+1 vote
30 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আমি একটি বিষয় সম্পর্কে জানতে চাচ্ছিলাম। যদি দয়া করে উত্তর দিতেন, উপকৃত হতামঃ

আমার এক বন্ধু অনলাইনে একটি কোম্পানিতে কিছু টাকা ইনভেষ্ট করে। ইনভেষ্ট করার নিয়ম হচ্ছে প্রথমে ৭০০ টাকা জমা দিয়ে একটি একাউন্ট খুলতে হবে। তারপর প্রতিদিন কিছু বিজ্ঞাপন আসবে। বিজ্ঞাপনগুলো দেখতে হবে। দেখার পর প্রতিদিন একাউন্টে ১০টাকা করে জমা হবে। এভাবে একজন সর্বোচ্চ ১৩টি একাউন্ট খুলে ইনভেষ্ট করতে পারবে।

আমি জানতে চাই এভাবে প্রাপ্ত লাভ সম্পর্কে ইসলাম কি বলে। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

1 Answer

0 votes
by (23,760 points)
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم

যদি উপরোক্ত বিবরণ অনুপাতেই কার্যক্রম পরিচালিত হয়, আর কোন নাজায়েজ বিষয় এতে সম্পৃক্ত না থাকে, তাহলে এভাবে উক্ত সাইট থেকে টাকা উপার্জন করতে শরয়ী কোন বিধিনিষেধ নেই। জায়েজ আছে। [জামিয়া বিন্নুরিয়া করাচি, পাকিস্তান, ফাতওয়া বিভাগ, ফাতওয়া নং-১০৫০৪]

★ফাতাওয়ায়ে আলমগীরীতে আছে  

وَأَمَّا شَرَائِطُ الصِّحَّةِ فَمِنْهَا رِضَا الْمُتَعَاقِدِينَ. وَمِنْهَا أَنْ يَكُونَ الْمَعْقُودُ عَلَيْهِ وَهُوَ الْمَنْفَعَةُ مَعْلُومًا عِلْمًا يَمْنَعُ الْمُنَازَعَةَ فَإِنْ كَانَ مَجْهُولًا جَهَالَةً مُفْضِيَةً إلَى الْمُنَازَعَةِ يَمْنَعُ صِحَّةَ الْعَقْدِ وَإِلَّا فَلَا. (الفتاوى الهندية، كِتَابُ الْإِجَارَةِ، الْبَابُ الْأَوَّلُ فِي تَفْسِيرِ الْإِجَارَةِ وَرُكْنِهَا الخ-4/411)

যার সারমর্ম হলো মুতায়াকিদাইন (ক্রেতা,বিক্রেতা) উভয়ের সন্তুষ্টি শর্ত।
এবং লাভের অংশ নির্দিষ্ট হতে হবে।   
,
★তবে কেহ কেহ এর বিপরিত মত প্রকাশ করেছেন।

তারা বলছেন যে এখানে যারা যারা বিজ্ঞাপন প্রচারের উদ্দেশ্য টাকা দিয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্য হলো এর দ্বারা সম্ভাব্য ২০.০০০ কাস্টমার আপনার সাইটে আসবে, আপনার ব্যবসা সম্পর্কে জানবে,আপনার পন্য সেবা গ্রহন করবে । 
কিন্তু আপনার বিজ্ঞাপনে যারা যারা ক্লিক করলো, তাদের আপনার বিজনেস সম্পর্কে  কোনো ধারণা, আগ্রহ, বা প্রয়োজন কোনোটাই নাই।
আপনি এতে ক্ষতিগ্রস্থ হলেন।
  এই ক্ষতির জন্য কারা দায়ী?
যারা এডস ক্লিকের কাজ করছে,তারা।
সুতরাং সেই ব্যাক্তির ক্ষতির জন্য আপনিও দায়ী।  
সুতরাং এটা নাজায়েজ । 
,
★★প্রিয় দ্বীনি ভাই,বোন! যেহেতু এক্ষেত্রে জায়েজ ও নাজায়েজ উভয় হুকুম রয়েছে।
উলামাদের মতবিরোধ রয়েছে,সুতরাং যদিও এটার হুকুম এখন হালকা হয়ে যাবে,তাই এই কাজ করে টাকা উপার্জনের সুযোগ থাকলেও সতর্কতামূলক এহেন কাজ করা থেকে বিরত থাকাই উচিত।        

হাদীস শরীফে এসেছে   
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهُ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الْحَلاَلُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ وَبَيْنَ ذَلِكَ أُمُورٌ مُشْتَبِهَاتٌ لاَ يَدْرِي كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ أَمِنَ الْحَلاَلِ هِيَ أَمْ مِنَ الْحَرَامِ فَمَنْ تَرَكَهَا اسْتِبْرَاءً لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ فَقَدْ سَلِمَ وَمَنْ وَاقَعَ شَيْئًا مِنْهَا يُوشِكُ أَنْ يُوَاقِعَ الْحَرَامَ كَمَا أَنَّهُ مَنْ يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى يُوشِكُ أَنْ يُوَاقِعَهُ أَلاَ وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى أَلاَ وَإِنَّ حِمَى اللَّهِ مَحَارِمُهُ " . حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ .
নুমান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ হালালও সুস্পষ্ট, হারামও সুস্পষ্ট এবং এ দুটির মাঝে অনেক সন্দেহজনক বিষয় আছে। তা হালাল হবে না হারাম হবে সেটা অনেকেই জানে না। যে লোক এই সন্দেহজনক বিষয়গুলো নিজের দ্বীন এবং মান-ইজ্জাতের হিফাযাতের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেবে সে নিরাপদ হল। যে লোক এর কিছুতে লিপ্ত হল তার হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ারও সংশয় থেকে গেল। (উদাহরণস্বরূপ) নিষিদ্ধ এলাকার আশেপাশে যে লোক পশু চড়ায়, তার এতে প্রবেশের ভয় আছে। জেনে রাখ! প্রতিটি সরকারেরই কিছু সংরক্ষিত এলাকা থাকে। সাবধান! আল্লাহ্ তা'আলার সংরক্ষিত এলাকা হল তার হারাম করা বিষয়গুলো'।
- সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৯৮৪),বুখারী, মুসলিম
হান্নাদ ওয়াকী হতে, তিনি যাকারিয়্যা ইবনু আবী যাইদা হতে, তিনি শা'বী হতে, তিনি নুমান ইবনু বাশীর হতে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। একাধিক বর্ণনাকারী নুমান (রাঃ)-এর সূত্রে একই বিষয়বস্তু সম্বলিত হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(তিরমিজি ১২০৫) 
,


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...