0 votes
35 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (23 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম,
তালাকের বিষয়ে বিভিন্ন মাসয়ালা জানার পর, তালাক বা এজাতীয় শব্দ গুলোকেই প্রচণ্ড ভয় হচ্ছে। আমার মনে হয় দুনিয়াবি দিক থেকে এত বিপদজনক জিনিস ইসলামের বিধানের মধ্যে হয়তো আর দ্বিতীয়টি নেই। আমি তালাক বিষয়ে ভালোভাবে জানার জন্য কিছু প্রশ্ন করছি। প্রশ্নগুলো দুইটি ক্ষেত্রে করবো। প্রথমে অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে ও তারপর বিবাহিতদের ক্ষেত্রে।

* অবিবাহিতদের ক্ষেত্রেঃ
==============
১. অবিবাহিত অবস্থায় তালাক দিলে কিংবা তালাক নিয়ে চিন্তা ভাবনা করলে কি বিয়ে করার পর কোনো ধরনের তালাক হয়ে যাবে?
২. কেউ যদি অবিবাহিত অবস্থায় বলে যে, "আমার সাথে যার বিয়ে হবে সে আমার জন্য হারাম", এরুপ কথা মনে ও মুখে বললে কি বিয়ে করার পর তালাক হয়ে যাবে?
৩. অবিবাহিত অবস্থায় অবস্থায় তালাক নিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে যদি মনে হয় "আমার সাথে যার বিয়ে হবে সে তালাক হবে বা তাকে আমার হারাম মনে হচ্ছে", এরুপ কথায় কি বিয়ে করার পর তালাক হয়? বা এধরনের কোনো কথা না বুঝে যদি অতিতে বলে থাকি এবং এখন মনে পড়ছে না কি বলেছিলাম। এরুপ হলে কি বিয়ের পর তালাক হয়ে যাবে?
৪. অবিবাহিত অবস্থায় তালাক দেয়ার কোনো ইচ্ছা নেই এবং তালাক নিয়ে মোটেও চিন্তা করতে চায় না কিন্তু তারপরও তালাক হয়ে যাবে এমন কথা বার্তা মাথায় আসলে এবং মুখে বলে ফেললে কি বিয়ের পর তালাক হবে?
৫. একটি ভিডিওতে দেখলাম একজন আলেম বলছে যে, বিয়ে না করলে যেহেতু কোনো পুরুষ কোনো নারীর মালিকানা পায় না, এজন্য বিয়ের আগে তালাকও হয় না। এই কথা কি সঠিক?
৬. বিয়ের পূর্বে শর্ত সাপেক্ষ তালাকের কোনো কথা মনে ও মুখে আসলে কি বিয়ের পর তালাক হয়ে যাবে? যেমনঃ যার সাথে আমার বিয়ে হবে সে অমুক কাজটি করলে তালাক হয়ে যাবে।
৭. উপরের ১ থেকে ৬ নং প্রশ্নের অনুরুপ চিন্তাভাবনা যদি ওয়াসওয়াসা জনিত কারণে বারংবার মনে আসতে থাকে এবং মুখে বলা হয় তাহলে কি বিয়ের পর তালাক হয়ে যাবে?

৮. অনেক সময় বন্ধুদের সাথে কেউ মজা করে বলে যে, বিয়ের আগেই বউকে বিধবা করে দিবি নাকি। এই ধরনের কথাতে কি বিয়ের পর তালাক হয়?

৯. অবিবাহিত অবস্থায় কোনো ছেলে যদি বলে সে তার নিজের উপর তালাক বা তিন তালাক নিয়েছে কিংবা এরূপ কথা যদি ওয়াসওয়াসা জনিত কারণে কারোর মাথায় আসে তাহলে কি বিয়ের পড়ে তালাক হবে?

*বিবাহিতদের ক্ষেত্রেঃ
============

১. বিবাহিত অবস্থায় তালাক দেয়ার মোটেও ইচ্ছা নেই তবুও ওয়াসওয়াসার কারনে মাথায় তালাক সংশ্লিষ্ট কথাবার্তা আসতে থাকলে কি তালাক হবে?
২. মনে করুন বিয়ের পর স্বামী স্ত্রী কোনো কারণ বশত দুইজন দুইজনকে ধরে আছে, এমতাবস্থায় তালাকের নিয়ত ছাড়া স্ত্রী যদি স্বামীকে বলে "ছেড়ে দাও" এবং স্বামী তালাকের নিয়ত ছাড়া যদি বলে "ছেড়ে দিলাম" তাহলে কি তালাক হয়ে যাবে?
৩. যে ধরনের কথা বললে তালাক হয়ে যায়, সে সকল কথা যদি তালাক না দেয়ার নিয়তেও বলা হয় তাহলে কি তালাক হয়ে যাবে? যেমনঃ তুমি তোমার বাবার বাড়ি চলে যাও, তোমাকে আর দরকার নেই, তোমাকে বিয়ে করা ভুল হয়েছে, তুমি আমার জন্য হারাম ইত্যাদি কথাবার্তা যদি তালাক না দেয়ার নিয়তে বলা হয় তাহলে কি তালাক হবে? বা এই কথা গুলোর মধ্যে কোন কথা গুলো বললে তালাক হবে?
৪. মনে করুন তালাক বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় জানার জন্য কেউ অন্য মানুষের তালাকের প্রশ্ন ও উত্তর পড়ছে এবং নিজের অজান্তে সেগুলো নিজের বিবাহিত জীবনের সাথে কল্পনা করছে। এমন করলে কি তালাক হবে?
৫. এক জায়গায় দেখলাম, বিয়ের সময় আমাদের দেশে যে কাবিন নামা দেয়া হয় সেখানে ১৮ নং শর্তে স্বামীকে স্ত্রী তালাক দিতে পারবে এমন ধরনের শর্ত দেয়া হয়। এর ফলে কি ওই কাবিননামাতে স্বাক্ষর করলে স্ত্রীও স্বামীকে তালাক দেয়ার অধিকার পাবে?
৬. কোনো পুরুষ বিয়ের সময় কাবিননামার সেই ১৮ নং শর্ত বা স্ত্রীকে তালাকের অধিকার আরোপ করার শর্ত মেনে নিল না অর্থাৎ শর্তটি ফাঁকা রেখে বিয়ে করলো এতে কি স্ত্রী তালাক দেয়ার অধিকার পাবে? এবং ওই শর্ত ফাঁকা রাখার কারণে কি বিয়ে হবে?
৭. আমাদের দেশে কোনো পুরুষ চাইলে সেই ১৮ নং শর্ত বা স্ত্রীকে তালাকের অধিকার আরোপ করার শর্ত বাদ রেখে বা ফাঁকা রেখে বিয়ে করার সুযোগ পায় কি না?
৮. এমন কোনো পদ্ধতি আছে কি যেটা করলে তালাক সংশ্লিষ্ট কথা বলে ফেললেও তালাক হবে না? যেমন মনে করুন কেউ একটি স্ট্যাম্প কাগজ তৈরি করে রাখলো যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি স্বজ্ঞানে এই কাগজে স্বাক্ষর না করছি ততক্ষণ তালাক হবে না। এমন ধরনের কোনো কিছু করে রাখা যায় কি না?

৯. বিয়ের পর যদি রাগারাগি করে স্বামী স্ত্রী আলাদা ঘরে বা আলাদা বিছানায় রাত্রিযাপন করে এতে কি তালাক হয়ে যায়?
১০. বিয়ের পর রাগারাগির কারণে স্বামী যদি স্ত্রীকে শাসন করার জন্য বাপের বাড়ি রেখে আসে বা বাপের বাড়ি যেতে বলে, তালাকের নিয়তে নয় বরং শাসন করার জন্য। এতে কি তালাক হবে?

১১. সাধারণত একজন মানুষ স্বাক্ষর করার ক্ষেত্রে সব সময় হুবুহু স্বাক্ষর হয়তো মিলে না। এক্ষেত্রে বিয়ের কাবিন নামায় স্বাক্ষর করার সময় যদি স্বাক্ষর হুবুহু না মিলে বা যদি এমন হয় যে কেউ প্রায় সময়ই স্বাক্ষর করে ইংরেজিতে কিন্তু বিয়ের কাবিননামা বা নিকাহনামায় স্বাক্ষর করে বাংলাতে। এমন কিছু করলে বিয়ে সম্পূর্ণ হবে কি না?

১২. বিবাহের সময় কোনো মেয়ে যদি তালাক দেয়ার অধিকার দাবি করে কিন্তু ছেলে অর্থাৎ স্বামী যদি সে দাবি মেনে না নেয় বা তালাকের অধিকার স্ত্রীকে না দেয় এবং তাদের বিয়েও হয়ে যায়। এক্ষেত্রে স্বামী যেহেতু দাবি মেনে নিল না, সেজন্য কি সেই বিয়ের কোনো ত্রুটি থেকে যাবে বা বিয়েটা কি অসম্পূর্ণ হবে?

১৩. কোনো ছেলে কি বিয়ের পর নিজের উপর নিজে তালাক নিতে পারে? এরূপ করলে কি তালাক হয়?

১৪. স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক ছাড়া অন্য কোনো সম্পর্কে কি তালাক হতে পারে? বা অন্য কোনো সম্পর্ককে তালাক দিলে কি তালাক হয়? যেমন: পিতা মাতা ও সন্তান এর সম্পর্ক, আত্মীয় সম্পর্ক ইত্যাদি।

উত্তর গুলো উপরের নম্বর গুলো অনুসারে দিলে বুঝতে সুবিধা হয়।

তালাক নিয়ে বিভিন্ন বিষয় জানার পর থেকে এ জাতীয় ওয়াসওয়াসা তাড়া করে বেড়াচ্ছে। এখনো বিয়েই করতে পারলাম না অথচ তালাক নিয়ে উক্ত দুশ্চিন্তার যেন শেষই হচ্ছে না।

জাযাকাল্লাহ খায়রান
by (23 points)
কিছু প্রশ্ন সংযোজন করা হয়েছে।
by (23 points)
কিছু প্রশ্ন সংযোজন করা হয়েছে।
by (23 points)
reshown by
পূর্বের কোনো প্রশ্ন এডিট করা হয়নি, নতুন কয়েকটি প্রশ্ন যোগ করা হয়েছে।
by (23 points)
প্রশ্নের নাম্বারে ভুল থাকার কারনে তা সংশোধন করা হয়েছে।
by (23 points)
প্রশ্ন বেশি হওয়ার কারণে দুঃখিত, সংযোজন সংশোধন শেষ হয়েছে।

1 Answer

0 votes
by (502,120 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আপনার প্রশ্নের জবাব প্রস্তুত হচ্ছে।ইনশাআল্লাহ অচিরেই জবাব পেয়ে যাবেন। ধর্য সহকারে অপেক্ষার জন্য আন্তরিক অভিবাদন। জাযাকুমুল্লাহ।

প্রথমে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে একটু মন দিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন-
ফতোয়া আরবী শব্দ এবং কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামী শরীয়তের একটি মর্যাদাপূর্ণ পরিভাষা। বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে ‘ফতোয়া’ সংক্রান্ত আরো কিছু শব্দের অর্থ জেনে নেওয়া আবশ্যক। যথা : ইস্তিফতা, মুসতাফতী, মুফতী, ইফতা ও দারুল ইফতা। কুরআন-সুন্নাহ ও দ্বীনী ইলমের মাহির আলিমের নিকট কোনো দ্বীনী বিষয়ে ইসলামী শরীয়তের বিধান জিজ্ঞাসা করাকে ‘ইস্তিফতা’ বলে। প্রশ্নকারীকে ‘মুস্তাফতী’ বা ‘সাইল’ বলে। বিশেষজ্ঞ আলিম শরীয়তের দলীলের আলোকে যে বিধান বর্ণনা করেন তাকে ‘ফতোয়া’ বলে। বিধান বর্ণনাকারী আলিমকে মুফতী এবং তার এই কাজ অর্থাৎ প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তরে শরীয়তের বিধান বর্ণনা করাকে ‘ইফতা’ বলে। যে প্রতিষ্ঠান এই দায়িত্ব পালন করে তাকে ‘দারুল ইফতা’ বলে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...