0 votes
14 views
in সালাত(Prayer) by (7 points)
১.এক আপু বেশ কয়েক বছর আগে বলেছিলেন মাগরিব এর নামাযের পর দুই রাকা'আত ঈমানি মওতের নামায পড়তে, যার নিয়ম হলো প্রতি রাক'আতে সূরা ফাতিহার পর সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস উভয় সূরা পড়া। এই আমালটি কি সঠিক?

২. মহিলারা ঘরে নামায এর ক্ষেত্রেও কি নামাযের মধ্যে অযু ভাঙ্গলে পুনরায় অযু করে যেখান থেকে নামায বাকি ছিলো সেখান থেকে পড়তে পারবে?  আর প্রতি ওয়াক্তের নামাযেই যদি বারবার অযু ভাঙ্গতে থাকে এবং সপ্তাহে দুই-তিন ওয়াক্ত অযু ভাঙ্গা ব্যতীত নামায পড়তে পারে তবে সেক্ষেত্রে মাসয়ালা কি হবে?

1 Answer

0 votes
by (57,200 points)
বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
(১) মাগরিবের নামাযের পর থেকে এশার নামাযের পূর্ব পর্যন্ত নফল নামাযের বিশেষ ওয়াক্ত।এ সময় রাসূলুল্লাহ সাঃ প্রায় নামাযরত অবস্থায় থাকতেন।

হযরত হুযাইফা রাযি থেকে বর্ণিত,
حديث حذيفة بن اليمان رضي الله عنه ، وفيه : ( فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَلَّيْتُ مَعَهُ الْمَغْرِبَ، فَصَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْعِشَاءِ )
আমি নবী সাঃ এর কাছে আসলাম,উনার সাথে মাগরিবের সালাত পড়লাম। আর রাসূলূল্লাহ সাঃ এশা পর্যهন্ত নামায পড়লেন।(সুনানে তিরমিযি-৩৭৮১,মুসনাদে আহমাদ-৩৮/৩৫৩)

সাহাবায়ে কেরাম ও এ সময়ে নামাযে থাকতেন।সালাফে সালেহীনদের আ'মল ও তাই ছিলো।তারা সবাই মাগরিবের পর নফল নামাযে ব্যস্ত থাকতেন।বিস্তারিত জানুন- 4467

তবে ঈমানি হালতে মওতের নামায নামাে কোনো বিশেষ নামায শরীয়তে নেই।সালাতুল হাজত নামে নামায রয়েছে।দুনিয়াবী এবং উখরাবী যে কোনো প্রয়োজনে সালাতুল হাজত নামায পড়ার নিয়ম রয়েছে।সালাতুল হাজত সম্পর্কে জানুন- 1453

প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
ঈমানি হালতে মওত যেহেতু একজন মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরী।কেননা এটাই মানুষের জন্য পৃথিবীতে আগমনের মূল বিষয়।তাই আপনি ঈমানি হালতে মওত অন্তরে রেখে সালাতুল হাজতের নামায পড়তে পারেন।

(২)
নামাযে অজু ভঙ্গ হলে, নিয়ম হল,কথা না বলে অজু করে এসে অবশিষ্ট নামাযকে সম্পন্ন করা।চায় জামাতের নামায হোক,বা একাকি হোক।ফরয নামায হোক বা সুন্নত হোক।পুরুষ কর্তৃক নামায পড়া হোক বা মহিলা কর্তৃক হোক।

সুতরাং আপনি যদি মহিলা হন,এবং ঘরের নামাযকে আদায় করে থাকেন,এবং নামাযে যদি অজু চলে যায়,তাহলে আপনি কোনো কথা না বলে,অজু করে এসে অবশিষ্ট নামাযকে আপনি সম্পন্ন করে নিবেন।তবে আপনি চাই পূনরায় নতুনভাবেও নামাযকে পড়তে পারবেন।

নামাযে যদি প্রায় অজু চলে যায়,তাহলে দেখতে হবে আপনি মা'যুর কি না?কে শরীতের দৃষ্টিতে মা'যুর এবং কে মা'যুর নয়? এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন- 1746

কোনো অসুস্থ ব্যক্তি শরয়ীভাবে মা'যুর প্রমাণিত হওয়াজ জন্য শর্ত হলো,
شرط ثبوت العذر ابتداء أن يستوعب استمراره وقت الصلاة كاملا وهو الأظهر كالانقطاع لا يثبت ما لم يستوعب الوقت كله-
শরয়ীভাবে মা'যুর প্রমাণিত হওয়ার জন্য কোনো নামাযের শুরু থেকে শেষ ওয়াক্ত পর্যন্ত উযর স্থায়ী থাকা শর্ত।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৪০)

সুতরাং যদি কোনো একদিন কোনো একটি নামাযের সম্পূর্ণ ওয়াক্ত আপনার এমনভাবে অতিবাহিত হয় যে,বায়ু উযরের কারণে ফরয নামায পড়া আপনার জন্য সম্ভবপর না হয়,তাহলে আপনি মা'যুর। অন্যথায় শরয়ী ভাবে মা'যুর প্রমাণিত হবেন না।

কেউ শরয়ীভাবে মা'যুর প্রমাণিত হলে,তার জন্য প্রতি ওয়াক্তে একটি ওজুই যথেষ্ট।আর শরয়ীভাবে মা'যুর প্রমাণিত না হলে,তখন প্রতি নামাযের জন্য পৃথক পৃথক ওজু করতে হবে।নামাযে যখনই ওজু চলে যাবে,তখন আবার ওজু করে নামাযকে পড়তে হবে।

প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনি ট্রাই করে দেখবেন যে, আপনি মা'যুর কি না।যদি আপনি মা'যুর না হন,তাহলে নামাযে যখনই অজু চলে যাবে,সাথে সাথেই আপনাকে অজু করে অবশিষ্ট  নামাযকে সম্পন্ন করতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...