটা কথা বলে রাখি , আমি যখন উক্ত বাক্য লিখছিলাম আমার মনে মনে কেমন হয়, ভয় হয়, তখন আমি মনে মনে ভাবলাম যে আমি তো নিজের জন্য বলছিনা , হুজুর কে বোঝানোর জন্য লিখতে হয়েছে তাতে তো কিছু হবে না । আসলে আমি নিজের জন্য লিখিনি, আসলে যেহেতু বাক্য ব্যাবহার করা হয়েছে তাই জানতে চেয়েছি যে প্রয়োজন এ  আপনাকে বোঝাতে ব্যাবহার করেছি , এর জন্য তো কিছু হবে না। সেই ভেবে লিখেছি।আশা করি আমি  ওয়াসওয়াসা রুগী সেটা বোঝাতে পেরেছি,  আর আমার বক্তব্য  টাও আমি বোঝাতে পেরেছি।
হুজুর সমস্ত ঘটনা অনুযায়ী আমার ঈমান ঠিক আছে তো???


২. আমার বৈবাহিক জীবন ঠিক আছে তো? আমার আমল নষ্ট হয়ে যায়নি তো?


৩. হুজুর শয়তানের ওয়াসওয়াসা তে উক্ত বাক্য মনে মনে হচ্ছে কিন্তু মুখে উচ্চরণ করছিনা, দিয়ে মনে মনে ভয় হলো উচ্চরণ হলো নাকি, দিয়ে মনে মনে ওই কথা টা ভাবছিলাম আর এমনি জিহ্ববা টা হালকা নড়েছে, জিহ্ববা নড়িয়ে উচ্চরণ করিনি, এমনি জিহ্ববা টা নড়লো, আর মনে মনে ওই কথা টা হলো, আমি জিহ্ববা নড়িয়ে উচ্চরণ করিনি।ঈমান চলে যাবে না তো?
 

৪. হুজুর তার পর থেকে মন্দির দেখেলে কেমন একটা লাগছে , সঙ্গে সঙ্গে  আস্তাগিরুল্লাহ পড়ছি, তওবা করছি হুজুর ঈমান চলে যাবে না তো?

৫. হুজুর আমি খুবই ওয়াসওয়াসা রুগী আমার ক্ষেত্রে কি কোনো ছাড় নেই। ?

৬. হুজুর নামাজ পড়তে গিয়ে উক্ত বাক্য মনে পড়ে গিয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে মন কে ঠিক করে নামাজ পড়েছি, হুজুর শয়তানের ওয়াসওয়াসা তে এমন মনে মনে হওয়ার জন্য কি ঈমান চলে যাবে?

৭. হুজুর আমি একটা মুভি দেখছিলাম , খুব ইমোশনাল সিন হচ্ছিলো, দিয়ে শুধু বার বার মনে হচ্ছে ঈমান চলে গেলো নাকি বার বার এই রকম মনে হচ্ছিল, দিয়ে মুভি দেখছিলাম ইমোশনাল হয়ে ছিলাম , দিয়ে  মনে মনে এমন হলো যা ঈমান চলে যাবে যাক কা। আমি মুখে উচ্চরণ করিনি। হুজুর আমার ঈমান চলে যাবে না তো?

৮.হুজুর আমার ঈমান ঠিক আছে তো? আমাকে আর চিন্তা করতে হবে না তো? আমার  বৈবাহিক সম্পর্ক ঠিক আছে তো?

1 Answer

0 votes
by (701,080 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
জবাবঃ-


শরীয়তের বিধান হলো ইচ্ছাপূর্বক ভাবে নিজেকে নিজে কাফের বলে পরিচয় দেওয়া কুফরী। 

সূরা নাহলের ১০৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-

مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِنَ اللَّهِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ (106)

“কেউ বিশ্বাস স্থাপনের পর আল্লাহকে অস্বীকার করলে এবং প্রত্যাখ্যানের জন্য হৃদয় মুক্ত রাখলে তার উপর আল্লাহ ক্রোধ পতিত হবে এবং তার জন্য রয়েছে মহাশাস্তি। তবে তার জন্য নয়, যাকে (সত্য প্রত্যাখ্যানে) বাধ্য করা হয়, কিন্তু তার অন্তর বিশ্বাসে অটল।” (১৬:১০৬)
,
ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী তে আছে
"وَمَنْ يَرْضَى بِكُفْرِ نَفْسِهِ فَقَدْ كَفَرَ."
(كتاب السير، الْبَابُ التَّاسِعُ فِي أَحْكَامِ الْمُرْتَدِّين ، مطلب فِي مُوجِبَاتُ الْكُفْرِ أَنْوَاعٌ مِنْهَا مَا يَتَعَلَّقُ بِالْإِيمَانِ وَالْإِسْلَامِ، ٢ / ٢٥٧، ط: دار الفكر)
"এবং যে কুফরীতে সন্তুষ্ট থাকে, সে কাফের হয়ে গেছে।

এ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ   

★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে হিন্দু বলে পরিচয় দিলে
সেক্ষেত্রে সে কাফের হয়ে যাবে।
তাকে পুনরায় ঈমান আনতে হবে।
বিবাহিত হলে বিবাহ নবায়ন করতে হবে।

فتاوی عالمگیریہ:
"مسلم قال: أنا ملحد يكفر، ولو قال: ما علمت أنه كفر لا يعذر بهذا."
(کتاب السیر ،باب احکام المرتدین،ج:2،ص:279،ط:رشیدیہ)
সারমর্মঃ-
কোনো মুসলিম বলেছে যে আমি মুরতাদ, তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে।
এক্ষেত্রে যদি সে বলে যে আমি তো জানিনা যে এটি কুফর,তাহলে সেই ওযর গ্রহণযোগ্য হবেনা।

★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
(১,২)
প্রশ্নের বিবরন মতে আপনার ঈমান চলে যায়নি। 
আপনার বৈবাহিক জীবন ঠিক আছে। আপনার আমল নষ্ট হয়ে যায়নি।

(৩.৪)
প্রশ্নের বিবরন মতে ঈমান চলে যাবেনা। 

(০৫)
কিছু মাসয়ালার ক্ষেত্রে ছাড় আছে।
তবে ঈমান ধ্বংস কারী উল্লেখিত বাক্য বলবেননা।

(৬,৭)
প্রশ্নের বিবরন মতে আপনার ঈমান চলে যাবেনা। 

(০৮)
আলহামদুলিল্লাহ। 
আপনার ঈমান ঠিক আছে। আপনাকে আর চিন্তা করতে হবে না।
আপনার বৈবাহিক সম্পর্ক ঠিক আছে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...