0 votes
13 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (4 points)
edited by
১-কুরআন পাঠের সকল নিয়ম কানুন শিক্ষা দানের পর উস্তাদের পক্ষেশুধু খতম দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাঠকারীর পড়া পুরো কোরআন পড়ে শোনানো কি দরকার? যা অনেক সময় সাপেক্ষ হওয়ার কারণে ওস্তাদ এক্ষেত্রে পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। এই পারিশ্রমিক এ কি কোন সমস্যা আছে। যেখানে ওস্তাদ স্বীকার করেছেন পাঠকারীরর পড়া যথেষ্টই শুদ্ধ।
২-কোরআন মাজীদ জীবনে না বোঝার কারণে বা না বুঝে আমল ও না করার কারণে শুধু সোয়াব পাওয়ার উদ্দেশ্যে এবং খতম দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে কুরআন পাঠ করা হয়।এক্ষেত্রে কি কুরআন মাজীদ না বুঝার কারণে পরকালের শাস্তি আছে?

1 Answer

0 votes
by (21,360 points)
edited by
উত্তর
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১) কুরআন পাঠের সকল নিয়ম কানুন শিক্ষা দানের পর উস্তাদের পক্ষেশুধু খতম দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাঠকারীর পড়া পুরো কোরআন পড়ে শোনানোর তেমন প্রয়োজন নেই।
পরিপূর্ণ যোগ্যতা অর্জন হয়ে যাওয়ার পর কেহ নিজে থেকে চাইলে নিজেই পড়তে পারবে।
এর জন্য কষ্ট করে শিক্ষকের কাছে পড়ার প্রয়োজন নেই।
তবে কেহ যদি এইভাবে শিক্ষকের কাছেই পড়ে,তাহলে তার পারিশ্রমিক কে নাজায়েজ বলা যাবেনা।

 আরো জানুনঃ

★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরত "যেখানে ওস্তাদ স্বীকার করেছেন পাঠকারীরর পড়া যথেষ্টই শুদ্ধ"
সুতরাং এই দাবী যদি সঠিক হয়,তাহলে উস্তাদের কাছে পড়া তার আর প্রয়োজন নেই।
উস্তাদ তাকে আর পুরো কুরআন শোনানোর জন্য জোর করবেনা।   
এটা উচিত হবেনা।
(জোর করে পড়ালেও এক্ষেত্রে পারিশ্রমিক নাজায়েজ হবেনা।) 
হ্যাঁ যদি শিক্ষার্থী নিজে থেকেই পুরো কুরআন শোনাতে চায়,তাহলে তো কোনো সমস্যাই নেই।      
,
(০২) 

অর্থ না বুঝলেও মুমিন নর-নারীর জন্য কুরআন পড়া জায়েয। তবে অর্থ বুঝার জন্য চিন্তা-ভাবনা করা ও বুঝার চেষ্টা করা শরিয়তে গ্রাহ্য। যদি ব্যক্তির বুঝার মত যোগ্যতা থাকে তাহলে সে তাফসির গ্রন্থগুলো পড়তে পারে। আরবী ভাষার উপর লিখিত গ্রন্থগুলোতে নজর দিতে পারে। যাতে করে সে কুরআন বুঝে উপকৃত হতে পারে। কোন প্রশ্নের উদ্রেক হলে আলেমদেরকে জিজ্ঞেস করতে পারে। মোটকথা, কুরআনকে অনুধাবন করা। 
কেননা আল্লাহ্ তাআলা বলেছেন, 
كِتٰبٌ اَنْزَلْنٰهُ اِلَیْكَ مُبٰرَكٌ لِّیَدَّبَّرُوْۤا اٰیٰتِهٖ وَ لِیَتَذَكَّرَ اُولُوا الْاَلْبَابِ

“এক মুবারক কিতাব, এটা আমরা আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহে তাদাব্বুর করে (গভীরভাবে চিন্তা করে) এবং যাতে বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে।”[সূরা সোয়াদ, আয়াত: ২৯]

আয়াতে বলা হয়েছে, কুরআনের শুধু অর্থ জানা থাকলেই চলবে না। কুরআন নিয়ে ভাবতে হবে।
যারা জ্ঞানী তারা যেন এখান থেকে উপদেশ গ্রহণ করে। যারা বুদ্ধিমান তারাই তো কুরআন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। 

মুমিন ব্যক্তি কুরআন তাদাব্বুর করবে। অর্থাৎ গুরুত্ব দিয়ে কুরআন পড়বে এবং কুরআনের অর্থ নিয়ে চিন্তাভাবনা করবে। অর্থ বুঝার চেষ্টা করবে। এভাবে কুরআন থেকে উপকৃত হবে। যদি পরিপূর্ণ অর্থ তার বুঝে নাও আসে; কিন্তু অনেকটুকু সে বুঝতে পারবে। কিন্তু সে বুঝে বুঝে পড়বে। অনুরূপভাবে মুমিন নারীও এটা করবে; যাতে করে সে আল্লাহ্র কালাম থেকে উপকৃত হতে পারে। এবং যাতে করে আল্লাহ্ তাআলার উদ্দেশ্য বুঝতে পারে এবং সে অনুযায়ী আমল করতে পারে। 
আল্লাহ্ তাআলা বলেন: “তবে কি তারা কুরআন নিয়ে তাদাব্বুর করে না (গভীর চিন্তা করে না)? নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা রয়েছে?”[সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ২৪]

সুতরাং জানা গেল, আমাদের রব্ব আমাদেরকে তাঁর বাণী বুঝে বুঝে, চিন্তাভাবনা করে পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। তাই মুমিন নর-নারীর জন্য আল্লাহ্র কিতাব চিন্তাভাবনাসহ, বুঝে বুঝে, গুরুত্বসহকারে পড়া শরিয়তে গ্রাহ্য। যাতে করে সে আল্লাহ্র কালাম থেকে উপকৃত হতে পারে, কথাগুলো বুঝতে পারে এবং সে অনুযায়ী আমল করতে পারে। 

এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি তাফসির গ্রন্থগুলোর সহযোগিতা নিবে; যে গ্রন্থগুলো আলেমগণ রচনা করেছেন। যেমন- তাফসিরে ইবনে কাছির, তাফসিরে ইবনে জারির, তাফসিরে বাগাভী, তাফসিরে শাওকানি ইত্যাদি। এছাড়া আরবী ভাষার উপর লিখিত গ্রন্থগুলোরও সহায়তা নিবে। 
,
কেহ কেহ বলেছেন যে কুরআনের  অর্থ না বুঝে পড়লে ছওয়াব হবেনা।

কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। একেকটি অক্ষর পাঠ করলে দশ-দশটি নেকি পাওয়া যায়। এ সওয়াব পাওয়ার জন্য অর্থ বোঝার শর্ত হাদিসে উল্লেখ নেই। 

হজরত উসমান (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের একটি হরফ পড়বে, সে একটি নেকি পাবে, আর প্রতিটি নেকি দশ গুণ করে বৃদ্ধি করে দেওয়া হবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৯১০)

একটি সরল বোঝার বিষয় হলো যে কোরআন শরিফের কিছু শব্দ রয়েছে, যেগুলোর অর্থ কোনো মুসলমানই জানে না। সেগুলোকে ‘হরুফে মুকাত্তাআত’ বলা হয়। এসব শব্দের ব্যাখ্যায় মুফাসসিররা সাধারণত বলে থাকেন, ‘এগুলোর অর্থ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক জ্ঞাত।’ যারা এসব শব্দের অর্থ বোঝার পেছনে লেগে পড়ে, কোরআনের একটি আয়াতে তাদের ব্যাপারে তিরস্কারও করা হয়েছে। এখন যারা বলেন, না বুঝে পড়লে কোনো ফায়দা নেই, তারা কি ‘হরুফে মুকাত্তায়াত’ও বুঝে পড়েন, নাকি না বুঝে পড়েন? এগুলোর অর্থ তো দুনিয়ায় কারো পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। তাহলে কি ‘হরুফে মুকাত্তায়াত’ পাঠ করার দ্বারা কোনো লাভ নেই?

 রাসুল (সা.) তো বলেছেন, এগুলো পাঠ করলেও প্রতি হরফে দশ নেকি। বরং তিরমিজি শরিফের হাদিসে তো কোরআনের সর্বপ্রথম ‘হরুফে মুকাত্তায়াত’ আলিফ-লাম-মিম দিয়ে প্রতি হরফে দশ নেকি পাওয়ার উদাহরণও দেওয়া হয়েছে।

হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করল, এতে সে দশটি নেকির অধিকারী। তিনি আরো বলেন, আমি বলছি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ।’ (তিরমিযি, হাদিস নম্বর : ২৯১০; মুসতাদরাক আলাস সহিহাইন, হাদিস নম্বর : ২০৮৪।)
,
স্মর্তব্য, এ আলোচনার দ্বারা এটা বোঝানো হয়নি যে কোরআনের মর্ম বুঝার প্রয়োজন নেই। বরং তার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তাই মর্ম উপলব্ধি করে কোরআন পড়া আরো ভালো, অর্থ বুঝে কোরআন পড়া উত্তম। তবে এর অর্থ এ নয় যে অর্থ না বুঝে পড়লে কোনো লাভ নেই। না বুঝে কোরআন পড়লেও সওয়াব হবে।
,
সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে কোনো গুনাহ নেই।
তবে কুরআন না বুঝে  ভুলভাবে আমল করলে,বা ভুল আকীদা রাখলে গুনাহ হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...