আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
633 views
in ওয়াসওয়াসা by (3 points)
recategorized by
আসসালামুআলাইকুম।
১.) আমি ওয়াসওয়াসা রোগী। ইমদাদুল হুজুর উত্তর দিবেন।
আমার নিচের পোস্টের বর্তমানএবং অতীত  বিষয়

 বলতে কি  বুঝিয়েছেন?  সঠিক বুজতে পারি নি।
https://ifatwa.info/75202/

২.) আমি একদিন বলছি আল্লাহর কসম অই কাজ
আর করব না।  তারপরে কসম ভংগ করে সেই কাজ

 করছি। এখন কাফফারা দিতে হবে?
আমার কিছু স্বর্ন আর নগদ কিছু টাকা আছে। তা থেকে কাফফারা না দিয়ে আমি যদি তিনদিন রোজা রাখি
তাহলে কাফফারা আদায় হবে?
৩.)কাবিননামার ১৮ নং ছকে নাকি স্বাক্ষর দিতে হয়।  কাজি যদি স্বামীকে সেখানে স্বাক্ষর দিতে বলে আর স্বামী যদি স্বাক্ষর দেয় তাহলে কি অধিকার পাওয়া
হবে? ( আমার স্বামী কাবিননামায় শুধু স্বাক্ষর দিছে।  কাজি যেখানে যেখানে দিতে বলছে সেখানে  সেখানে  স্বাক্ষর দিছে।)
৪) বিয়ের সময় কাজি স্বামীকে কাবিননামায় তালাকেরঅধিকার  দেওয়ার কথা জিজ্ঞেস করেনি। কাজি
অধিকার লিখে দেওয়ায়  এখন স্বামীকে যদি জিজ্ঞেস
করি   তোমাকে জিজ্ঞেস করে কাজি অধিকার দিলে তুমি কি দিতে অধিকার।  সে যদি বলে হ্যা দিতাম।(যদিও এখনো এটা জিজ্ঞেস করি নি তাকে।ভাবছি  জিজ্ঞেস করব)   
তাহলে প্রশ্ন যদিও কাজি স্বামীকে না জানিয়ে অধিকার
দিছে কিন্ত তার কাছে জিজ্ঞেস করলে সে সম্মতি
দিত অধিকার দেওয়ার ব্যাপারে।    তাহলে কি

 কাবিননামায় তালাকের  অধিকার পাওয়া হবে?

৫) ওয়াসওয়াসা রুগীর তালাক হয় না। কিন্ত আমি তো সুস্থ মানুষের মতো।  শুধু তালাক নিয়ে ওয়াসওয়াসা।  আর ঘুমের ওষধ খেতে হয়, ওষধ না খেলে ঘুম হয়না। আমি কি তালাক দিলে  হবে?
৬) তালাক গ্রহনের অধিকার পাওয়া নিয়ে আলোচনা
চলছিল     স্বামীর সাথে তখন স্বামী রাগ করে বলেছে তোমার যা ইচ্ছা করো। ( তালাকের অধিকার  দেওয়ার নিয়ত ছিল  না)
এতে কি তালাক গ্রহনের অধিকার পাবে? সারাজীবন এর জন্য নাকি অই মজলিস এর জন্য?

৭)স্বামীকে ফোনে পান খেতে নিষেধ করায় বলছে  আমি পান খাবোই    এবং যে    থাকতে চায় থাকবে আর যে থাকতে না চায় সে যেন চলে যায়।  এতে তালাক গ্রহনের অধিকার পাওয়া হইছে?  সারাজীবন এর জন্য নাকি অই মজলিস পর্যন্ত?

৮) ওয়াসওয়াসা রুগীর তালাক হয় না। কিন্ত আমি তো   তালাকের কথা মুখে উচ্চারণ করে বলছি এবং লিখছি।  মুুুখে  উচ্চারণ করে বলায় এবং  লিখে  তালাক দেওয়ার  কারনেও তালাক হবে না?

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
হযরত আবু হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢ : َ ( ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺗَﺠَﺎﻭَﺯَ ﻟِﻲ ﻋَﻦْ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﻣَﺎ ﻭَﺳْﻮَﺳَﺖْ ﺑِﻪِ ﺻُﺪُﻭﺭُﻫَﺎ ﻣَﺎ ﻟَﻢْ ﺗَﻌْﻤَﻞْ ﺃَﻭْ ﺗَﻜَﻠَّﻢ
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন,নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা আমার খাতিরে আমার উম্মতের অন্তরে চলে আসা ওয়াসওয়াসা(শয়তানি প্ররোচনা) বিষয়ে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ/শাস্তি প্রদাণ করবেন না।যতক্ষণ না সে কথা বা কাজের মাধ্যমে সেটাকে বাস্তব রূপ দিচ্ছে। (সহীহ বোখারী-২৩৬১,সহীহ মুসলিম-১২৭)

 তালাকের ওয়াসওয়াসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-  https://www.ifatwa.info/835

ওয়াসওয়াসা সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন-  https://www.ifatwa.info/1379


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনার সম্পূর্ণ বিবরণ পড়েছি। এগুলো মনে যা আসছে, এসব হচ্ছে ওয়াসওয়াসা। সুতরাং এদ্বারা আপনার কোনো সমস্যা হবে না।তালাক হবে না।


(১) সেটাই বুঝিয়েছি, যা আপনাকে মুবাইলে বলেছি।অর্থাৎ ওয়াসওয়াসার রোগীর বর্তমানেও কোনো তালাক হয়, এবং অতীতের কোনো বিষয় মনে আসলে,সেগুলো দ্বারাও তালাক হবে না।

(২) 
কসমের ধারাবাহিক তিনটি কাফফারার প্রথমটি হল,১০জন মিসকিনকে সকাল-বিকাল দু'বেলা খাদ্য খাওয়ানো বা বস্র পরিধান করানো।খাওয়ানো পড়ানো সম্ভব না হলে,১০জনের প্রত্যেকজনকে একটি ফিতরা সমপরিমাণ টাকা দিলেই কাফফারা আদায় হয়ে যাবে।
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1808

সুতরাং খাওয়ানো বা বস্র পরিধান করার মত সামর্থ্য না থাকলে তখন রোযা দ্বারা আপনি কাফফারা আদায় করবেন।

(৩)স্বামীর তালাক দেয়ার নিয়ত না থাকলে, আল্লাহর আদালতে স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে না।

(৪) আল্লাহর আদালতে স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে না।

(৫) ওয়াসওয়াসা রুগীর তালাক হয় না। আপনি যেহেতু ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত।তাই আপনার তালাক হবে না।

(৬) তালাক গ্রহনের অধিকার পাওয়া নিয়ে আলোচনা
চলছিল স্বামীর সাথে, তখন স্বামী রাগ করে বলেছে তোমার যা ইচ্ছা করো। ( তালাকের অধিকার  দেওয়ার নিয়ত ছিল  না)
এতে তালাকের গ্রহনের অধিকার স্ত্রী পাবে না। যেহেতু স্বামীর তালাক দেয়ার অধিকার ছিলনা,তাই স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে না।

(৭)স্বামীকে ফোনে পান খেতে নিষেধ করায় বলছে  আমি পান খাবোই এবং যে  থাকতে চায় থাকবে আর যে থাকতে না চায় সে যেন চলে যায়।  এতে তালাক গ্রহনের অধিকার পাবে না। যেহেতু স্বামীর তালাক দেয়ার অধিকার ছিলনা,তাই স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে না।

(৮) ওয়াসওয়াসা রুগীর তালাক হয় না। তালাকের কথা মুখে উচ্চারণ করে বলার এবং লিখার পরও স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে না। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (814,710 points)
সংযোজন ও সংশোধন করা হয়েছে।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

...